ভারতের উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জগদীপ ধনখড় । সোমবার তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পদত্যাগপত্র পাঠান। ধনখড় জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল ধনখড় ২০২২ সালে উপরাষ্ট্রপতি হন।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘‘নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে আমি ভারতীয় সংবিধানের ৬৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবিলম্বে ইস্তফা দিচ্ছি।’’
চিঠিতে রাষ্ট্রপতিকে ‘সমর্থনের’ জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন ধনখড়। লিখেছেন, ‘‘আপনার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং চমৎকার।’’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ধনখড়। মোদীর সমর্থনকে ‘অমূল্য’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। চিঠিতে ধনখড় আরও উল্লেখ করেন, ‘‘সবার কাছ থেকে যে ভালবাসা, আস্থা ও আন্তরিকতা পেয়েছি, তা আমায় অভিভূত করেছে।’’
সোমবার সন্ধ্যায় উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জগদীপ ধনখড়। তিনি জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত কারণেই এই পদত্যাগ। চিকিৎসকদের পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বার থেকে স্বাস্থ্যকেই অগ্রাধিকার দেবেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে একটি চিঠি লিখে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন ধনখড়। ওই চিঠিতে তিনি অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ কার্যকর করার অনুরোধ করেছেন।
প্রসঙ্গত গত মাসে কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভাষণ শেষ করে মঞ্চ থেকে নামার পরে জ্ঞান হারিয়েছিলেন ৭৪ বছরের ধনখড়। দর্শকাসনে ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু তথা নৈনিতালের প্রাক্তন সাংসদ মহেন্দ্র সিং পাল। তাঁকে জড়িয়ে ধরে তাঁর কাঁধে মাথা রেখেই অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন উপরাষ্ট্রপতি। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেও জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।
তার পরে উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব স্বাভাবিক ভাবেই সামলাচ্ছিলেন তিনি। এ দিন সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেও রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের আসনে ছিলেন তিনি।
এর আগে গত মার্চ মাসেও বুকে ব্যথা নিয়ে দিল্লি AIIMS হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন উপরাষ্ট্রপতি। মাঝরাতে হঠাৎ শরীরে অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন। তড়িঘড়ি তাঁকে AIIMS-এ ভর্তি করা হয়েছিল। রাখা হয়েছিল ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে। কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান রাজীব নারাঙের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা হয়েছিল তাঁর।
১৯৭৮-৭৯ সালে রাজস্থানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে স্নাতক উত্তীর্ণ হন ধনখড়। আইনজীবী হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ দিন রাজস্থানের হাই কোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টে ওকালতি করেছেন ধনখড়। ১৯৮৯ সালে রাজনীতিতে পা দেন। সেই বছর রাজস্থানের ঝুনঝুনু লোকসভা কেন্দ্র থেকে জনতা দলের প্রার্থী হয়ে লড়েন। জেতেনও। ১৯৯০ সালে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হন। পরে বিধানসভা নির্বাচনেও লড়ে জেতেন। ২০০৩ সালে বিজেপি যোগ দেন।
২০১৯ সালে ধনখড়কে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল করে পাঠায় নরেন্দ্র মোদীর সরকার। তবে রাজ্যপাল থাকাকালীন বাংলার শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে প্রায়ই নানা কারণে সংঘাত বাধত তাঁর। ধনখড়ের জমানায় রাজভবন এবং নবান্ন সংঘাত চরমে উঠেছিল। পরে তাঁকে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করে কেন্দ্র। ২০২২ সাল থেকে সেই দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। সোমবার সেই পদ ছাড়লেন। এখন তাঁর জায়গায় কাকে উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে নানা মহলে।



