
বনগাঁ: ” ইচ্ছেগুলো ভাসিয়েদেখ ইছামতির ধারায় – বইবে সে সব ইছামতির ইচ্ছা অনিচ্ছায়…. বনগাঁ শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা শান্ত -স্নিগ্ধ নদী ইছামতি – কে নিয়ে গান লিখেছেন সঞ্জয় চক্রবর্তী, আর তাতে সুর বসিয়েছেন বিশাখজ্যোতি…. সৃষ্টি হল নতুন গান ৷ সেই গানের রেশ ধরেই বনগাঁ পুরসভার উদ্যোগে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে ইছামতি নদী থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হল বৃহস্পতিবার ।

ইছামতি নদী বনগাঁর মানুষের প্রাণ। আর সেই ইচ্ছামতীর সার্বিক সংস্কারের ভাবনা নিয়েছেন পুরপ্রধান গোপাল শেঠ।।
দূর থেকে দেখলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে সবুজ মাঠ যেন আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে গেছে বহু দূর! কচুরিপানায় ভরা ইছামতি নদী এমনই চেহারা নিয়েছে৷ বনগাঁয় সে নাব্যতা হারিয়েছে বহুদিন আগেই৷৷ মৃতপ্রায় নদী বয়ে চলেছে শহরের বুক চিরে । দেখুন ভিডিও
শেষ কবে জোয়ার-ভাটা খেলে ছিল তা নদী পাড়ের মানুষ ভুলতে বসেছেন ৷ বছরের বেশিরভাগ সময়ই নদী কচুরিপানায় ভরা থাকে৷ বনগাঁয় ইছামতি নদীতে কচুরিপানার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পদক্ষেপ করল বনগাঁ পৌরসভা৷
পুরপ্রধান গোপাল শেঠ জানিয়েছেন নদী কচুরিপানা মুক্ত করতে স্থায়ী পদক্ষেপ করা হচ্ছে৷ ৯১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি বিশেষ আধুনিক যন্ত্র কেনার প্রস্তুতি চলছে তবে তার আগেই ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি বিশেষ যন্ত্র দিয়ে কচুরিপানা কোটে নদী পরিষ্কার করার কাজ শুরু করা হয়েছে ।

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে,বৃহস্পতিবার জেলা শাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী , মহকুমাশাসক উর্মী দে বিশ্বাস, বনগাঁ জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার এবং পুর প্রাধান গোপাল শেঠের উপস্থিতিতে থানার ঘাট এলাকায় কচুরিপানা পরিস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং আগামী দিনে পর্যায়ক্রমে নদীতে জমে থাকা পুরসভা এলাকার কচুরিপানা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করে নদীকে ফের স্রোতস্বিনী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে ৷
পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে নতুন যন্ত্রটি ব্যবহার করে বনগাঁ পুর এলাকা ছাড়াও বাগদা ব্লকের দত্তপুলিয়া পর্যন্ত কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ হবে৷

বনগাঁ মহকুমাশাসক উর্মী দে বিশ্বাস বলেন , জেলা শাসক ও অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকেরা এদিন গাইঘাটা ব্লক ও বনগাঁ এলাকা পরিদর্শন করেছেন । অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্য বহু জায়গায় জল জমে আছে । ত্রাণ শিবিরেও বনহু মানুষ রয়েছেন । এ বিষয়ে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে । পাশাপাশি বনগাঁ পুরসভায় উদ্যোগে ইছামতি নদীর কচুরিপানা কাটার কাজও শুরু করা হয়েছে যাতে জলের চাপ কিছু কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিৎ কুণ্ডু বলেন, এটা শুধু বিভূতি ভূষণের ইছামতি ছিল না,যে তার অবর্তমানে এই নদী শুধু বই-এর পাতায় নাম আর ছবিতে থেকে যাবে৷ এটা আমাদেরও নদী তাকে বাঁচাতে হবে৷ গোপাল বাবুর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই৷ ইছামতি বাঁচলে এই শহর শুধু নয় এই নদীর রেখার দু’পাড়ের অসংখ্য গ্রামের মানুষও নতুন জীবন ফিরে পাবেন৷ জেলেরা ফের মাছের সন্ধ্যানে নৌকা ভাসাবেন৷ যুবক – যুবতীরা সাঁতারে ফের দেশ-বিদেশ থেকে পুরষ্কার পাওয়ার লক্ষ্যে স্বপ্ন দেখবে৷ এক কথায় ইছামতি সংস্কার হলে সবুজ ফিরবে।



