হুমায়ুন স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নেই। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, নেত্রীর নির্দেশও মানছে না মুর্শিদাবাদ জেলা নেতৃত্ব। হুমায়ুনের বক্তব্য, “দল করে প্রমাণ করতে চাই চাষ বলদ দিয়েই হয় , ছাগল দিয়ে না।”
অতীতে একাধিকবার হুমকি দিয়েছিলেন। এবার পৃথক দল তৈরির পথেই হাঁটতে চলেছেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ।
ঘোষণা করলেন, ১৫ অগস্টের পর গড়বেন নতুন রাজনৈতিক দল । নিশানায় মুর্শিদাবাদ জেলা নেতৃত্ব। অভিযোগ, জেলা নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অমান্য করছে। তারই জেরে তাঁর এই নতুন দল গড়ার সিদ্ধান্ত।
একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীরের হুঁশিয়ারি, “দল করে প্রমাণ করতে চাই, চাষ বলদ দিয়েই হয়, ছাগল দিয়ে না।” নাম না করে জেলা নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে বলেন, “বলদের পক্ষে লোক রয়েছে, না ছাগলের পক্ষে লোক রয়েছে, সেটা এবার চোখে দেখানো দরকার।”
বছর ঘুরলেই রাজ্যের বিধানসভা ভোট। তার আগে হুমায়ুনের নতুন দল গঠন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ছড়িয়েছে। হুমায়ুন জানিয়েছেন, তাঁর নতুন দল শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রীক হবে না। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও নদিয়ার কিছু অংশ মিলিয়ে ৫০-৫২টি আসনে প্রার্থী দিতে চলেছে তাঁর দল।
তবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নেই বলেই দাবি হুমায়ুনের। স্পষ্ট বলেন, “ক্ষমতায় আসবেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীই হবেন আগামী মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ছাগল দিয়ে ধান মাড়িয়ে যোগ্য ভোটারদের অপমান করা হচ্ছে। সেই অপমান বন্ধ করতেই আমার এই উদ্যোগ।”
তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক কি তবে ভাঙার মুখে? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে। তবে হুমায়ুনের বক্তব্য, তিনি নেত্রীকে ‘সতর্ক’ করতেই এই দল গঠন করছেন।
তাহলে কি লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক ভাঙতে চাইছেন?
হুমায়ুনের স্পষ্ট বক্তব্য, “ক্ষমতায় আসবেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রীই। নেত্রীই চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কিন্তু আমি নেত্রীকে এটা অবগত করার জন্য দলটা করব, যে আমার মতো লোকের দরকার হয়তো হবে না, কিন্তু ছাগল দিয়ে যে ধান মাড়া হচ্ছে, তাতে যোগ্য ভোটার সম্মান পাচ্ছেন না। যোগ্য ভোটাররা যাতে সম্মান পান, তারই ব্যবস্থা করব।”
বিশ্লেষকদের বক্তব্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুনের কথায় এটা অন্তত স্পষ্ট, তৃণমূলের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ভোটব্যাঙ্ক এলাকাগুলিতেই লড়াই করবেন হুমায়ুন। উল্লেখ্য, এর আগে, বিজেপির টিকিট নিয়ে আড়াই লক্ষ ভোট পেয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে। হুমায়ুন তার ভিত্তিতে মানুষের জনসংযোগ নিয়ে একটি সার্ভে করেছেন। তার ওপর দাঁড়িয়েই নতুন দল গড়ার চিন্তাভাবনা করছেন তিনি।
সম্প্রতি একাধিকবার প্রকাশ্যে দল বিরোধী মন্তব্য করার অভিযোগে সাসপেন্ডের মুখে পড়েছিলেন হুমায়ুন। বারেবারে তাকে সর্তক করার পরও হুমায়ুন অবশ্য নিজের রণংদেহী মেজাজ থেকে বিশেষ সরেননি। এখন দেখার, হুমায়ুনের এই হুঁশিয়ারি সামনে আসার পর দল কোনও পদক্ষেপ করে কিনা।



