প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

হড়পা বান নেমে বিধ্বস্ত নেপাল! জলের তোড়ে ভেসে গেল একাধিক গ্রাম , সেতু , নিখোঁজ প্রায় ১০০০! জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র

deshersamay

Share article:

তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে নিশ্চিহ্ন একাধিক গ্রাম। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ আচমকা ফুলে-ফেঁপে ওঠে ভোতে কোশি নদী। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় কয়েকটি গ্রাম এবং বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের এলাকা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০০ জন হড়পা বানে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন। যদিও এই সংখ্যা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে বা নিখোঁজ, তা স্পষ্ট নয়।

রাসুয়া জেলার স্যাপ্রুবেশি ও তিমুরে এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তিব্বত সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এই অঞ্চলে প্রবল জলস্রোতে বাড়িঘর, গ্রাম এবং বিভিন্ন প্রকল্পের জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ এবং উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।

কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিমি দূরে অবস্থিত রাসুয়ায় আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষের বাস। তিব্বত থেকে নেপালে প্রবেশ করে এই জেলা দিয়েই বয়ে গিয়েছে ভোতেকোশি নদী। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ আচমকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমান, তিব্বতের দিক থেকে প্রবেশ করেছে বন্যার জল। প্রাথমিক ভাবে খবর, চিন সীমান্তবর্তী তিমুরে এবং সিয়াব্রুবেসি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপাল প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য, তিব্বতের দিক থেকে আসা ভোতে কোশি নদীতে আচমকা জলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় নিম্নবর্তী এলাকাগুলিতে হড়পা বান নেমে আসে। ভোতে কোশির জল শেষ পর্যন্ত ত্রিশূলী নদীর অববাহিকাতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সতর্ক করা হয়এছে নুওয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান ও গোরখা-সহ ত্রিশূলী নদীর অববাহিকার একাধিক জেলার বাসিন্দাদের। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে নদীর কাছাকাছি না গিয়ে নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। নতুন করে জলস্তর বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু হয়েছে। দ্রুতগতির জলস্রোতে বহু মানুষ ভেসে গিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করে তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং একাধিক জায়গায় পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব পেতে সময় লাগতে পারে।

প্রায় ১০০০ জন ভেসে গিয়েছেন বলে যে তথ্য সামনে এসেছে, সেটি এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয়। উদ্ধারকারী দল দুর্গম এলাকাগুলিতে পৌঁছনোর পরই প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তবে পাহাড়ি এলাকার দুর্গম পথ এবং একাধিক জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দলকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ফলে বর্তমানে কী পরিস্থিতি, তা স্পষ্ট নয়।

প্রকাশ্যে আসা বিভিন্ন ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, প্রবল তোড়ে কাদামাটি মেশা জল ঢুকছে নদীতে। সেই জলের তোড়ে ভেঙে পড়ছে বাড়ি। বেশ কিছু ভিডিয়োয় গাড়ি ভেসে যেতেও দেখা যাচ্ছে। নেপাল সেনা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বন্যায় তিমুরে এবং সিয়াব্রুবেসি এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। রাসুয়ার শুল্ক বিভাগের আধিকারিক রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, অফিস চত্বরের ভিতরে রাখা বেশ কিছু গাড়ি ভেসে গিয়েছে জলের তোড়ে। সেখানে একটি সেতু তৈরি করা হয়েছিল। সেটিও ভেঙে গিয়েছে বলে জানান তিনি।
 

এদিকে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিষদের সেই বৈঠকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অসীম শাহ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জেলাশাসকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন বালেন শাহ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতির উপরও নিয়মিত নজর রাখছেন তিনি।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন