হাসিনার প্রত্যাবর্তনের কাউন্টডাউন শুরু, নেত্রীর দিল্লির বৈঠকে রবিবার ঢাকায় লকডাউনের সিদ্ধান্ত, ডিসেম্বরের আগে তারেক সরকারকে অচল করার প্রস্তুতি
deshersamay

আগামীকাল রবিবার রাজধানী ঢাকায় লকডাউনের ডাক দিলেন শেখ হাসিনা। শুক্রবার রাতে দিল্লিতে আওয়ামী লিগের বিশ্ব নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানান দলনেত্রী।
বাংলাদেশের সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি শুক্রবার ও শনিবার। রবি থেকে বৃহস্পতি হল পূর্ণাঙ্গ কাজের দিন। প্রথম দিনটি আওয়ামী লিগ লকডাউন পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের নেতা কর্মীদের গণহারে গ্রেফতারের প্রতিবাদ, শেখ হাসিনাসহ পার্টির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা ও সাজা প্রত্যাহারের দাবিতে এই কর্মসূচি।
ডিসেম্বরের তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কথা আগেই ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লিগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার রাতে দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দলনেত্রীর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আগে তীব্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের সরকারকে অচল, অথর্ব করে দেওয়া হবে।
বৈঠকে শেখ হাসিনার পাশাপাশি একাধিক নেতা বলেন, দেশে এখন যা পরিস্থিতি তাতে সেনা-পুলিশ দিয়ে মানুষকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। আওয়ামী লিগের পাশাপাশি শাসক দল বিএনপি সহ অন্য দলগুলির সমর্থক সাধারণ মানুষও দেশের চলমান পরিস্থিতিতে তিতিবিরক্ত। তারা পরিবর্তন চাইছে। আওয়ামী লিগ নেতারা মনে করছেন, দেশে ঘুরে দাঁড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়। মানসিকভাবে দেশবাসী আওয়ামী লিগকে ময়দানে ফিরে পেতে মরিয়া।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগে আওয়ামী লিগ ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে। আন্দোলনের জেরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যাতে ধৃতদের চাপে জেল উপচে পড়ে। সরকার অস্থায়ী জেল বানাতে বাধ্য হয়।
এক নেতার কথায় আগামী আন্দোলনগুলির মূল উদ্দেশ্য হবে তারেক রহমানের সরকারকে অচল, অথর্ব করে তোলা। ওই নেতার কথায় প্রশাসনের অন্দরে যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে তাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া মোটেই অসম্ভব নয়। এখনই বহু জায়গায় পুলিশ-প্রশাসন সরকারের বেআইনি নির্দেশ উপেক্ষা করছে বলে জানান একাধিক নেতা।

রান্নার গ্যাস, সিএনজি, বিদ্যুতের নজিরবিহীন সংকট, জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দাম এবং আইনশৃংখলার চরম অবনতিতে সেনাবাহিনীর একাংশের মধ্যেও বিবেক দংশন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বহু নেতা। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে সংঘাতে নামার পক্ষে একাধিক নেতা। তবে আইন ও কৌশলগত কারণে সংঘাত মূলক কর্মসূচি সরকারিভাবে দলের তরফের ঘোষণা নাও করা হতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে নেতারা ঘোষণা দেবেন।
ইতিমধ্যেই দলের বর্ষীয়ান নেতা মুক্তিযোদ্ধা ও বীর বিক্রম উপাধি প্রাপ্ত মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ঘোষণা করেছেন, দেশে ফিরে তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা ও দলের কর্মী সমর্থকদের উপর আক্রমণের বদলা নেবেন।
তারেক রহমানের সরকারকে অচল করার লক্ষ্যে প্রথম কর্মসূচি পালিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল রবিবার। বাংলাদেশের রবিবার সরকারি ছুটি নয়। অফিস কাছারি ব্যবসা-বাণিজ্য স্কুল কলেজ সচল থাকে। আওয়ামী লিগ আগামীকাল রাজধানী ঢাকায় লকডাউন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। দলের অঙ্গ সংগঠন যুবলিগ আগেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। হাসিনার শুক্রবারের দিল্লির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে গোটা আওয়ামী লিগ পরিবার এই কর্মসূচি সফল করতে রবিবার পথে নামবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে জেলাওয়ারি এবং জাতীয় পর্যায়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে দল।
লকডাউন আসলে বনধ বা ধর্মঘটের সমতুল কর্মসূচি। জনজীবন অচল রাখতে রাজধানীর বাসিন্দাদের আহ্বান জানানো হয়েছে। আওয়ামী লিগের তরফে বলা হয়েছে, ‘খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার অবৈধ ও অসাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রহসনমূলক বিচার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। আধুনিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসনের প্রতি তোয়াক্কা না করে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালসহ বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে একের পর এক রায় প্রদান করছে। যা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সম্প্রতি এমনই একটি প্রতিশোধমূলক রায় প্রদান করেছে এই অবৈধ ও অসাংবিধানিক ট্রাইব্যুনাল। অবৈধ ও অসাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের এই রায় প্রত্যাখ্যান করে এবং সকল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে রবিবার রাজধানী ঢাকা শহরে ‘লক ডাউন’ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলিগ। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলিগের এই ‘লক ডাউন’ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ। একই সঙ্গে এই কর্মসূচি সফল ও সার্থক করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ তার এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের সকল স্তরের নেতাকর্মীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।’
