হিয়া রায় কলকাতা

ইতিমধ্যে উত্তাল সমুদ্র। বাংলা থেকে আর ঠিক কতদূরে রয়েছে ওনামের নামকরণ করা ঝড়?

দেশের সময় : অবশেষে বঙ্গোপসাগরের সীমানা ছাড়িয়ে দুই বাংলার উপকূল ছুঁয়ে আছড়ে পড়তে শুরু করল ঘূর্ণিঝড় রেমাল। আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে, রাত ৯টা থেকে আগামী চার ঘণ্টা এই প্রক্রিয়া জারি থাকবে। অর্থাৎ দ্রুতবেগে স্থলভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাবে অতি তীব্র এই ঘূর্ণিঝড়।

ল্যান্ডফল শুরু
রেমালের ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে ঢুকতে শুরু করে দিয়েছে। আগামী ৪ ঘণ্টা ধরে এই প্রক্রিয়া চলবে। ঘূর্ণিঝড়ের যে পরিধি তা কয়েকশো কিলোমিটার হয়। সামনের দিকটা স্থলভাগে ঢুকতে শুরু করে দিয়েছে। আগামী চার ঘণ্টায় প্রথমে ঘূর্ণিঝড়ের ‘হেড’, তারপর ‘সেন্টার’ ও তারপর ‘টেল’ প্রবেশ করবে। সাড়ে ৯টা থেকে যদি ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু বলে ধরা হয়, তাহলে রাত দেড়টা পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে।

এখানেই সবথেকে বড় আশঙ্কা। নদীতে জলস্তর বাড়তে শুরু করে দিয়েছে। ভরা কটাল। রাত ১১টার সময় সাগরদ্বীপে ভরা কটাল থাকবে। তার আগে বাড়বে জলস্তর। জোড়া ফলায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও বেশি। ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিমি বেগে দমকা বাতাস বইবে উপকূলে। আগামী ৬ ঘণ্টা উপকূলে তাণ্ডব।

টাস্ক ফোর্স রাজভবনের
রাজভবন টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। কন্ট্রোল রুম খুলেছে। রাজ্যপাল-সহ সিনিয়র আধিকারিকদের সারা রাত পাওয়া যাবে। সাধারণের জন্য রাজভবন খোলা থাকবে। চিফ মেডিক্যাল অফিসার থাকছেন এবং দুটি অ্যাম্বুলেন্স রেডি থাকছে।

এখন কোথায় রেমাল?
আবহাওয়া দফতরের রাত সওয়া ৮টার পূর্বাভাস বলছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে উত্তর দিকে এগোচ্ছে রেমাল। রেমাল এখন পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে। ক্যানিংয়ের ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে রেমাল। বাংলাদেশের মোংলা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে রয়েছে। বাংলাদেশের খেপুপাড়ার ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে।

রেমালের প্রভাব কোথায় কোথায় পড়বে?
এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু জায়গায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। জারি কমলা সতর্কতা। সেখানে ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা। পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমানে জারি কমলা সতর্কতা। সোমবার নদিয়া, মুর্শিদাবাদে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে জারি লাল সতর্কতা। কলকাতা, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা, হুগলি, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাতেও ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি।

কী বলছে হাওয়া অফিস?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের উপ অধিকর্তা সোমনাথ দত্ত জানান, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রবিবার রাতে ঝড়ের গতিবেগ পৌঁছতে পারে ১০০-১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত। অন্য দিকে, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ঝড়ের গতি থাকবে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। তবে তা বেড়ে ৯০ কিলেমিটারও হতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানে ঝড়ের গতি ৬০-৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। তবে এই গতি বেড়ে ৮০ কিলেমিটারও হতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতেও ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।

নয়াদিল্লির মৌসম ভবন জানিয়েছে, আজ রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ‘ল্যান্ডফল’ শুরু হবে রেমালের। তার দাপটে উত্তাল হয়ে উঠবে আবহাওয়া। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে দক্ষিণ গাঙ্গেয়বঙ্গের দুই মেদিনীপুর, দুই চব্বিশ পরগণা, হাওড়া, হুগলি ও কলকাতায়।
মধ্যরাতের দিকে দুই চব্বিশ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর ও কলকাতায় অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। ফলে এখন থেকেই কলকাতার নিচু এলাকায়, যেখানে জল জমার সমস্যা আছে, সেখানকার বাসিন্দারা চিন্তায়।

বাংলাদেশের ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি করেছে সেদেশের আবহাওয়া অধিদফতর। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ফেনি, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি রয়েছে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here