Cyclone Arnab: উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ল ভয়াবহ রূপ ,শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলো ‘অর্ণব’, ল্যান্ডফল কোথায়, কবে? রইল আপডেট
deshersamay


পরিষ্কার নীল রোদ ঝলমলে আকাশ। মাঝেমধ্যেই ঠান্ডা হাওয়া বইছে। রাতের দিকে কিংবা ভোরে বাতাসে হালকা শীতের আমেজ। বাংলায় এখন পুরোপুরি হেমন্তের পরিবেশ। তবে, মনোরম এই আবহাওয়া হয়তো দীর্ঘস্থায়ী হবে না। নেপথ্যে ‘খলনায়ক’ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ‘অতি প্রবল’ এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সামনের কয়েকদিন ভালোই দুর্যোগ পোহাতে হতে পারে বাংলাকে।

বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ অবশেষে ঘূর্ণিঝড়
পরিণত হয়েছে। ইসরোর উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, প্রবল গতিতে চক্রাকারে ঘুরতে থাকা ঘন মেঘ ঘূর্ণি তৈরি করে প্রবল শক্তি সঞ্চয় করছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আইএমডি (IMD) অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ বা লাল সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়াবিদদের হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার ঘণ্টা বেগে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে এই ঝোড়ো ব্যবস্থাটি অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে বাপাটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী ইয়ানাম উপকূলে আছড়ে পড়তে (Landfall) পারে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ার সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে এই সিস্টেমটি ওড়িশার গোপালপুর থেকে প্রায় ৬১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ৬৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে।

ঘূর্ণিঝড়টির পরোক্ষ প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগর চরম উত্তাল হতে শুরু করবে। সমুদ্র ‘অতি উত্তাল’ হয়ে ওঠার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। যে সমস্ত মৎস্যজীবী ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত সোমবারের মধ্যেই নিরাপদে তীরে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাব পরিলক্ষিত হবে বাংলার মূল ভূখণ্ডেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টা ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এছাড়া কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবার উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার থেকেই আবহাওয়া পরিবর্তিত হবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে শুক্রবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, এবং শনিবার উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর সহ উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলির নামকরণের আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে বাংলাদেশ এই ‘অর্ণব’ নাম দিয়েছে।

২০২০ সালের এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO) এবং ইউনেস্কোর অধীনস্থ এসক্যাপ (ESCAP) প্যানেল অনুমোদিত ১৬৯টি ঘূর্ণিঝড়ের যে তালিকা প্রকাশ করেছিল, এটি সেখান থেকেই ব্যবহৃত হচ্ছে।

ওই তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা সহ মোট ১৩টি সদস্য দেশের দেওয়া ১৩টি করে নাম রয়েছে। সাধারণ বাংলায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সাগর বা সমুদ্র হলেও, আবহাওয়াবিদদের মতে একাধিক ঘূর্ণিঝড় একসঙ্গে তৈরি হলে তাদের সহজে চিহ্নিত করতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতেই এভাবে পর্যায়ক্রমে নাম দেওয়া হয়।

