চিকিৎসক স্ত্রীকে ডাক্তারি বিদ্যা খাটিয়ে গলা কেটে হত্যা, জাবজ্জীবন কারাদন্ডের নির্দেশ দিল বনগাঁ আদালত
deshersamay

দেশের সময় : বাগদা থানার আমডোব এলাকার বাসিন্দা চিকিৎসক অরিন্দম বালা তাঁর স্ত্রী রত্নোত্তমা দে-কে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। বনগাঁ মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক কুমকুম সিনহা বৃহস্পতিবার এই মামলায় রায় ঘোষণা করে অভিযুক্ত চিকিৎসককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে অতিরিক্ত তিন বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।

২০২৩ সালের ২০ আগস্ট রাতে অরিন্দম বালা তাঁর স্ত্রী রত্নোত্তমা দে-কে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গভীর ঘুমের মধ্যে ফেলে। এরপর অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা পেশায় ব্যবহৃত অস্ত্রোপচারের যন্ত্র দিয়ে তাঁর গলার শিরা কেটে হত্যা করে। ঘটনাটি ঘটার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ ২ বছর ১১ মাসের বিচার প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে আদালত রায় ঘোষণা করল।

আইনজীবী সঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত ছিল। চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে অরিন্দম বালা তার পেশাগত জ্ঞান ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এই জঘন্য অপরাধটি সংঘটিত করেছে। আমরা চেয়েছিলাম, দোষীর ফাঁসি হোক। কিন্তু বিচারক শেষপর্যন্ত যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন।’

রায় ঘোষণার পর মৃত রত্নোত্তমা দে-র মা মনীষা দে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা সারাজীবন ভুলতে পারব না। চিকিৎসক হয়েও অরিন্দম যেভাবে নিজের স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, তাতে এই সাজা তার প্রাপ্য ছিল। এই রায় হয়তো অন্যদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি করবে এবং কেউ যাতে এমন অপরাধ করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবে।” তিনি আরও জানান, বিচার চলাকালীন তাঁদের পরিবারের উপর নানা ধরনের চাপ এসেছে, কিন্তু মেয়ের বিচারের জন্য তাঁরা সাহসের সঙ্গে আদালতে হাজির থেকেছেন এবং অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

রত্নোত্তমা দে-র বাবা ড. রাজীবকুমার দে বলেন, “চিকিৎসক পাত্র দেখে আমরা মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। কখনো ভাবতে পারিনি যে তার হাতেই আমার মেয়ের জীবন এভাবে অকালে শেষ হয়ে যাবে। সে চিকিৎসাবিদ্যাকে ভয়ংকর খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। মেয়েকে আর ফিরে পাব না, তবে তার আত্মার শান্তি কামনা করি।”

এই ঘটনা সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। একজন চিকিৎসকের দ্বারা এমন নৃশংস স্ত্রীহত্যা চিকিৎসক সমাজসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও বেদনার সঞ্চার করেছে। আদালতের এই রায়কে অনেকেই সঠিক ও যথাযথ বলে মনে করছেন। তবে দে পরিবারের লড়াই এখানেই থেমে থাকবে না। সাজাপ্রাপ্ত হয়তো এরপর হাইকোর্টে যাবে। মেয়ের বিচার পেয়ে তখন সেখানেও ছুটতে হবে অসহায় এই বৃদ্ধ–বৃদ্ধার।
