বনগাঁ শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লি বন্ধ! শবদেহ নিয়ে ছুটছেন নবদ্বীপ- কলকাতায় ,হাবরা-শ্মশানে শ্রীঘ্র চালু হবে ইলেকট্রিক চুল্লি
deshersamay
প্রায় এক মাস বন্ধ বনগাঁ শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লি । ভ্রূক্ষেপ নেই প্রশাসনের ! উত্তর খুঁজছেন সাধারণ মানুষ । খোঁজ নিল দেশের সময় ।

শহরের একমাত্র শ্মশানটি স্থানীয় খয়রামারি এলাকায় ইছামতী নদীর ধারে। ২০১০ সালের পুরভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল-কংগ্রেস জোট। চেয়ারম্যান হন তৃণমূলের জ্যোৎস্না আঢ্য। পুরসভা সূত্রে জানা গেছে,ওই সময়ের বনগাঁর তৃণমূল বিধায়ক গোপাল শেঠ ও সাংসদ গোবিন্দচন্দ্র নস্করের বিধায়ক ও সাংসদ তহবিলের টাকায় শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লির কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। শিলান্যাস করেন তত্কালীন কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী সৌগত রায়। গোপালবাবু দেন ৪০ লক্ষ টাকা। সাংসদ দেন ৩৫ লক্ষ।। রাজ্যের পুর দফতর দিয়েছে ৮০ লক্ষ টাকা।

সেই সময় বৈদ্যুতিক চুল্লি বসাতে পুরসভার তহবিল থেকে খরচ হয় ৩ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। শ্মশানটির নাম দেওয়া হয় প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত ভূপেন্দ্রনাথ শেঠের নামে। শুধু মাত্র শহরেই নয়, গোটা মহকুমাতেই বৈদ্যুতিক চুল্লি ছিল না।

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, যান্রিক গোলযোগের কারণেস ম্প্রতি সেই বৈদ্যুতিক চুল্লি প্রায় এক মাস বন্ধ হয়ে পড়ে আছে । এত দিন বৈদ্যুতিক চুল্লি বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ । মহকুমার বহু মানুষদেরকে হালিশহর, নবদ্বীপ বা কলকাতায় শবদেহ নিয়ে যেতে হচ্ছে সত্কারের কাজে। তাতে পরিবহণ খরচ যেমন হচ্ছে, সময়ও বেশি লাগছে।

’’ এক বাসিন্দাদের কথায়, ‘‘হাসপাতালের মর্গে থাকা দীর্ঘদিনের পচা গলা শবদেহ পোড়ানোর সময়ে সব থেকে বেশি দূর্গন্ধ বেরোয়। বৈদ্যুতিক চুল্লি বন্ধ থাকায় সেই সমস্যা আরও বেড়েছে । পাশাপাশি পুরানো পদ্ধতিতে কাঠে সত্কার করে বজ্র পদার্থ ইছামতির জলে ফেলে দেওয়ায় দুষণ বাড়ছে নদীর জলে ,শ্মশানের নোংরা আবর্জনা কচুরি পানায় আটকে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে নদী পাড়ে ।
কেন এমন দশা বনগাঁ শ্মশানের ?
পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার বলেন, রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া ও রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-এর তত্ত্বাবধানে বনগাঁ শ্মশানের সংস্কারের কাজ শুরু হবে । তবে আপাতত পুরসভার সহযোগিতায় এই মুহুর্তে যাতে বৈদ্যুতিক চুল্লিটি চালু করা যায় তার ব্যবস্থা করা হয়েছে ।

অন্যদিকে,হাবরা-অশোকনগরের মাঝের শ্মশানে চালু হবে ইলেকট্রিক চুল্লি
অবশেষে চালু হতে চলেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবরার মুক্তিধাম শ্মশানের ইলেকট্রিক চুল্লি। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখে গিয়েছেন হাবরার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল-সহ অন্য কর্তা, ব্যক্তিরা।
সূত্রের খবর, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে অগস্ট মাসেই চালু হতে পারে নতুন এই ইলেকট্রিক চুল্লি। এর পাশাপাশি, শ্মশান চত্বরে একাধিক উন্নয়নমূল কাজের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রশাসনের।
উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা স্টেশন রোডের কাছে অবস্থিত এই মুক্তিধাম শ্মশান। হাবরা এবং অশোকনগরের বহু মানুষ এই শ্মশানে মৃতদেহ সৎকারের জন্য আসেন। এতদিন পর্যন্ত এই শ্মশানে কাঠের চুল্লিতেই মৃতদেহ দাহ করা হতো। দীর্ঘদিন ধরেই অশোকনগর, হাবরা দুই এলাকার মানুষেরই দাবি ছিল একটি ইলেকট্রিক চুল্লির। কারণ তা ছিল না। অনেকটাই দূরে মৃতদেহ নিয়ে যেতে হতো পরিবারকে। অবশেষে, সেই দাবিই পূরণ হতে চলেছে। এই শ্মশান অশোকনগর, হাবরার মাঝে হওয়ার জন্য দুই এলাকার মানুষই উপকৃত হবেন।

শুধুই চুল্লি নয়। সূত্রের খবর, মুক্তিধাম শ্মশানের পরিকাঠামোগত উন্নয়নেরর ভাবনাও রয়েছে প্রশাসনের। যেমন, মৃতের পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা করার জন্য শেড নির্মাণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, শ্মশান চত্বরটি আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এ বিষয়ে হাবরার বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল জানান, বহু বছর ধরে এই প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ বার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী অগস্ট মাসেই এই নতুন ইলেকট্রিক চুল্লিটি চালু হতে পারে।

দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের একাংশের মতে, ইলেকট্রিক চুল্লি চালু হলে দাহকাজ আরও দ্রুত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হবে। পাশাপাশি, পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলে পরিষেবাও উন্নত হবে বলে মনে করেন তাঁরা।
তবে, নতুন ইলেকট্রিক চুল্লি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী নিয়মাবলি মেনে চলা হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। মৃতদেহ দাহ করতে কত খরচ হবে তাও এখনও ধার্য করা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। উদ্বোধনের পরে সমস্ত নিয়ম জানা যাবে বলেই অনুমান।
