Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

BJP Newsবিধানসভা কক্ষে তুমুল অশান্তি ! ‘ওরা চেয়েছিল হাতাহাতি করি, আমি ট্রাউজারে হাত ঢুকিয়ে রেখেছিলাম’: শুভেন্দু

deshersamay

Share article:

বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, দীপক বর্মন, মনোজ ওঁরাওকে এই অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করেন স্পিকার। বিজেপি বিধায়করা যখন বাইরে বেরিয়ে গাড়ি বারান্দায় ধরনা বসেছিলেন, তখন শুভেন্দু  একাই অধিবেশন কক্ষে স্পিকারের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার কেন বিজেপি বিধায়কদের  বক্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে সেই নিয়ে সোমবার তুমুল বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। যে কারণে অগ্নিমিত্রা পল, মনোজ ওঁরাও, দীপক বর্মন, শংকর ঘোষকে পুরো অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়া হল। মার্শালের সঙ্গে প্রায় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ায় মনোজ ওঁরাওকে পাঁজাকোলা করে বিধানসভায় থেকে বের করলেন মার্শাল।

ঘটনা হল বৃহস্পতিবার একটি বিলের উপর আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন বিজেপির বিধায়করা। মন্ত্রীর জবাব না শুনে বিজেপি বিধায়করা বেরিয়ে যাওয়ায়  তাদের বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ।

সোমবার বিধানসভার শুরুতেই এই বিষয়ে পয়েন্ট অফ অর্ডার তোলেন অশোক লাহিড়ি। তিনি বলেন কোন আইনে তাঁর বক্তব্য বাদ দেওয়া হল, তা অধ্যক্ষকে জানাতে হবে। জবাব দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, এরপরই শুরু হয়ে যায় তুমুল বিক্ষোভ।

এরপর মার্শাল ডেকে চলতি অধিবেশন থেকে চার চারজন বিজেপি বিধায়ককে বের করে দেওয়া হয়। কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে, এই প্রতিবাদে বিধানসভার বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। 

বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “বিধানসভার ভিতরে অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এর আগে মনোজ টিগ্গা, দেবলীনা হেব্রম, আব্দুল মান্নানদের মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আবারও আমাদের হাসপাতালে পাঠাতে চায়। মার্শাল দিয়ে আমাদের উপর আক্রমণ করা হল! বাংলার এই অপশাসন থেকে যদি মুক্তি না দিতে পারি, আমরাও বিজেপি কর্মী না।”

অন্যদিকে বিধানসভার মার্শাল ও কর্মীদেরও পাল্টা অভিযোগ বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরাও আহত হয়েছেন। বস্তুত, লবিতে অনেককেই দেখা গিয়েছে যাঁরা হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে রয়েছেন।

ঘটনা হল, যখন বিজেপি বিধায়কদের বের করে দেওয়া হচ্ছিল, তখন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কক্ষে ছিলেন না। তিনি পরে বিজেপি বিধায়কদের কাছে সবটা শোনেন। তারপর তিনি বিধায়কদের ভাঙা চশমা, ঘড়ি নিয়ে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জানান।

সেই সময় অধ্যক্ষের সঙ্গে তুমুল তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন বিরোধী দলনেতা। ওয়েলে নেমে স্লোগান শাউটিং করতে থাকেন বিজেপি বিধায়করা। অধ্যক্ষ শুভেন্দুকে বলেন নিজের আসনে গিয়েছে বসতে। কিন্তু তিনি সেকথা না শুনেই নিজের কথা বলতে থাকেন। কিছুক্ষণ এভাবে চলার পর বিজেপি বিধায়করা বিধানসভা থেকে ওয়াক আউট করে বেরিয়ে যান। বাইরে বেরিয়ে ‘চুপ বিধানসভা চলছে’ পোস্টার হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।

পরিস্থিতি কিছুটা থীতু হলে শুভেন্দু অধিকারী বেরিয়ে এসে বলেন, “আমরা স্পিকারের টেবিলের সামনে শঙ্কর ঘোষের চশমা, শান্তনু প্রামাণিকের চশমা ও সুব্রত মৈত্রের ঘড়ি প্রামাণ্যস্বরূপ রেখেছি। স্পিকারে আমাকে প্রথমে বললেন বেরিয়ে যান। তারপর নিরাপত্তারক্ষী ডেকে বলছেন, ওকে বার করে দাও। সিকিউরিটি মার্শাল আমাকে গোল করে ঘেরে। ২০ জন মহিলা সিকিউরিটি দিয়ে সার্কেল করে রাখা হয়। ওরা চেয়েছিল আমি মহিলা নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে হাতাহাতি করি। কিন্তু আমি আমার দুটো হাত ট্রাউজারের পকেটে ঢুকিয়ে রাখি। আমি ঠিক করেই রেখেছিলাম, আমি হাত বার করব না। আমি চাই, যাতে ধাক্কা মেরে জোর করে আমাকে বার করতে হবে। ১৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে ধরনা চালিয়েছিলাম।”
শুভেন্দুর দাবি, “স্পিকারকে বলেছি, কেবল মাইক ভাঙার জন্য বিজেপি বিধায়কদের বিচার করবেন, এটা হতে পারে না। তাঁকে ঘোষণা করতে হবে, বিজেপি বিধায়কদের শারীরিক নিগ্রহ, চশমা, ঘড়ি-সব কিছুর বিচার করবেন। পরে স্পিকার বাধ্য হয়ে ঘোষণা করেন, সব পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। খতিয়ে দেখে বিচার করবেন।” শীতকালীন অধিবেশনও আবার তাঁরা সোচ্চার হবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

বিধানসভায় অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, “আজকের ঝামেলায় ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকেও চশমা ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ জানানো হয়েছে। আমি সমস্ত বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।” 

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন