Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

Birbhum Violence: অগ্নিগর্ভ রামপুরহাট: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সুকান্তের, পুড়ে যাওয়া দেহগুলো দেখে মহিলা-পুরুষ চিনতে পারছে না দমকল! কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চাইছেন শুভেন্দু

deshersamay

Share article:

গ্রাম জুড়ে শোকের আবহ। জোড়া ক্ষতের জ্বালা সহ্য করতে হচ্ছে বীরভূম জেলার রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের বাসিন্দাদের। ছোটখাটো অশান্তি আগেও ঘটেছে গ্রামে। হয়েছে রক্তপাতও। কিন্ত সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে সোমবার রাতের বীভৎসতা। এমন ভয়াবহ দৃশ্য আগে দেখেননি বগটুইয়ের গ্রামের বাসিন্দারা।

দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ অগ্নিগর্ভ রামপুরহাট নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিল রাজ্য বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘এই রাজ্য ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগোচ্ছে।’’ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবিলম্বে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

সোমবার রামপুরহাটে একটি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখকে খুনের ঘটনা ঘটে। তার পর গোটা রাত ধরে এলাকায় তাণ্ডব চলে। আগুন লাগানো হয় একের পর এক বাড়িতে। দমকলের দাবি, সোমবার তিন জন এবং মঙ্গলবার সকালে একটি বাড়ি থেকে সাত জনের ঝলসানো মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।

এই ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কিন্তু তাতে খুশি নয় বিরোধীরা। ঘটনার দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছে বিজেপি। সুকান্ত বলেন, ‘‘রাজ্য জুড়ে অরাজকতার শাসন চলছে। মুখ্যমন্ত্রী, যিনি পুলিশমন্ত্রীও বটে, বিন্দুমাত্র লজ্জা থাকলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। ১০ জনকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হল। আর কথায় কথায় গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ দেখায় তৃণমূল! এই ব্যর্থতা মুখ্যমন্ত্রীর। আমার বার বার মনে হচ্ছে, এই রাজ্য ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগোচ্ছে।’’

রাজ্যের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অবিলম্বে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তাঁর দফতর ও রাজ্যপালকে ট্যাগ করে করা টুইটে তাঁর অভিযোগ, মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর প্রয়াস ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে বলে দাবি শুভেন্দুর।

তৃণমূলের মুখপাত্র তথা রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ অবশ্য আগুন লেগে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির যোগ মানতে চাননি। তিনি টুইট করে ঘটনাটিকে স্থানীয় গ্রাম্য বিবাদ বলে দাবি করেছেন।

রামপুরহাটের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালবীয়। তাঁর দাবি, সোমবার তৃণমূল নেতা ভাদু শেখের মৃত্যুর এক ঘণ্টার মধ্যে সাত আটটি বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। এখনও পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির যোগ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেই জানিয়েছেন ডিজি। ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য তাঁরা।

রাজ্য পুলিশের ডিজি বলেন, ‘‘এই ঘটনায় একই বাড়ির সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আরও এক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যা খবর পেয়েছি, তাতে ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কোনও কারণ নেই। সম্ভবত ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই ঘটনা। তবে খুনের ঘটনার পর স্থানীয়েরা উত্তেজিত হয়ে উঠে বাড়িতে আগুন দিলেন, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখার জন্য সিট তৈরি করা হয়েছে।’’

রামপুরহাটের বাগটুই গ্রামে ঘরে ঘরে আগুনে পুড়ে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের কতজন পুরুষ, কতজন মহিলা—সে ব্যাপারে দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত কোনও তথ্যই দিতে পারল না পুলিশ।

ডিজি মনোজ মালব্য জানিয়েছেন, চিহ্নিত করার কাজ চলছে। আশা করা যাচ্ছে সন্ধেবেলার মধ্যে রিপোর্ট আসবে।

গ্রাউন্ড জিরোতে যাঁরা আগুন নেভানোর কাজ করছেন, হাতে করে ঝলসে যাওয়া দেহগুলি উদ্ধার করেছেন, তাঁরা বলছেন, এমন ভাবে পুড়ে গিয়েছে দেহগুলি তাতে বোঝার উপায় নেই পুরুষ না মহিলা।

দমকলকর্মী আজিজুল হক হোস পাইপ হাতে নিয়েই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “সকালবেলা একটা বাড়ি থেকেই সাতটা বডি তুলেছি। এমন ভাবে পেস্ট হয়ে গেছে যে পুরুষ না মহিলা বোঝা যাচ্ছে না।’

এমনিতে পুড়ে যাওয়া দেহ শনাক্তকরণ খুবই কঠিন। কলকাতার হাসপাতালগুলির অনেক মর্গের ডোমেরাও বলেন, পুড়ে মৃত্যুর ঘটনায় অনেক সময়ে বাড়ির লোক বুঝতেও পারে না কার দেহ নিয়ে গিয়ে দাহ করছে। তা বোঝার উপায় থাকে না। বীরভূমের ক্ষেত্রে ঘটনা আরও ভয়াবহ। এক দমকলকর্মী জানিয়েছেন, এমনও দেহ উদ্ধার হয়েছে যার হাত পা কার্যত গলে গিয়ে খড়ের ছাইয়ের সঙ্গে মিশে গিয়েছে।

তবে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে দুপুর পর্যন্ত দমকল আর রাজ্য পুলিশের ডিজির তথ্যের মধ্যে তারতম্য রয়েছে। দমকলকর্মীরা সকালে আগুন নেভানোর কাজ করতে করতেই জানিয়েছিলেন, কালকে রাতে তিনটি বডি উদ্ধার হয়েছিল। আজ সকালে একটা বাড়ি থেকেই সাত জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। মোট দেহ উদ্ধার হয়েছে দশটি!

এমনিতে পুড়ে যাওয়া দেহ শনাক্তকরণ খুবই কঠিন। কলকাতার হাসপাতালগুলির অনেক মর্গের ডোমেরাও বলেন, পুড়ে মৃত্যুর ঘটনায় অনেক সময়ে বাড়ির লোক বুঝতেও পারে না কার দেহ নিয়ে গিয়ে দাহ করছে। তা বোঝার উপায় থাকে না। বীরভূমের ক্ষেত্রে ঘটনা আরও ভয়াবহ। এক দমকলকর্মী জানিয়েছেন, এমনও দেহ উদ্ধার হয়েছে যার হাত পা কার্যত গলে গিয়ে খড়ের ছাইয়ের সঙ্গে মিশে গিয়েছে।

তবে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে দুপুর পর্যন্ত দমকল আর রাজ্য পুলিশের ডিজির তথ্যের মধ্যে তারতম্য রয়েছে। দমকলকর্মীরা সকালে আগুন নেভানোর কাজ করতে করতেই জানিয়েছিলেন, কালকে রাতে তিনটি বডি উদ্ধার হয়েছিল। আজ সকালে একটা বাড়ি থেকেই সাত জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। মোট দেহ উদ্ধার হয়েছে দশটি!

রামপুরহাটের বগতুই গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার নেপথ্যে ‘‌শট সার্কিট’‌। এমনটাই মন্তব্য করলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‌আমি সকালে খবর পেয়েছি। একটি বাড়িতেই সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তিন-‌চারটি বাড়িতে আগুন লেগেছিল। সঙ্গে সঙ্গে দমকল গিয়ে আগুন নেভানো শুরু করে। পুলিশ পিকেটিং ছিল। টিভি ফেটে গিয়ে আগুন লাগে। তবে পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।’ 

এদিনের ঘটনার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তৃণমূল নেতাদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশমতোই ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, রামপুরহাটের তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

রামপুরহাটের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে জোড়া জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে৷ জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনমতি দিয়েছে প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ৷

মামলাকারী আইনজীবীদের আর্জি, এই মামলায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ ছাড়া প্রকৃত সত্য সামনে আসবে না৷ এর পাশাপাশি, দ্বিতীয় একটি জনস্বার্থ মামলায় রামপুরহাট কাণ্ডের তদন্ত এনআইএ অথবা সিবিআই-কে দিয়ে করানোর আবেদন জানিয়েছেন মামলাকারী আইনজীবী৷ আগামিকাল জরুরি শুনানি চেয়েও আবেদন করা হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য, নিহত ভাদুর ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ভাদুর ভাই বাবর শেখ খুন হন। তিনিও সক্রিয় ভাবে তৃণমূল করতেন। বাবরকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল ওই এলাকারই বাসিন্দা পলাশ শেখ, সোনা শেখ, লালন শেখ, সঞ্জু শেখ, মহি শেখ, হানিফ শেরা, চেরা শেখ-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যায় তাদের বিরুদ্ধেই ভাদুকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। তার পর থেকেই অগ্নিগর্ভ বগটুই।

Advertisement
Tags: featured

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন