বিজেপিতে প্রাক্তন তৃণমূল ত্রয়ী সুখেন্দু-প্রকাশ-সুস্মিতা, কাদের জন্য দরজা খোলা, স্পষ্ট বার্তা শমীকের
deshersamay

এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর ক্ষমতার বড়সড় পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তৃণমূলের অন্দরে ফের ধস। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষস্তরের তিন নেতা রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন আগেই। এবার তাঁরা যোগ দিলেন পদ্মশিবিরে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বড়াইক এবং সুস্মিতা দেব। বিধানসভা নির্বাচনের পর এই তিন হেভিওয়েট নেতার পদ্ম শিবিরে যোগ তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতে এক বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এদিন তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে উত্তরীয় পরিয়ে দলে স্বাগত জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে খালি হওয়া তিনটি রাজ্যসভার আসনে এই তিন নেতাকে বিজেপির তরফ থেকে ফের মনোনয়ন দেওয়া হবে কিনা, সেই বিষয়ে এখনই স্পষ্ট করে কিছু খোলসা করতে চাননি তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কিছুটা রসিকতার সুরে শমীকবাবু বলেন, “রাজনীতিতে জল্পনা না থাকলে সংবাদমাধ্যম চলবে কী করে? এই জল্পনাটা একটু চলতে দিন।”

নির্বাচনের পর তৃণমূল নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ থাকার যে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, এই যোগদান কি তার পরিপন্থী? এর জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট করে দেন যে, যারা দুর্নীতিগ্রস্ত বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য দরজা চিরকালই বন্ধ। তবে এঁদের যোগদান কোনও বিচ্যুতি নয়, বরং এক বিশেষ ‘ব্যতিক্রম’।

দলবদলু বা দলত্যাগী কটাক্ষ উড়িয়ে দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “এরা প্রত্যেকেই গুণীজন ও বিদগ্ধ মানুষ। আশা করব, এদের নামের আগে পদত্যাগী, দলত্যাগী বা তৃণমূলী, এই শব্দগুলো ব্যবহার করবেন না। প্রত্যেকেরই একটা অতীত থাকে, এমনকি সাধুরও একটা অতীত থাকে। এই মুহূর্তে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের একমাত্র পরিচয়—তাঁরা প্রত্যেকেই বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী।”

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত ৫০ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শুধু ‘দলের সরকার’ দেখেছে। প্রথমে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূলের একচেটিয়া শাসন। এবার রাজ্যের মানুষ কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথ ছেড়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রকৃত উন্নয়ন দেখতে চান। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন যজ্ঞের ওপর আস্থা রেখে এই তিনজন নিজেদের পদ ছেড়ে দেশের মূল স্রোতের রাজনীতিতে শামিল হলেন। গঙ্গা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিজেপির যে আদর্শের সরকার তৈরি হয়েছে, সেখানে এই তিন নেতার যোগদান আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক বিকাশকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলেই আশাবাদী গেরুয়া শিবির।
