চিকিৎসা করাতে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসেছিলেন সে দেশের সংসদ সদস্য আনওয়ারুল আজিম। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতায় পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে আনওয়ারুলকে। যদিও এখনও বাংলাদেশের সংসদ সদস্যের দেহ উদ্ধার হয়নি। সূত্রের খবর, এই ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি। তার পরেই নিউ টাউনের অভিজাত আবাসন ঘুরে যান সিআইডির আইজি অখিলেশ চতুর্বেদী।

দেশের সময় কলকাতা  খুন হয়েছেন বাংলাদেশের আওয়ামী লিগের সাংসদ আনোয়ারুল আজিম? বুধবার থেকে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ম্যারাথন তল্লাশির পরেও মিলেনি সাংসদের দেহাংশ। আধিকারিকদের অনুমান, খুনে সুপারি কিলারদের ব্যবহার করা হয়েছিল। তার জন্য পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল অভিযুক্তদের।

সূত্রের খবর, গত ১৩ মে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়ে থাকতে পারে সাংসদ আনোয়ারুল আজিমকে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। দেহে পচন ধরে যাতে গন্ধ না বের হয়, সেই জন্য দেহটিকে কেটে অংশ বিশেষ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। দুই দেশের তদন্তকারী সংস্থার তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে।
এ দিকে, তদন্ত যত এগিয়েছে জানতে পারা যাচ্ছে, সাংসদকে খুনের পরিকল্পনা করা হয় বাংলাদেশেই। এই কাজে সাংসদের ঘনিষ্ঠ কেউ যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি ভারতে আসবেন জানতে পেরেই খুনের চক্রান্ত করা হয়।


জানা যাচ্ছে, চার কোটি টাকা দেওয়া নিয়ে আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে তাঁর এক ব্যবসায়ী বন্ধুর গোলমাল চলছিল। তিনিই এই খুনের মাষ্টারমাইন্ড কি না তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সূত্র মারফত আরও খবর, দেহ একাধিক টুকরো করে চারটি ট্রলিব্যাগে ভরে লোপাট করা হয়েছে। লোপাটের দায়িত্ব দেওয়া হয় অপর একজনকে। সিআইডি মনে করছে, স্থানীয় একজনের উপর দেহাংশ লোপাটের দায়িত্ব ছিল। তার খোঁজ করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আনোয়ারুলকে খুন করা হয়েছে। ২০ মিনিটের মধ্যে দেহ টুকরো করে ট্রলিতে ভরা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যেই ফ্ল্যাট পরিষ্কারও করে দেওয়া হয় বলে খবর।

একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, লাল রঙের একটি ছোট চারচাকার গাড়ি ঢুকছে নিউটাউনের আবাসনের সামনে। গাড়িটি আবাসনের বাইরে এসে থামে। সেই গাড়ি থেকে নেমে আসেন তিন জন। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন বাংলাদেশের আওয়ামী লিগের মৃত সাংসদ আনোয়ারুল আজিম। সঙ্গে ছিলেন আরও দু’জন। সিসিটিভি ফুটেজের এই সূত্র ধরেই লাল রঙের ওই গাড়িটিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। গাড়ির মালিক ও গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, এই সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরেই পুলিশ জানতে পেরেছে সাংসদের সঙ্গে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা একে একে বেরিয়ে গিয়েছিলেন আবাসন থেকে। কিন্তু মৃত সাংসদ বের হননি আবাসন থেকে

এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে, গত ১২ মে ভারতে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন আনওয়ারুল। প্রথমে উঠেছিলেন বরাহনগরে তাঁরই এক বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে। দিন দুয়েক সেখানে থাকার পর এক দিন বাড়ি থেকে বেরোন আনওয়ারুল। তার পর থেকেই আর তাঁর খোঁজ মিলছিল না। বাংলাদেশে আনওয়ারুলের পরিবারও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে অগত্যা গোপালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। গোপাল তাঁদের জানান, তিনিও আনওয়ারুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সিআইডির আইজি অখিলেশ জানিয়েছেন, খোঁজ না পেয়ে গোপাল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে একটি দল গঠন করে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট।

অখিলেশ বলেন, ‘‘সেই তদন্ত চলছিল। তার মধ্যে ২২ মে আমরা জানতে পারি, ওঁকে খুন করা হয়েছে। শেষ বার যেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছিল, সেই জায়গাটি খুঁজে বার করে স্থানীয় থানা। এর পরে সিআইডিকে তদন্তের ভার দেওয়া হয়।’’

সিআইডি সূত্রে খবর, নিউ টাউনের যে আবাসনে আনওয়ারুল ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে, সেই ফ্ল্যাটটির মালিক সরকারি কর্মচারী জনৈক সন্দীপ। তিনি আবার আখতারুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে ফ্ল্যাটটি ভাড়া দেন। সিআইডির আইজি জানিয়েছেন, আখতারুজ্জামান আমেরিকার নাগরিক। কিন্তু আখতারুজ্জামানের নামে ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে কী করে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য থাকলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে অখিলেশকে প্রশ্ন করা হলেও তিনি জবাব দেননি।

আনওয়ারুল যে নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে আছেন, তা জানা গেল কী ভাবে? অখিলেশ বলেন, ‘‘১৮ তারিখে একটি নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার পর ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট একটি এসআইটি গঠন করে। সেই তদন্ত করতে গিয়েই আমরা খবর পাই।’’ নিউ টাউনের আবাসনের ফ্ল্যাটে রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহের কাজ করেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। রক্তের দাগ বাংলাদেশের সংসদ সদস্যেরই কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। সিআইডি কর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সংসদ সদস্যের দেহ এখনও উদ্ধার হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here