বাড়বে সাজার মেয়াদ, বৃদ্ধি পাবে জরিমানার অঙ্কও! প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রবল ক্ষোভের মুখে কড়া পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র
deshersamay

দেশজুড়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ অব্যাহত। এই পরিস্থিতির মধ্যে জালিয়াতি রুখতে আইনকে আরও কঠোর ও শক্তপোক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।

প্রবল ক্ষোভের মুখে, বৃহস্পতিবারেই কেন্দ্র জানিয়েছিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা রুখতে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে বড় পদক্ষেপের কথা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও বার্তার পরেই জানা গেছে, পাবলিক একজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যাক্ট, ২০২৪ আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই সংশোধনীর চূড়ান্ত রূপ দিতে শুক্রবার বিকেলের ক্যাবিনেট বৈঠকেই অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিনি ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের সাজা ও জরিমানার পরিমাণও আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যক্তিগত অপরাধের ক্ষেত্রে:
অভিযুক্তদের ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার নিয়ম রয়েছে।
পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার ক্ষেত্রে:
কোনও সম্ভাব্য জালিয়াতি বা অপরাধের তথ্য সময়মতো না জানালে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে:
অপরাধীদের ৫ থেকে ১০ বছরের জেল এবং কমপক্ষে ১ কোটি টাকা জরিমানার আইনি ব্যবস্থা রয়েছে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আগামী সোমবার, অর্থাৎ সংসদ অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই নতুন এই সংশোধনী বিল লোকসভায় পেশ করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বলেন, “এটা কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সেই কারণেই গত আড়াই মাসে এই বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, মূল অপরাধীদের ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল যাতে পরীক্ষার্থীদের একটা বছর নষ্ট না হয়। তাই দ্রুত পরীক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। প্রায় ২২ লাখ পড়ুয়ার জন্য পুনরায় পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যবস্থা করতে সরকার সব শক্তি প্রয়োগ করেছে বলেও জানান তিনি।
ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট তৈরির বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। আধিকারিকরা পরিশ্রম করে গভীর রাতে প্রস্তাবটি প্রস্তুত করেছেন। ক্যাবিনেটে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। চেষ্টা থাকবে সোমবার সংসদে এই বিল এনে যত দ্রুত সম্ভব পাশ করিয়ে নেওয়ার।”
পরীক্ষা জালিয়াতি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। গত বুধবার তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছরে দেশে অন্তত ১৫০টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত একটি ক্ষেত্রেও কারও সাজা হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর ফের মুখ খোলেন রাহুল। তিনি স্পষ্ট জানান, শুধু আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি নয়, আন্দোলনরত পড়ুয়ারা এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।
শুক্রবার ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত এবং সোমবার সংসদে বিল পেশের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের।
