আধার কার্ড না থাকায় ভর্তি নেওয়া হয়নি বনগাঁ হাসপাতালে, রোগীর মৃত্যুতে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
deshersamay

আধার কার্ড না থাকায় রোগী ভর্তি না করানোর অভিযোগ উঠেছে বনগাঁ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এর ফলে হাসপাতালের গেটের কাছে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন এক রোগী। এই অমানবিক ঘটনা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে বনগাঁ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। যদিও আধার কার্ড না থাকায় রোগী ভর্তি করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মৃতের নাম রেনু মণ্ডল (৫৫)। একেবারেই নিম্নবিত্ত পরিবারের ওই মহিলার বাড়ি বনগাঁর খেদাপাড়ায়। বুকে যন্ত্রণা নিয়ে ভ্যানে বসিয়ে রেনুকে বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর দিদি সরস্বতী সরকার।

ওই সময়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক গৌরী মণ্ডল রোগীকে পরীক্ষা করে হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা বলেন। এর পরে ওপরে মহিলা বিভাগে অসুস্থ বোনকে নিয়ে যান সরস্বতী। তখন রোগীর কাছে আধার কার্ড ছিল না। এই কারণে তাঁকে ভর্তি করতে অস্বীকার করা হয় বলে অভিযোগ।

সরস্বতী জানান, বোনকে ভর্তি করানোর জন্য কাতর অনুরোধ করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যার সময়ে বাড়ি থেকে আধার কার্ড নিয়ে আসার কথাও বলেছিলেন। তবে তাঁর কোনও কথা শুনতে চাননি হাসপাতালের লোকজন। ফলে, বাধ্য হয়েই গুরুতর অসুস্থ বোনকে নিয়ে নীচে চলে আসেন সরস্বতী। অপেক্ষা করেন হাসপাতালে গেটে। কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালের গেটে অপেক্ষা করতে করতেই শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় রেনুর।

যদিও আধার কার্ডের জন্য রোগীর ভর্তি না করানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গৌরীর দাবি, জরুরি অবস্থার রোগীর কাছে আধার কার্ড না থাকাটা কোন বিষয় নয়। রোগীর পরিবার ভুল বুঝে তাঁকে নিয়ে বাইরে চলে এসেছিলেন। ওই রোগীকে ভর্তি করিয়ে পরে আধার কার্ড দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর।

রেনুকে ভর্তি করানোর কথা বলা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বনগাঁ হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বড়াই । তবে তাঁকে ভর্তি না নেওয়ার বিষয়টি ‘অনভিপ্রেত ঘটনা’ বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই রকম হওয়া উচিত হয়নি বলেও জানিয়েছেন হাসপাতালের সুপার।
