চোরবাগানে বিপর্যয়:পুজো কমিটির সম্পাদক সহ গ্রেফতার ৭! ব্যারিকেড নির্মাণ থেকে VIP পাস বিলিতে গাফিলতির অভিযোগ
deshersamay

কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন দর্শনার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল কলকাতা পুলিশ। এই ঘটনায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির যে ১৪ জনকে আটক করে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল, তাঁদের মধ্যে অনভিপ্রেত গাফিলতি ও নিরাপত্তার ত্রুটির কারণে শেষ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঠিক কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে মণ্ডপ চত্বরে দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামো, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্যান্ডেলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও প্রস্থানের রাস্তাগুলি নিয়ে গঠিত ব্যবস্থাপনার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই গ্রেফতারি।

গ্রেফতার হয়েছেন –
১) রাজ কুমার সেওড়া ওরফে রাজা (৪৮) — চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির সম্পাদক বা সেক্রেটারি
২) শান্তনু দুবে (৫৫) — দুর্গোৎসব সমিতির সহ-সভাপতি বা ভাইস প্রেসিডেন্ট
৩) বিপ্লব মুখোপাধ্যায় — পুজো মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি

৪) কৌশিক সাহা (৫৩) — মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ভিআইপি পাস পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সদস্য৫) পিন্টু দে (৫১) — মণ্ডপ প্রাঙ্গণে সরাসরি ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সদস্য
৬) সুমন চক্রবর্তী (৩০) — পুজো মণ্ডপে নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ইনচার্জ
৭) রাজেশ পাল (২৯) — বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ইনচার্জ
তদন্ত সূত্রে খবর, পুজো মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে ভিআইপি পাসের চেকিং এবং বেসরকারি নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে। আয়োজক কমিটির উচ্চপদস্থ কর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীদের এই যৌথ অবহেলার কারণেই সেদিন মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং এমন এক ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে সোমবার সকাল থেকেই থমথমে চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপ ও তার সংলগ্ন রাজপথ। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে কোনও আইনশৃঙ্খলা সমস্যা এড়াতে ওই এলাকার আশপাশের রাস্তায় কঠোরভাবে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। বউবাজার থানা এলাকার অন্তর্গত এই পুজো মণ্ডপের চারপাশের নির্দিষ্ট রাস্তায় সাধারণ মানুষের কোনও ধরনের জমায়েত বা ভিড় করার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এই কড়া নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

৫) পিন্টু দে (৫১) — মণ্ডপ প্রাঙ্গণে সরাসরি ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সদস্য

৬) সুমন চক্রবর্তী (৩০) — পুজো মণ্ডপে নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ইনচার্জ
৭) রাজেশ পাল (২৯) — বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ইনচার্জ

কী ভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা?
শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছিল। সেই সময়ে বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপের বাইরে অপেক্ষায় থাকা দর্শনার্থীরা একসঙ্গে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাতেই ভিড়ের চাপ বাড়ে। ধাক্কাধাক্কিতে কয়েক জন রাস্তায় পড়ে গেলে তাঁদের উপর দিয়েই অন্য দর্শনার্থীরা এগিয়ে যেতে যান। এতেই তৈরি হয় পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি।

এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হন ২৫ জন। রাতভর চিকিৎসার পর ১১ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৪ জনকে ভোরের দিকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা মোটের উপর স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
তদন্ত সূত্রে খবর, পুজো মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে ভিআইপি পাসের চেকিং এবং বেসরকারি নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে। আয়োজক কমিটির উচ্চপদস্থ কর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীদের এই যৌথ অবহেলার কারণেই সেদিন মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং এমন এক ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে সোমবার সকাল থেকেই থমথমে চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপ ও তার সংলগ্ন রাজপথ। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে কোনও আইনশৃঙ্খলা সমস্যা এড়াতে ওই এলাকার আশপাশের রাস্তায় কঠোরভাবে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। বউবাজার থানা এলাকার অন্তর্গত এই পুজো মণ্ডপের চারপাশের নির্দিষ্ট রাস্তায় সাধারণ মানুষের কোনও ধরনের জমায়েত বা ভিড় করার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এই কড়া নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
