প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

১০০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে ভারতকে স্বস্তি দিলেন ট্রাম্প ! নিজের আইন নিজেই তুলে নিয়ে আপাতত পিছু হটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

deshersamay

Share article:

নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই বদলালেন ট্রাম্প। লিন্ডসে ও গ্রাহাম আইনের অধীনে রাশিয়া ও ইরানের উপরে যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিলেন, তা প্রত্যাহার করে নিলেন। এর জেরে ভারতের উপরেও ১০০ শতাংশ শুল্কের যে খাড়া ছিল, তা উঠে গেল।

রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির ওপর বিপুল শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত পিছু হঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও কড়াকড়ি থেকে সাময়িক ছাড় দিলেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের তরফে জারি করা এক নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর যে ‘গ্রাহাম আইন’ পাশ করিয়েছিলেন ট্রাম্প, তাতে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। এমনকি রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা অব্যাহত রাখলে ভারত এবং চিনের মতো বড় ক্রেতা দেশগুলির পণ্যের ওপরও চড়া শুল্ক চাপানোর সংস্থান রাখা হয়েছিল আইনটিতে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়তে পারত প্রায় ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত। পাশাপাশি, ১৮ অক্টোবর বা তার পরে রাশিয়া থেকে ফের জ্বালানি আমদানির চুক্তি করলে শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকিও ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন নির্দেশে এই সমস্ত শুল্ক ও বিধিনিষেধ আপাতত মকুব করা হয়েছে।

রাশিয়ার সস্তা তেল কেনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের এই সম্ভাব্য কড়াকড়ির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই জোরালো আপত্তি জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। ভারতের স্পষ্ট অবস্থান ছিল, দেশের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করতেই এই শক্তি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই পথে হেঁটেছিল বেজিংও। কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের এই ছাড়ের ফলে ভারত ও চিনের মতো দেশগুলি সাময়িকভাবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ থেকে রক্ষা পেল।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে মার্কিন মুলুকে এমনিতেই জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি হলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ত এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিপাকে পড়ত হোয়াইট হাউস।

যদিও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে কোণঠাসা করার মার্কিন কংগ্রেসের এই প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ডেমোক্র্যাট সাংসদ ডন বেয়ার। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরিস্থিতি ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখা হবে এবং রাশিয়ার তেলের বাজার বা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর প্রবণতা নিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট দেবেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিরা। যতদিন না প্রশাসন পরবর্তী কোনও পদক্ষেপ করছে, ততদিন এই ছাড় বলবৎ থাকবে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি ডন বেয়ারও। তাঁর অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইউক্রেনের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের শাস্তি দিতে কংগ্রেস যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তাও দুর্বল করে দিচ্ছেন তিনি।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন