৯/১১-র ধাঁচেই বিল্ডিংয়ে ধাক্কা মারত বিমান! ফ্লাইদুবাইয়ের ওই পাইলটের আর কী প্ল্যান ছিল?
deshersamay

যত তদন্ত এগোচ্ছে, ততই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট হাম্মাম আল হামিমি সম্পর্কে।
মাঝ-আকাশে পাইলটকে কুপিয়ে বিমান দখলের চেষ্টা! প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হতেই নাকি দ্বিতীয় ছক কষেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Flight FZ1073) ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি (Flydubai Co Pilot) তেল আভিভের কোনও উঁচু ভবনে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর মরুভূমির মধ্যে বিমানটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ইতালির এক সংবাদমাধ্যমের। এমনকি মাঝ-আকাশে বিমানের দুই ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি। মাঝ-আকাশে ককপিটের ভিতর ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে হামাম আক্রমণ করেন। তাঁর উপর কুঠার দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। পরে যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, হামামের প্রথম পরিকল্পনা ছিল ক্যাপ্টেন স্মিতকে সরিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এরপর বিমানটিকে তেল আভিভ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে কোনও উঁচু ভবনে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, হামাম ককপিটে রাখা ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে পিছন থেকে স্মিতের উপর হামলা করেন। কিন্তু স্মিত প্রতিরোধ করেন এবং সুযোগ পেয়ে ককপিটের দরজাও খুলে দেন। এর ফলে যাত্রীরা বুঝতে পারেন ভিতরে কোনও সমস্যা হয়েছে। ফলে প্রথম পরিকল্পনা সফল করা কঠিন হয়ে যায়।

এর পরেই নাকি বিমানের অটোপাইলট বন্ধ করে কন্ট্রোল স্টিক সামনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। বিমানটি মাত্র কয়েক দশ সেকেন্ডে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। গতিবেগও প্রায় ৯৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা ছুঁয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি, সেই সময় বিমানের দুই ইঞ্জিনই বন্ধ করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। কেবিনের ভিডিয়োয় মাঝ-আকাশে আপৎকালীন আলো জ্বলতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে এই আলো জ্বলে উঠতে পারে। তাই ইঞ্জিন বা জেনারেটর বন্ধ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, জ্বালানির সুইচ ‘Run’ থেকে ‘Cutoff’ করা হয়েছিল কি না।
তবে এই ইঞ্জিন বন্ধের বিষয়টি এখনও তদন্ত সাপেক্ষ। সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। ইতালির সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই তথ্য সামনে এসেছে।
শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের হস্তক্ষেপ এবং বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটের তৎপরতায় বিমানটি নিয়ন্ত্রণে আসে। তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে সেটি। হামাম বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘটনার পুরো রহস্য খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
বর্তমানে ওই কো-পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সেই জিজ্ঞাসাবাদেই জানা গিয়েছে যে ক্যাপ্টেনকে খুন করার পর বিমানটিকে নিয়ে তেল আভিভের বেন গুরিওন বিমানবন্দরের কাছে কোনও বিল্ডিংয়ে ধাক্কা মারত। হোমওয়ার্কের জন্য এই বিল্ডিং কয়েকবার ঘুরেও এসেছিল। তবে পছন্দমতো বিল্ডিং না পেলে, দ্বিতীয় অপশন হিসাবে অপর কোনও বিমানে ধাক্কা মারার প্ল্যানও করে রেখেছিল হামিমি।
জেরায় আরও জানা গিয়েছে, জর্ডনের আকাশসীমা পার করার পর বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। গত জুলাই মাসেই এই হামলা করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে কারণ বিমানের একজন ক্রু তাঁর বন্ধু ছিল। সেপ্টেম্বরের শেষদিনে এসে সেই পরিকল্পনাকে সফল করার চেষ্টা করে। তবে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর তা হতে দেননি।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আইন অনুযায়ী, আল হামিমিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। আবু ধাবিও চরম শাস্তির দাবি করেছে বলে এমিরেট সূত্রে খবর।
