প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

ব্যাপক রদবদল, পুরভোটের আগে সংগঠনের খোলনলচে বদলে ফেলল বিজেপি , সরানো হলো শর্বরীকে, বাদ অগ্নিমিত্রা- জগন্নাথ, কে কোন পদে এলেন?

deshersamay

Share article:

পুরভোটের আগে সংগঠনের খোলনলচে পুরো বদলে ফেলল রাজ্য বিজেপি। জেলাস্তরে রাজ্য বিজেপিতে সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সাত জেলার সভাপতিকে। সাত জেলার মধ্যে রয়েছে বারাসত, বনগাঁ, আরামবাগ, শ্রীরামপুর, মেদিনীপুর, বর্ধমান, কাটোয়া। এছাড়া, চার মোর্চার সভাপতিও বদল করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যরা। তারপরই আজ বঙ্গ বিজেপিতে এই সাংগঠনিক রদবদল করা হল। বিজেপি সূত্রে খবর, পুরভোটের আগে সংগঠনকে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাই এই রদবদল করা হল। এছাড়া আরও একটা কারণ হিসেবে উঠে আসছে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ নীতি’।

রাজ্য বিজেপিতে একাধিক পরিচিত মুখকে সরিয়ে দেওয়া হলো রাজ্য বিজেপি কমিটির নানা পদ থেকে। সেই তালিকায় রয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী ও বিধায়ক।

বিজেপির রাজ্য কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে, তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। ফাল্গুনী পাত্রকে সরিয়ে মহিলা মোর্চার মাথায় অঞ্জনা বসুকে আনা হয়েছে। তবে রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি পদে রয়েছেন তিনি। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছে সৌমিত্র খাঁ লকেট চট্টোপাধ্যায়, অনন্ত দেব অধিকারী, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো-সহ আরও বেশ কয়েকজন।

সরানো হয়েছে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায়ের মতো মন্ত্রীদের। সূত্রের খবর, মন্ত্রীদের সাংগঠনিক পদে রাখা হচ্ছে না। এক ব্যক্তি এক পদ- নীতি কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকে ইন্দ্রনীল খাঁ-কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমতার বিধায়ক অমিত সামন্তকে। একাধিক জেলা সভাপতিকে বদল করেছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।

কোন মোর্চায় দায়িত্বে কে?
যুব মোর্চার সভাপতি অমিত সামন্ত
মহিলা মোর্চার সভাপতি অঞ্জনা বসু
ওবিসি মোর্চার সভাপতি ধনঞ্জয় ঘোষ
এসসি মোর্চার সভাপতি বিশ্বজিৎ বিশ্বাস
এছাড়াও সাতটি জেলার সভাপতিকে বদল করা হয়েছে। সাতটি জেলার সভাপতিকে বদল করা হয়েছে। বনগাঁ, বারাসত, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান ও কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বদল করা হয়েছে।

কোন কোন জেলার সভাপতি কে হলেন?
বনগাঁ: নৃপেন বিশ্বাস
বারাসত: দীপঙ্কর চক্রবর্তী
শ্রীরামপুর: শশী সিংহ
আরামবাগ: প্রশান্ত দিগর
মেদিনীপুর: সৌমেন তিওয়ারি
বর্ধমান: আশিস পাল
কাটোয়া: মানিক রায়

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায়- এঁরা সকলেই মন্ত্রী। তাঁদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে। বিজেপির দলীয় নীতি অনুযায়ী, একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে রাখা যায় না। সেই কারণেই তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে সরানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। কিন্তু এই যুক্তি খাটে না শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে। তিনি যাদবপুরের বিধায়ক, কোনও দপ্তরের মন্ত্রী নন। তবুও তাঁকে সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেন এমন পদক্ষেপ?

রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, সম্প্রতি একাধিক বিতর্কে নাম জড়িয়েছে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির ঘটনায় জড়িয়েছে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নাম। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আদতে কসবা বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত, তবুও কেন শর্বরী সেখানে গিয়েছিলেন সেই প্রশ্ন উঠেছিল। তাঁর বেশ কিছু মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। সেই আবহে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে কি কোনও বার্তা দেওয়া হলো? শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

পুজোর পরেই রাজ্যের একাধিক পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া পুরসভাও। পুরভোটের আগে সংগঠন ঢেলে সাজার কাজ করছে বিজেপি। মন্ত্রীরা প্রশাসনিক দায়িত্বে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকবেন, সেই কারণেই সংগঠনে নতুন মুখ এনে ভোটের ঝাঁপানোর কাজ করবে বিজেপি, মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন