প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত বাতিলের আর্জি, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা

deshersamay

Share article:

আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে পরামর্শ বা মতামত না নিয়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যে সিদ্ধান্ত, গাইডলাইন ও সফটওয়্যার পরিবর্তনগুলি করেছেন, তা অসাংবিধানিক ও অবৈধ। 

অন্য দুই কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে এক তরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে এবার আইনি জটিলতায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার । নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক একাধিক নীতিগত পদক্ষেপ ও বিজ্ঞপ্তি খারিজের দাবি জানিয়ে এবং সিইসি-কে সরাসরি বিচারের আওতায় আনার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার শীর্ষ আদালতে বিষয়টি বিশেষভাবে উত্থাপন করেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মানি ত্রিপাঠী।

সম্প্রতি জাতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার— বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিং সান্ধুর লিখিত আপত্তিকে তোয়াক্কা না করেই একের পর এক নির্দেশিকা জারি করেছেন সিইসি। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় আর্জি জানানো হয়েছে, অন্য দুই সহকর্মীকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে জ্ঞানেশ কুমার এককভাবে যে সব গাইডলাইন জারি করেছেন কিংবা সফটওয়্যারে যে সব পরিবর্তন এনেছেন, সেগুলিকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

পাশাপাশি, নতুন ভোটার নিবন্ধনের সংবিধিবদ্ধ ‘ফর্ম-৬’-এ যে বিতর্কিত পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা খারিজ করে পুরনো ফর্মটি পুনর্বহাল করার দাবি জানানো হয়েছে এই জনস্বার্থ মামলায়। বিরোধীদের অভিযোগ, রুলস সংশোধন না করেই ওই ফর্মে বেআইনি কিছু প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছিল। এ ছাড়া, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার অধীনে দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়ার যে হিসাব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের সওয়াল করেছেন মামলাকারী।

মামলায় কেবল প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নন, সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতির অভিযোগে সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ এবং ডিজি (আইটি) সীমা খন্নাকেও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (RPA) ৩২ নম্বর ধারার অধীনে তদন্ত ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তোলা হয়েছে। ২০২৩ সালের কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী সরকারি কাজের জন্য কমিশনারদের বিশেষ আইনি সুরক্ষাকবচ থাকলেও মামলাকারীর যুক্তি, একক ভাবে সিইসি-র সিদ্ধান্ত চাপানোর কোনও আইনি অধিকার নেই। যৌথ সংস্থায় মতপার্থক্য তৈরি হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।

উল্লেখ্য, কমিশনের অন্দরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও গ্রেফতারির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বিরোধী দলগুলি। সংসদে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব আনার তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে। এ বার রাজনীতির অলিন্দ ছাড়িয়ে সেই জল গড়াচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও।

Tags: দেশ

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন