প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

‘সরকার সরাসরি ধান কিনবে কৃষকদের থেকে’, চাষিদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

deshersamay

Share article:

কৃষিপ্রধান পশ্চিমবঙ্গের চালিকাশক্তি কৃষক (Farmers) সমাজ। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক জনসভা থেকে সেই কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।

এ দিন বিদ্যুৎ ও পূর্ত দফতর একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস ও শুভ সূচনা করে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন তিনি। পূর্ব বর্ধমানকে  ‘গর্বের শস্য ভাণ্ডার’ হিসেবে বর্ণনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই জেলার মানুষ সরকারকে উজার করে সমর্থন দিয়েছেন, তাই উন্নয়ন উজার করে ফেরত দেওয়াটাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।

কৃষকদের সুবিধার্থে বিদ্যুতের বিলে বড়সড় ছাড়ের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেচ কাজের জন্য বছরে প্রতি কৃষক ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় পাবেন। রাজ্যের চার লক্ষেরও বেশি কৃষকের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউনিট প্রতি ২ টাকা করে ভর্তুকি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।

কৃষি কল্যাণ প্রকল্পগুলির পরিধি বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘পিএম কিষান সম্মাননিধি’ প্রকল্পে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নতুন আবেদনকারীদের যুক্ত করে কেন্দ্রীয় ৬ হাজার টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকার আরও ৩ হাজার টাকা যোগ করবে; ফলে কৃষকরা মোট ৯ হাজার টাকা পাবেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হবে। সামান্য জমির মালিকরা বছরে ৪ হাজার টাকা এবং তুলনামূলক বেশি জমির মালিকরা ৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

পাশাপাশি, পাঁচ একর পর্যন্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে রাজ্য সরকার প্রতি কুইন্টাল ২৭০০ টাকা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (এমএসপি) ধান কিনবে। মেমারির মঞ্চ থেকে ফড়ে ও রাইসমিল মাফিয়াদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখে সব ধান সরাসরি সরকারই কিনবে এবং ১০০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করলে কৃষকদের অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে।

বিগত তৃণমূল জমানার সমালোচনা করে আলুচাষিদের দুর্দশার কথা স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীত সরকারের আমলে সারের কালোবাজারি, আন্তঃরাজ্য সীমানা সিল করা ও হিমঘরের মালিকদের ওপর অত্যাচারের দরুন আলুচাষিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। এই পরিস্থিতি বদলে আগামী ডিসেম্বর মাসেই আলুচাষিদের জন্য বিশেষ সরকারি ভর্তুকি ও প্যাকেজ নিয়ে আসছে রাজ্য সরকার।

এ দিন পূর্ব বর্ধমানের সভা থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের হাতে কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ ভর্তুকি ও ‘সূর্যঘর’ প্রকল্পের চেক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভাতারে ১২৩ কোটি ৪৮ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা মূল্যের একগুচ্ছ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প এবং ৩৩ কোটি টাকার তিনটি পৃথক রাজ্য প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর সোনারপুর ও বিষ্ণুপুরে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের চৌবেরিয়ায় ইডেন খালের ওপর নতুন সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় এ দিন।

মঞ্চ থেকে ১২৫ দিনের ‘জি রাম জি’ কাজ, অন্নপূর্ণা, আবাস, আয়ুষ্মান ভারত ও ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী পুনর্নবীকরণ করেন তাঁর পুরনো প্রতিশ্রুতি। দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়ার লক্ষ্যে রাজ্যে অনতিবিলম্বে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি), লাভ জিহাদ এবং ল্যান্ড জিহাদ বিরোধী কঠোর আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন