আকাশে শরতের আমেজ ,বিশ্বকর্মা পুজোয় কেমন থাকবে আবহাওয়া?
deshersamay


নীল আকাশ, সঙ্গে ঝলমলে রোদ্দুর। ইতস্তত দেখা যাচ্ছে সাদা পেঁজা তুলোর মতো মেঘ।বাতাসে পুজো-পুজো আমেজ। বুধবার সকালে এমনই দৃশ্য দেখে ঘুম ভাঙল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া মোটের উপরে এমনই থাকবে। কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে, বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। শুক্রবার, বিশ্বকর্মা পুজোর দিনও বৃষ্টি হতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গের ছবিটা একেবারেই উল্টো। উত্তরবঙ্গের দুই জেলায় বুধবার অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হতে পারে একাধিক জেলাতে।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশে বর্ষা শেষলগ্নে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে বর্ষা সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে, মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়-বৃষ্টি চলবে।

আবহাওয়া দপ্তরের বুধবার সকালের আপডেট অনুযায়ী, বুধবার কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। তবে দুপুরের পরে আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা বাড়তে পারে। বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দু’এক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে, কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বাধিক ৯৭ শতাংশের আশেপাশে থাকবে। ফলে, আর্দ্রতা জনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে। মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বুধবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তবে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়বে। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা বাড়তে পারে। শুক্রবার, বিশ্বকর্মা পুজোর দিনেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। তবে, শনিবারের পরে থেকে বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা দুই কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের দু-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে পারে।

