স্বাস্থ্যবিমা, ভাতা বৃদ্ধি থেকে সীমান্তের পরিকাঠামো গড়ে তোলায় অনুমোদন , রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত
deshersamay

পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, আর্থিক ও উন্নয়নমূলক প্রস্তাবে
অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো গড়ে তোলা, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার জন্য জমি হস্তান্তর ও বন্দোবস্ত, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মসূচি, সরকারি কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি, ক্রীড়াবিদদের নিয়োগ নীতি সংশোধন, স্বাস্থ্যবিমা, সংশোধনাগার এবং পর্যটন-সহ একাধিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া ব্লকের ফতেহাবাদ মৌজায় মোট ০.৫৮৮ একর সরকারি জমি বিএসএফের অনুকূলে চিরস্থায়ী হস্তান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদিয়ার গোপালপুর মৌজায় বিএসএফের নাটনা ৫৬ ব্যাটালিয়নের সীমান্ত চৌকি নির্মাণের জন্য ০.৪২ একর খাস জমি এবং নদিয়ার মহতপুর মৌজায় বিএসএফের ব্যবহারের জন্য ২.১৫ একর জমি চিরস্থায়ী হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উত্তর দিনাজপুরের মালন ও চায়নগর মৌজায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য ০.৩৯ একর সরকারি জমি বিএসএফকে দেওয়া হবে। মালদহের জল্লা মৌজায় সীমান্ত ফাঁড়ি নির্মাণের জন্য ১.২০ একর সরকারি খাস জমি হস্তান্তরেও অনুমোদন মিলেছে। মুর্শিদাবাদের উদয়নগরের খণ্ড মৌজায় সীমান্ত বেড়া ও আইবিবি সড়ক নির্মাণের জন্য ১০.১২ একর সরকারি জমি বিএসএফকে দেওয়া হবে। একই জেলায় সীমান্ত ফাঁড়ি নির্মাণের উদ্দেশে ৪.৪১ একর রায়তি জমি সরাসরি কেনার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি জলপাইগুড়িতে পাঙ্গা নদীর উপর লোহার সেতু নির্মাণের জন্য ০.১৮৫০ একর জমি সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আলিপুরদুয়ারের উত্তর শিলবাড়ি মৌজায় সীমান্ত বাহিনীর জন্য ৩০ একর সরকারি জমি চিরস্থায়ী হস্তান্তর এবং জলপাইগুড়ির চেংমারি মৌজায় সীমান্ত ফাঁড়ি তৈরির জন্য ২ একর খাস জমি দেওয়ার প্রস্তাবেও সিলমোহর পড়েছে। এ ছাড়া মুর্শিদাবাদের আলিনগরে ডিআরএসইউডিসিএলের অনুকূলে ০.৫০ একর সরকারি জমির দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্তের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের উত্তরবাড়ে ০.৬১ একর, বীরভূমের তেতরাডাঙিতে ০.৪৬ একর, কোচবিহার শহরে ০.৩২ একর এবং মালদহের উত্তর রামচন্দ্রপুরে ০.২৬৪০ একর জমির দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত পুনর্নবীকরণে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বীরভূমের চণ্ডায় ডিআরপিডিসিএলের অনুকূলে ৩১.৪১ একর সরকারি খাস জমির দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্তের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়ার বাঁকাদহে পশ্চিমবঙ্গ আবাসন নিগমের অনুকূলে ৪ একর সরকারি খাস জমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত এবং পরে নিঃশর্ত হস্তান্তরের প্রস্তাবেও অনুমোদন মিলেছে। বাঁকুড়ার জঙ্গলপুঞ্জিতে স্কুলশিক্ষা দফতরের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুকূলে ১৩.৪০ একর ইজারা জমির বন্দোবস্ত পুনর্নবীকরণ করা হবে।
দিঘা-শঙ্করপুর উপকূলীয় অঞ্চলের পর্যটন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘দীঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ পরিকল্পনা এলাকা’-র পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে থাকা ৫১টি মৌজার সঙ্গে আরও ২০টি মৌজা যুক্ত করা হবে।
সংশোধনাগারগুলিতে ই-প্রিজন ব্যবস্থা চালুর জন্য নতুন করে ৭০ জন তথ্য প্রবেশ করানোর কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি সংশোধনাগার পরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে ট্রাকচালক এবং কারখানার তত্ত্বাবধায়কদের পদোন্নতি-সংক্রান্ত বেতন কাঠামো উন্নীত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় রান্না করা খাবার এবং সকালের জলখাবারের জন্য নারী উপভোক্তা পিছু প্রতিদিন ২ টাকা এবং শিশু উপভোক্তা পিছু অতিরিক্ত ২ টাকা রাজ্য সরকারের তরফে বহনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

‘পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (দ্বিতীয় সংশোধনী) বিল, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী এবং বিধানসভার মুখ্য সরকারি সচেতকের সহকারীদের নির্ধারিত পারিশ্রমিক ১ জুন ২০২৬ থেকে মাসিক ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (দ্বিতীয় সংশোধনী) বিল, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী এবং বিধানসভার মুখ্য সরকারি সচেতকের সহকারীদের নির্ধারিত পারিশ্রমিক ১ জুন ২০২৬ থেকে মাসিক ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ ব্যবস্থায় ক্রীড়াবিদদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ’-কে ক্যাটাগরি-বি থেকে ক্যাটাগরি-এ-তে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

রাজ্যে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি থানা স্থাপনের বিজ্ঞপ্তি জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রীর জন আরোগ্য যোজনার আওতায় নেই, সেই সমস্ত স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ চালুর প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
