World Cup 2026: মায়ামিতে গোলের সুনামি!সাকার হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সকে হারিয়ে রুদ্ধশ্বাস জয়ে ব্রোঞ্জ ইংল্যান্ডের
deshersamay


ইংল্যান্ড – ৬ (সাকা-হ্যাটট্রিক, রাইস, কনসা, বেলিংহ্যাম)
ফ্রান্স – ৪ (এমবাপে-২, বারকোলা, ডেম্বেলে)
বিশ্বকাপের ম্যাচে ১০ গোল! টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নাটকীয় ম্যাচগুলোর মধ্যে অন্যতম।
প্রথমার্ধে একতরফা ব্রিটিশ দাপট। দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসিদের মরিয়া কামড়। তবে শেষ হাসি হাসল থ্রি-লায়ন্সরাই। রুদ্ধশ্বাস তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল গলায় ঝোলাল ইংল্যান্ড।১৯৮২ সালের পর বিশ্বকাপের ম্যাচে ১০ গোল এই প্রথম।১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিশ্বকাপে এটাই ইংল্যান্ডের সেরা পারফরমেন্স।

বুকায়ো সাকার দুরন্ত হ্যাটট্রিক, ডেকলান রাইসের সঙ্গত এবং শেষবেলায় জুড বেলিংহ্যামের ফিনিশিং টাচ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আসরে ১৯৬৬ সালের পর ফের কোনও পদক এল ব্রিটিশদের ঝুলিতে। অন্যদিকে লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের নয়া নজির গড়লেন কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু দলের হার এড়াতে না পারায় সেই রেকর্ড যেন ট্র্যাজিক হিরোর মুকুট হয়েই রয়ে গেল!

ম্যাচের শুরু থেকেই রীতিমতো তাণ্ডব। ঘড়ির কাঁটায় তখন সবে ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ড। দূরপাল্লার বুলেট শটে ফরাসি জাল কাঁপিয়ে দেন ডেকলান রাইস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই ১৮ মিনিটে ফের আঘাত। রাইসের মাপা কর্নার থেকে নিখুঁত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা।
এরপর একচ্ছত্র সাকা-ম্যাজিক। অফসাইডের কারণে তাঁর একটি গোল বাতিল হয় ঠিকই। কিন্তু ৩৭ মিনিটে এবং প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে জোড়া গোল করে স্কোরলাইন ৪-০ করে দেন আর্সেনাল তারকা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার বিরতির আগেই চার গোল হজম করার চরম লজ্জায় ডোবে ফ্রান্স। অন্যদিকে প্রথম ৪৫ মিনিটেই ব্রোঞ্জ জয়ের ভিতটা পাকা করে ফেলে ইংরেজরা।
পিঠ যখন দেওয়ালে ঠেকেছে, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠে ফরাসি-গর্ব। বিরতির পর একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন করেন দিদিয়ের দেশঁ। আর তাতেই ভোলবদল। ৪৮ মিনিটে মাইকেল ওলিজের পাস থেকে ব্যবধান কমান এমবাপে । ছয় মিনিট পর তাঁরই নিখুঁত থ্রু বল ধরে স্কোরলাইন ৪-২ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এরপর ৬৬ মিনিটে ওলিজের আরও একটি পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি ছিনিয়ে নেন এমবাপে। ৪-০ থেকে স্কোর তখন ৪-৩! খাদের কিনারা থেকে ম্যাচে ফেরার প্রবল ইঙ্গিত দেয় গতবারের রানার্সরা। আর বিশ্বমঞ্চে গোলের নিরিখে মেসিকে টপকে সর্বকালের সেরার সিংহাসনে বসেন এমবাপেও। পাশাপাশি এক আসরে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের রেকর্ডও নিজের নামে করে নেন ওলিজে ।

ম্যাচ যখন খাদের কিনারায় ঝুলছে, ফরাসিরা সমতায় ফেরার তীব্র স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই স্বপ্নভঙ্গ। ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা । বিশ্বকাপের মূলপর্বে চতুর্থ ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে তিনবার বল জলে জড়ানোর সুবাদে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি।

নাটক অবশ্য তখনও বাকি। ইনজুরি টাইমে উসমান দেম্বেলে আরও একটি গোল করে ফরাসিদের ব্যবধান কমান (৫-৪)। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রতি-আক্রমণ থেকে দুরন্ত ফিনিশ করে ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন বদলি খেলোয়াড় জুড বেলিংহ্যাম । রুদ্ধশ্বাস লড়াই থামে ৬-৪ স্কোরে। দশ গোলের এই মহাকাব্যিক থ্রিলারে শেষমেশ ফরাসিদের খালি হাতে ফিরিয়ে পদক নিয়ে দেশে ফিরছে টমাস টুখেলের বাহিনী৷

