সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জনসম্পর্ক অভিযান’এর ছবি পোস্ট কাকলির , কর্মী–সমর্থকদের মন বুঝতে চাইছেন?
deshersamay

রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই ‘জনতার দরবার’ চালু করেছেন রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে বসে সরাসরি জনতার অভাব–অভিযোগ শুনছেন তিনি। অনেকটা তারই ধাঁচে এ বার ‘জনসম্পর্ক অভিযান’ শুরু করতে চলেছেন বারাসতের সাংসদ তথা লোকসভার এনসিপিআই দলের মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজেই পোস্ট করে এই খবর দিয়েছেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, মধ্যমগ্রামের দিকবেড়িয়ায় নিজের বাড়িতে প্রতি রবিবার বিকেল ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত জনসম্পর্ক অভিযান করবেন। কাকলি ঘনিষ্ঠদের দাবি, এর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের অভাব, অভিযোগ শোনার পাশাপাশি সাধারণ কর্মী–সমর্থক এবং ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চাইছেন।


শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় জনসম্পর্ক অভিযানের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের সকল নাগরিক ও তৃণমূল স্তরের দলীয় কর্মীদের আন্তরিক আমন্ত্রণ। আপনাদের কথা শুনে সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করাই আমার অঙ্গীকার। আসুন, মানুষের পাশে থেকে একসঙ্গে গড়ে তুলি আরও উন্নত ও শক্তিশালী বারাসত।’ তাঁর এই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলা রাজনীতিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাকলির সম্পর্কে চিড় ধরতে শুরু করে। বারাসতে তৃণমূল প্রার্থীদের হয়ে প্রচারেও তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয় এবং লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরে তিনি দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনসিপিআই দলে যোগ দেন। তারপর থেকেই তাঁকে বারাসতে দেখা যায়নি। বেশিরভাগ সময় দিল্লিতেই থাকছেন। এর মধ্যেই তিনি হঠাৎ জনসম্পর্ক অভিযানের কথা ঘোষণা করায় রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, তৃণমূল ছাড়ার পরে সাধারণ ভোটার এবং কর্মী–সমর্থকদের মনোভাব বুঝতেই তিনি এই ধরনের কর্মসূচি নিচ্ছেন। যদিও এ ব্যাপারে কাকলি সংবাদমাধ্যমের সামনে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। এসএমএসেরও জবাব দেননি।

