কলকাতা থেকে ১৮৮ কিমি দূরেই ঢুকে পড়ছে চিন ! অবাধ এন্ট্রি দিল বাংলাদেশ ,কী করবে ড্রাগনের দেশ
deshersamay

হাসিনা সরকারের পতনের পর দূরত্ব বেড়েছিল ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে। আর সেই দূরত্বের সুযোগই নিচ্ছে পড়শি দেশ চিন । তার প্রমাণ মিলল আবারও। চিন সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । চিনে গিয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

এর মধ্যে সবথেকে নজর কেড়েছে যে চুক্তি, তা হল মংলা বন্দরে চিনের অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি। এই চুক্তিতে স্বাভাবিকভাবেই ভারতের উদ্বেগ বেড়েছে, কারণ মংলা বন্দর থেকে কলকাতা খুব একটা দূরে নয়।

হাসিনা সরকারের পতনের পর, মহম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের মৌলবাদীরা ভারতের সেভেন সিস্টার্স দখলের হুমকি দিয়েছিল। এমনকী কলকাতা দখলের হুমকিও শোনা গিয়েছিল তাদের মুখে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসতে ধীরে ধীরে আবার দুই দেশের সম্পর্ক আগের মতো স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে ভারতের সঙ্গে পুরনো সখ্যতা গড়ে ওঠার আগেই বঙ্গোপসাগরে থাবা বসাতে ঢুকে পড়েছে ড্রাগনের দেশ।

জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর, মংলা বন্দরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ইকোনমিক জোন তৈরি করা হবে। চিনের একটি সরকারি সংস্থাকে এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের জন্য এটা উদ্বেগের, কারণ এই মংলা বন্দরের অবস্থান কলকাতা থেকে মাত্র ১৮৮ কিলোমিটার দূরে।
সুন্দরবন লাগোয়া, বাগেরহাট জেলায় ওই বন্দরে উৎপাদন শিল্প গড়ে তুলবে বেজিং। ওয়্যারহাউস ও পণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তি হওয়ার কথা ছিল ভারতের।
২০১৫ সালে, শেখ হাসিনার আমলে মংলা বন্দর ও চট্টগ্রামের মিরসরাই বন্দরের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মউ স্বাক্ষর হয়েছিল।
যৌথ উদ্যোগে খুলনা শহরের সঙ্গে মংলা বন্দরের রেলপথও তৈরি হয়। ওই বন্দর থেকে সোজা কলকাতায় যোগাযোগ স্থাপন হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের পালাবদলের পরই বদলায় ছবি। ভারত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারেনি, এই অভিযোগ তুলে ২০২৫ সালে মংলা প্রকল্পের বরাত ভারতের থেকে কেড়ে নেয় ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
তবে বন্দর চুক্তি হাতছাড়া হওয়ার থেকেও ভারতের কাছে বেশি চিন্তার বিষয় হল, চিনের গতিবিধি। এর আগেও একাধিক দেশে বাণিজ্যিক প্রকল্পের কাজের আড়ালে নজরদারি, গোয়েন্দাগিরি করার অভিযোগ রয়েছে চিনের বিরুদ্ধে। এবার কি মংলা বন্দর দিয়ে ভারতের উপরে নজরদারি চালাবে চিন?

বঙ্গোপসাগরে এতদিন ভারতের একারই নিয়ন্ত্রণ ছিল, সেখানেও ভাগ বসাতে পারে চিন। র্তমানে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের অন্তত ১৭টি বন্দর প্রকল্পে চিনা সংস্থাগুলি প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে। এবার বঙ্গোপসাগরেও ঢুকে পড়তে চাইছে চিন। যেহেতু চিন বিশ্বে সবথেকে বেশি তেল আমদানি করে এবং সেটা সম্পূর্ণই ভারত মহাসাগর দিয়ে ঢোকে, তাই মংলা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ চিনের হাতে আসলে, তেল আমদানির রুটও বদল করে ফেলতে পারবে।
