Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

যোগ দিবসে ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে কলকাতাবাসীকে নিয়ে কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?

deshersamay

Share article:

১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের  মূল অনুষ্ঠান এবার হয়েছে কলকাতায়। রবিবার রেড রোডে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আর কলকাতা সফর শেষ করেই শহরবাসীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন তিনি। কলকাতার মানুষের আতিথেয়তা এবং নাগরিক কর্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি বিশেষ বার্তা পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

কী লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী

মোদী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “চলতি বছরের যোগ দিবস কর্মসূচির এমন দুর্দান্ত আয়োজক হওয়ার জন্য আমি কলকাতার আমার সমস্ত ভাই ও বোনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই প্রাণবন্ত শহরে যোগ দিবস উদযাপন করতে পারা অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।”

এখানেই শেষ নয়, যোগ দিবসের আগে কলকাতা পৌরনিগম ও বিভিন্ন মহলের তরফে শহরজুড়ে যে সাফাই অভিযান চালানো হয়েছিল, তারও প্রশংসা শোনা গেছে প্রধানমন্ত্রীর মুখে। তিনি আরও যোগ করেছেন, “যোগ দিবসের প্রাক্কালে শহরজুড়ে যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছিল, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। একজন নাগরিকের কর্তব্য কীভাবে পালন করতে হয়, কলকাতার মানুষ সেই বিষয়ে এক বড় বার্তা দিয়েছেন।”

https://x.com/i/status/2068545049777066082

উল্লেখ্য, শনিবার ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনেই রেড রোডের অনুষ্ঠানে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের সঙ্গে তিনিও যোগাসনে অংশ নেন। ভাষণের শুরুতেই তিলোত্তমার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রশংসা করেছিলেন মোদী। আর এবার শহর ছাড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় কলকাতার ‘নাগরিক চেতনা’ নিয়ে তাঁর এই পোস্ট রাজ্য রাজনীতিতেও বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামকৃষ্ণ পমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দের মতো মনিষীদের প্রসঙ্গ এনে যোগে তাঁদের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। মোদী বলেন, “এই কলকাতা রামকৃষ্ণ পমহংসদেবকে গোটা বিশ্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ এই বাংলা থেকে বেরিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগের উপকারিতা তুলে ধরেছেন। ঋষি অরবিন্দ বলতেন, ‘আমার পুরো জীবনটাই যোগ। গীতায় যোগের কথা বলেছেন শ্রীকৃষ্ণ।”

বাংলা থেকেই যোগ দিবসের জয়গাঁথা মোদীর মুখে

প্রসঙ্গত, এবারের কলকাতা সফর শুধুমাত্র যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রেড রোডের কর্মসূচি সেরে প্রধানমন্ত্রী সোজা পৌঁছে গিয়েছিলেন গার্ডেনরিচে । সেখানে গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স -এর তৈরি তিনটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেন তিনি। 

দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে গোটা দেশ সহ গোটা বিশ্বের নজর ছিল বাংলায়। রেড রোডে মহাসমারোহে পালিত হল  যোগ দিবসের বিশেষ কর্মযজ্ঞ। উপস্থিত ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  রাজ্যপাল আর এন রবি। শুরুতেই বাংলায় যোগ ফেরানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, “পশ্চিমবাংলায় হারিয়ে যাওয়া, ভুলিয়ে যাওয়া যোগকে ২০২৬ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে আমাদের মধ্যে ফিরিয়ে দিলেন প্রধামন্ত্রী। শতকোটি প্রণাম জানাই।”

শুভেন্দুর পরেই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরুতেই বাংলায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। টেনে আনেন ইতিহাস। বলেন, “বাংলার পুণ্যভূমিতে যোগ দিবস পালন বড় প্রাপ্তি। কলকাতাবাসী স্বচ্ছতার সঙ্গে দিনটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। যোগে কোনও বয়সের সীমা থাকে না। যোগ দিবস তুলে ধরেছে দেশে ঐক্যের ছবি। যোগ মানব জীবনের চেতনার প্রকাশ। সবাইকে জুড়ে দিয়েছে যোগ দিবস। একটা গোটা দেশ এক হয়েছে। ২১ জুন বিশ্বের অন্যতম উৎসবের রূপ নিয়েছে।”

এখানেই না থেমে যোগের উপকারিতার কথাও ফের একবার তুলে ধরেন মোদী। যোগ কীভাবে মন ও শরীরকে শান্ত রাখে, একমুখী করে, জীবনে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, “বয়সকালে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে যোগ। রোজ যোগাভ্যাস করলে মন শান্ত থাকে, উদ্বেগকে দূরে রাখা যায়। যোগ দুঃখের বিনাশ করে। যোগ জীবনের ভারসাম্য রাখা শেখায়। কী করা উচিত, কী করা উচিত নয়, তা শেখায় যোগ। যখন আমরা শরীরকে সঠিকভাবে চালানো শিখে নিই, তখন সুস্বাস্থ্য আমাদের সর্বদাই সঙ্গে থাকে। শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে না, মানসিক স্বাস্থ্য থেকে শারীরিক স্বাস্থ্যের মার্গ দেখায়।”   

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery
Menu
© 2026 Desher Samay.