এবার বনগাঁ হাইস্কুলে আর্থিক দুর্নীতির নথিপত্র সরানোর অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে: দেখুন ভিডিও

0
4

আগেই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছিল স্কুল শিক্ষা দপ্তরে। আর এবার সেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকই স্কুল ছুটির পর স্কুলের আলমারি খুলিয়ে অর্থ সংক্রান্ত সমস্তরকমের বিল, ভাউচার নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন। বনগাঁ হাইস্কুলের এই ঘটনায় ফের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের এমন অনৈতিক কাজের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্কুলের অন্যান্য সহশিক্ষকেরা।

শুক্রবার সকালে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। আর বনগাঁ হাইস্কুল মহকুমার মেন সেন্টার হওয়ায় এদিন এখান থেকে বিভিন্ন স্কুলের পরীক্ষার্থীদের মার্কশিট বিতরণ করা হয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে স্কুলের সহশিক্ষকেরা দেখেন যে, স্কুলে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত। খোঁজ নিয়ে স্কুলের একজন ক্লার্কের কাছ থেকে শিক্ষকেরা জানতে পারেন যে, বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক কুনাল দে ফের স্কুলে আসেন।

শুধু তাই নয়, স্কুলের সহশিক্ষক বিপ্লব কুন্ডু, আবদুল্লা মন্ডলেরা জানান, এদিন স্কুলের ক্লার্ককে বাড়ি থেকে ডাকিয়ে এনে স্কুলের আলমারি খুলিয়ে প্রধান শিক্ষক ২০১৯ সাল থেকে তাঁর আমলের মিড ডে মিল, ছাত্রদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ সহ বিভিন্নরকমের অর্থনৈতিক বিল, ভাইচার, মিড ডে মিলের হিসেবের খাতা নিজের বাড়িতে নিয়ে চলে যান।

সহশিক্ষকেরা আরও জানান, দিন কয়েক আগেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কুনাল দে এর বিরুদ্ধে স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে স্কুলের ৫০ জন শিক্ষক–শিক্ষিকার যৌথ স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র স্কুল শিক্ষা দপ্তরে জমা পড়ে। এই অবস্থায় নিজের দোষ আড়াল করতে এবং বিল, ভাইচারে কারসাজি করতেই স্কুলের সমস্ত বিল, ভাউচার বিআইনিভাবে নিজের বাড়িতে নিয়ে রেখেছেন।  দেখুন ভিডিও

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি নাকি স্কুলের এক অস্থায়ী কর্মীকে দিয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে ব্ল্যাঙ্ক বিল আনিয়ে তার উপরে মিড ডে মিলের খরচের অঙ্ক বসিয়ে বিল তৈরি করতেন। এদিন স্কুলে এসে এমন ঘটনার কথা জানতে পেরে ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন স্কুলের সহশিক্ষক–শিক্ষিকারা। যদিও এই ঘটনার সময় প্রধান শিক্ষক স্কুলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে দীর্ঘ সময় পর প্রধান শিক্ষক স্কুলে উপস্থিত হলে স্কুলের শিক্ষকেরা যৌথভাবে তাঁর ঘরে উপস্থিত হয়ে তাঁর এই বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং ভৎসনা করেন।

যদিও এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক কুনাল দে এ ব্ল্যাঙ্ক বিল আনানোর কথা স্বীকার করে বলেন, মিড ডে মিলের হিসেব অল্প কাগজের মধ্যে রাখার জন্য এই বিল আনানো হতো। আর মিড ডে মিল সহ অন্যান্য বিষয়ের বিল, ভাউচারগুলি স্কুলের আলমারিতে রাখা নিরাপদ নয় মনে করে তিনি সেগুলি সব নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

প্রধান শিক্ষকের এহেন কাজের তীব্র নিন্দা করেছেন বিভিন্ন স্কুলের প্রাক্তন এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষকেরা। তাঁদের বক্তব্য, বনগাঁ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক যা করেছেন, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ করা উচিৎ শিক্ষা দপ্তরের।

Previous article‘আমি নয়, আমরা…’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পরই সরকারের নীতি বেঁধে দিলেন ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here