Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

২১-এর পুনরাবৃত্তি ২৬-এ ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’কে হারালেন শুভেন্দু

deshersamay

Share article:

রাজনীতির ময়দানে তিনি নিজেকে ‘ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে’ হিসেবেই পরিচয় দিতে ভালবাসেন। নিজের এই কেন্দ্রকে আদর করে ডাকতেন ‘বড়বোন’ বলে, আর নন্দীগ্রাম ছিল তাঁর ‘মেজোবোন’। কিন্তু সোমবারের ফলাফল এক রূঢ় বাস্তবকে সামনে এনে দিল। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামের মাটিতে যা ঘটেছিল, এবার খাস ভবানীপুরেও ঠিক তার পুনরাবৃত্তি হল। শুভেন্দু অধিকারীর দাপটে ‘মেজোবোনের’ পর এবার ‘বড়বোনকেও’ হারাতে হল তৃণমূলনেত্রী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ঘরের মাঠে ঘরের মেয়েকে হারতে হলো দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক কঠিন লড়াইয়ে।

বিধানসভা নির্বাচনের এই ফলাফল ঘোষণার আগেই অবশ্য নন্দীগ্রামের ছবিটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী আবারও জয়ী ঘোষিত হন। তবে সবার নজর ছিল ভবানীপুরের দিকে। কারণ তিনি এবার সরাসরি মমতাকে তাঁরই খাসতালুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। সেই চ্যালেঞ্জে কেবল জয়ী হওয়াই নয়, মমতাকে তাঁর নিজের কেন্দ্রেই পরাস্ত করে এক অনন্য নজির গড়লেন শুভেন্দু।

সোমবার সকাল থেকেই ভবানীপুরের ভোট গণনা ঘিরে ছিল টানটান উত্তেজনা। ২০ রাউন্ডের এই দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রতি পদে ছিল স্নায়ুর চাপ। প্রথম রাউন্ডে মমতা সামান্য লিড পেলেও দ্বিতীয় রাউন্ডেই ব্যবধান কমিয়ে আনেন শুভেন্দু। শুরুর কয়েক রাউন্ড এভাবেই লুকোচুরি খেলা চলতে থাকে। এক সময় মনে হয়েছিল ভবানীপুর বুঝি তাঁর মেয়েকেই দু-হাত ভরে আশীর্বাদ করছে, কারণ পঞ্চদশ রাউন্ড পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা লিড ধরে রেখেছিলেন।

কিন্তু আসল খেলা শুরু হয় সপ্তম রাউন্ডের পর থেকে। সেই সময় থেকেই নিঃশব্দে নিজের ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে থাকেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রতি রাউন্ডে একটু একটু করে ব্যবধান কমিয়ে আনতে শুরু করেন তিনি। অবশেষে ষোড়শ রাউন্ডে গিয়ে বড়সড় চমক দেন বিজেপি প্রার্থী। মমতাকে টপকে লড়াইয়ের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ভবানীপুর কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৮১০ ভোটে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের দুই দুর্গ হারিয়ে তৃণমূলনেত্রীর এই পরাজয় এখন রাজ্য রাজনীতির সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়। শুভেন্দুর এই ‘ডবল জয়’ প্রমাণ করে দিল যে, মেজোবোনের পর বড়বোনের ঘরেও এবার পদ্ম ফুটেছে। 

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.