‘আমাকে জেলে ঢুকিয়ে দিন, আরও বেশি ভোট পাব , না হলে গুলি করে মেরে দিন’!’এত সাহস, আমার সঙ্গে কথাও বলে না !’ মমতার নিশানায় কে?

0
68

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পর থেকেই ঝোড়ো প্রচারে নেমেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, ১৩ এপ্রিল, সোমবার দক্ষিণবঙ্গের চার হেভিওয়েট কেন্দ্রে নিজের শক্তি প্রদর্শন করলেন তিনি। সিউড়ি থেকে শুরু করে আউশগ্রাম, বাঁকুড়া হয়ে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর, একই দিনে চারটি মেগা কর্মসূচিতে যোগ দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

গরমের সঙ্গেই চড়ছে ভোট-রাজনীতির পারদ। আজও একে অপরের বিরুদ্ধে নিশানা শানাল তৃণমূল ও বিজেপি। এদিন ফের একবার নির্বাচন কমিশন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নাম না করে সরব হলেন তৃণমূলনেত্রী। দুর্গাপুর পশ্চিমের চতুরঙ্গ ময়দানের জনসভা থেকে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমার সঙ্গে কথাও বলে না। এত সাহস ! আমি এখনও নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আছি।” তাঁর কথায়, “সব অফিসার বদলি। আমার আন্ডারে সব কেড়ে নিয়েছে। এটা সুপার এমার্জেন্সি করে দিয়েছে। ভ্যানিশ কুমার আর বিজেপি মিলে। বিজেপি যা বলছে, তা-ই তোতাপাখির বুলি ! একেবারে বেড়ে খেলছে। কেউ কেউ তো বেড়ে খেলছে। যেন মনে হচ্ছে, শুধু নিজেকে বাঁচানো, আর সংসার বাঁচানো। আর বিজেপির দালালি করা যাতে পরে ভবিষ্যতে কেউ কেউ কোনও পদ পেতে পারেন। দালালি করতে গিয়ে চিফ সেক্রেটারি বদলেছে বাংলার। মনে রাখবেন, আমার সঙ্গে কথাও বলে না। এত সাহস ! আমি এখনও নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আছি। হোম সেক্রেটারি বদলেছে। ডিজি বদলেছে, পুলিশ কমিশনারদের বদলেছে। ডিএমদের বদলেছে। বেছে বেছে বিজেপির লোক এনে বসিয়েছে।”

SIR-এ নাম বাদ পড়া নিয়ে এদিনও সরব হন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, “কাটল ভোট। কোর্টেও পর্যন্ত গেলাম। বিচার চাইতে। ৩২ লক্ষ লোকের নাম উঠল। এখনও অনেক বাকি আছে। বিজেপি আগে জবাব দাও, হিম্মত আছে তো ‘২৪-এর লিস্টে ভোট করাও। নাম কেটে ভোট করাবে না। আর তা নাহলে তোমাদের প্রধানমন্ত্রী এই লিস্টে জিতেছেন, পদত্যাগ করুক।

সবাই অনুপ্রবেশকারী ? দুর্গাপুরের লোকেরাও অনুপ্রবেশকারী ? বর্ডারের লোকেদের বলে অনুপ্রবেশকারী, আপনারাও অনুপ্রবেশকারী ? মানুষকে অসম্মান করার একটা লিমিট তো আছে। এর বিরুদ্ধে মাথা তুলবেন না ? এখনও জাগবেন না ?” 

দুর্গাপুরে ফের কমিশন এবং বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘‘কেউ কেউ তো বেড়ে খেলছে। শুধু নিজেকে আর সংসার বাচাতে। দালালি করতে গিয়ে চিফ সেক্রেটারি, হোম সেক্রেটারি বদলে দিয়েছে। আমি তো অ্যাক্টিং চিফ মিনিস্টার। আজ আমার কাছে খবর এল, সিএস ডিজিরা যাচ্ছে জেলায় জেলায়। তারা গিয়ে জেলা প্রশাসনের অন্যদের বলছে, তৃণমূলের যারা বুথ এজেন্ট হবে, তাদের গাঁজা কেসে গ্রেফতার করতে হবে। আমি বলি, নিজেরা গাঁজা খাও তো! লজ্জাও করে না? বলছে ভোটের দিন বিজেপির লোকেরা ইলেকশন কমিশনের লোক সেজে মনিটরিং সেলে বসে থাকবে। দালালগুলো! অত্যাচারীগুলো! যাদের নিজের চরিত্রের ঠিক নেই, তারা অন্যের চরিত্রের কথা বলে। এই করে ভোটে জিতবেন? তা হলে আমাকে জেলে পাঠিয়ে দিন না। জেলে বসে আমি আরও বেশি ভোটে জিতব। আর না হলে আমাকে গুলি করে মেরে দিন। আমার উপর এত রাগ কেন?’’ 

কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়ে মমতা বলেন, “আজ আমার কাছে খবর এল, সিএস-ডিজিরা যাচ্ছেন জেলায় জেলায়। গিয়ে, অন্যান্য যারা আছেন জেলা প্রশাসনে, তাঁদের গিয়ে বলা হচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের যারা বুথ এজেন্ট হবেন, যারা গুরুত্বপূর্ণ কর্মী আছেন, তাঁদের সবাইকে গ্রেফতার করতে হবে গাঁজা কেসে। আমি বলি, নিজেরা অনেক গাঁজা খাও তো…তাই গাঁজা কেস খুঁজছো ? লজ্জাও করে না ! রিটায়ার্ড দুটো অফিসার এখানে বসে আছেন…নির্লজ্জ, বেহায়া। বলছে, মধ্যরাতে অপারেশন করে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের গ্রেফতার করো। কেউ ভয় পাবেন না। বলছে, ভোটের দিন বিজেপির লোকেরা নির্বাচন কমিশনের লোক সেজে মনিটরিং সেলে বসে থাকবেন। দালালগুলো। যাদের নিজেদের চরিত্রের ঠিক নেই তারা অন্যের কথা বলে ! সারা পৃথিবীর মানুষ যানে এদের কী চরিত্র।”

‘‘মহাশয়ের রাজ্যে উন্নাওয়ের বিচার হয়েছে? বিলকিস বিচার পেয়েছেন? বলছেন, সোনার বাংলা গড়বেন। বলছেন, সব শূন্যপদ পূরণ করবেন। আগে নিজেদের রাজ্যে চাকরি দিন। বছরে ২ কোটি চাকরি কোথায়?

Previous articleদুই ‘ফুল’-এর দুই মিছিল মুখোমুখি, রবিবাসরীয় প্রচারে উত্তপ্ত বনগাঁ
Next articleবনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের বৈচিত্রময় দেওয়াল লিখন এই মুহূর্তে ‘টক অফ দ্য টাউন: দেখুন ভিডিও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here