

পাল্টা চাল ইরানের। মঙ্গলবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহ নিয়ে কথা হয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে মোদিকে আশ্বস্তও করেছেন ট্রাম্প। এরপরেই পাল্টা চাল ইরানের।

ভারতের জন্য হরমুজ প্রণামী খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। ভারত ছাড়াও হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরাকের জন্য।
বুধবার গভীর রাতে এই কথা জানিয়েছেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরান অবশ্য আগেই জানিয়েছিল, তাদের সঙ্গে শত্রুতা নেই, এমন দেশের জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে দিতে রাজি তারা। তবে কোন কোন দেশ সেই তালিকায় রয়েছে, তা তখনও স্পষ্ট ছিল না। বুধবার আবার খবর ছড়িয়ে পড়ে পাকিস্তানমুখী একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময়ে বাধার মুখে পড়েছে।

এটা ঘটনা, আমেরিকা এবং ইরানের সংঘর্ষ থামানোর জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এই অবস্থায় মাস্টারস্ট্রোক দিল ইরান। তেহরান জানাল, ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরাক হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। ইরানের সরকারি টেলিভিশনে আরাঘচি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালী একেবারে বন্ধ নেই। ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে, এমন বেশ কিছু দেশের জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

আরাঘচি এরপরই যোগ করেন, ‘নিরাপদে জাহাজ চলাচলের জন্য বিভিন্ন দেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশকে আমরা বন্ধু বলে মনে করি। সেক্ষেত্রে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সেই জাহাজগুলিকে নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তার মধ্যে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক এবং ভারতের জাহাজ রয়েছে। কয়েক দিন আগে ভারতের দু’টি জাহাজ এই পথ দিয়ে গিয়েছে। সম্ভবত বাংলাদেশের জাহাজও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাবে।’

তবে আমেরিকা ও ইজরায়েলের নাম হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য একেবারেই নেওয়া হয়নি। এটা ঘটনা, দু’দিন আগেই রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরান জানিয়েছিল, যে সব জাহাজকে ইরান নিজের শত্রু বলে মনে করবে না, তারাই হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। তবে সেই যাতায়াতে কিছু শর্তও আরোপ করা হয়েছিল। এবার পাঁচ দেশের নাম জানাল ইরান। যারা ব্যবহার করতে পারবে হরমুজ প্রণালী।

ইরানের এই সিদ্ধান্তের ফলে জ্বালানি সংকট থেকে মুক্তি পেতে চলেছে ভারত সহ বাকি দেশগুলি। যাদের হরমুজ প্রণালী ব্যবহারে কোনও বাধা নেই।




