

West Bengal Assembly Election 2026 ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করে দিয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে মেগা প্রচার যুদ্ধে কোমর বেঁধে নেমে পড়ল ঘাসফুল শিবির । একদিকে উত্তরবঙ্গ চষে বেড়াচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে ব্যাটিং শুরু করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে এদিন প্রচারের সুর বাঁধার আগেই দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি-র ‘যোগসাজশ’ নিয়ে অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। একটি কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বিজেপি-র নির্বাচনী চিহ্ন
দেখিয়ে তিনি বলেন, “ঠাকুরঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি! ব্যাক ডোর দিয়ে না খেলে সামনাসামনি লড়াই করুন।”

মঙ্গলবার দুপুরে উত্তরবঙ্গ রওনা হওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা। হাতে একটি কাগজ দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপি-র চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “কমিশন কার ইশারায় চলছে? সবাই সব বুঝতে পারছে। যে আধিকারিক নন্দীগ্রামে কাজ করেছেন, তাঁকে কেন ভবানীপুরে আনা হল? কারণ তিনি ‘গদ্দারের’ ঘনিষ্ঠ লোক।”

কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে প্রায় ৭০ জন আইএএস-আইপিএস আধিকারিককে ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কি ক্ল্যারিক্যাল মিস্টেক না কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য?”

ভোটার তালিকার অসংগতি নিয়েও এদিন সরব হন তৃণমূল নেত্রী। সোমবার মধ্যরাতে প্রকাশিত অতিরিক্ত বা ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা নিয়ে তাঁর অভিযোগ, “কাল মাঝরাতে কেন তালিকা বেরোল? এখনও মানুষ জানে না কার নাম আছে আর কার নেই। কোনও বুথে বা জেলায় তালিকা টাঙানো হয়নি। তালিকায় স্বচ্ছতা থাকলে এত সময় লাগত কেন?”

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে রাজ্যে ইতিমধ্যেই ২২০ জন মারা গিয়েছেন বলে দাবি করেন মমতা। এদিন দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের কাছেও গণতন্ত্র রক্ষার আবেদন জানান দলের সর্বময় নেত্রী। তিনি বলেন, “বাম-ডান ভুলে গিয়ে সংবিধান বাঁচাতে একজোট হয়ে লড়াই করুন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে বিজেপি। আমি শিলিগুড়ি পৌঁছনোর পর হয়তো ওরা বলবে কত নাম বাদ গিয়েছে। কেন মানুষকে এভাবে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে?”

বস্তুত, মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জলপাইগুড়ির চালসায় রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। ঠিক তখনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় জনসভা করে দক্ষিণবঙ্গে প্রচার শুরু করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ও দক্ষিণে এই দুই হেভিওয়েটের জোড়া ফলায় প্রচারের ময়দানে অন্য দলগুলির তুলনায় অনেকটা এগিয়ে থাকতে চাইছে শাসক দল।




