

PM Narendra Modi : আজ সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধ যখন থেকে শুরু হয়েছে তখন থেকে ভারতীয়দের নিরাপত্তায় সচেষ্ট রয়েছে নয়া দিল্লি। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। তার মধ্যেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন। তাঁদের পরিবারকে সাহায্য করা হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসায় সাহায্য করা হচ্ছে। প্রভাবিত দেশগুলিকে ভারতীয়দের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম ও নম্বর চালু করা হয়েছে। সংকট পরিস্থিতি ভারতীয়দের সুরক্ষাই অগ্রাধিকার।”

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতে সংসদে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি যথেষ্ঠ উদ্বেগের। আর তা ভারতের আর্থিক, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে ভারতের জন্য। তবে, তিনি জানিয়েছেন সব পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রয়েছে ভারতের। আতঙ্কের কোনও কারণ এই মুহূর্তে নেই। হরমুজ় দিয়েও তেল আমদানিতে সচেষ্ট রয়েছে ভারত। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, ভারত শান্তিরই পক্ষে। আলোচনা, কূটনীতিক মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে
এদিন তিনি দেশে জ্বালানি, সারের জোগান নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন। তিনি জানান, ভারতে যাতে জ্বালানি সঙ্কট দেখা না যায়, সে দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। এলপিজি (রান্নার গ্যাস)-র উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। যুদ্ধের সঙ্কট দীর্ঘমেয়াদি হবে, এ কথা জানিয়ে বিরোধীদেরও সাহায্য চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “সঙ্কটের মুখে সংসদ একজোট হোক, এটাই কাম্য।”

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, বক্তৃতার শুরুতেই তা স্বীকার করে নেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ় প্রণালীর গুরুত্ব যে অপরিসীম সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখা কিংবা পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানো গ্রহণযোগ্য নয়। এই সূত্রেই তিনি আশ্বাসের সুরে জানান, দেশে পেট্রল, ডিজ়েল এবং গ্যাসের জোগান সুনিশ্চিত রাখতে সব ধরনের চেষ্টা করছে কেন্দ্র।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার চেষ্টা করছে যাতে পেট্রল, ডিজ়েল এবং গ্যাসের জন্য কোনও পরিবারকে ভুগতে না হয়।।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “ভারত তার প্রয়োজনের ৬০ শতাংশ গ্যাস অন্য দেশ থেকে কিনে থাকে। আমরা আমাদের দেশেও এলপিজি উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী জানান যে, গত ১১ বছরে তেল আমদানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে ভারত। আগে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করত নয়াদিল্লি। মোদী জানিয়েছেন, এখন ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি কথায়। মোদী এ-ও জানান যে, ভারতে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন জ্বালানি রাখার ভান্ডার রয়েছে। তবে জ্বালানির জোগান অব্যাহত রাখতে ভারতের দিকে আসা তেলবাহী, গ্যাসবাহী জাহাজগুলির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সমগ্র পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যে সতর্ক ও সক্রিয়, সংসদে সেই বার্তাই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রসঙ্গত ,ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের আঁচ ক্রমেই বাড়ছে। নিশ্চিন্ত থাকতে পারছে না ভারতও। এই যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যেই এলপিজি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে সরকার। এবার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার, ২২ মার্চ নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্য়াবিনেট কমিটির বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাফ বার্তা- যুদ্ধের আঁচ যেন সাধারণ মানুষের উপরে না পড়ে। তাদের রক্ষা করতে হবে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্য়াবিনেট কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সহ প্রমুখ। সরকারি সূত্রে খবর, ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে যুদ্ধ ও সঙ্কট নিয়ে স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী-দুই উপায় নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে যাতে প্রয়োজনীয় পণ্য়ের সরবরাহ বজায় থাকে। পাশাপাশি শক্তি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়।
সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস, খাবার থেকে শুরু করে জ্বালানির হিসাব কষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট পেশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন যে ইরানের সংঘাতের প্রভাব গোটা বিশ্বের উপরে পড়ছেে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকরা যাতে যুদ্ধের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকে, তার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ করতে হবে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে পর্যাপ্ত পরিমাণ কয়লা মজুত রাখা হবে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলিতে যাতে বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি বা সঙ্কট দেখা না দেয়। এছাড়া পেট্রোকেমিক্যাল, কেমিক্যাল, ওষুধ ও অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। সারের সরবরাহও বজায় রাখতে বলা হয়েছে, যাতে খাদ্য সঙ্কট দেখা না দেয়। ভবিষ্যতে বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বৈঠক প্রসঙ্গে লিখেছেন, “পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠক করলাম। আমরা স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছি। কৃষকদের জন্য সারের জোগান থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে একাধিক আমদানির পথ তৈরি, রফতানির জন্য নতুন জায়গা খুঁজে নেওয়া সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা যুদ্ধের প্রভাব থেকে নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
https://x.com/i/status/2035752813620584802




