Adhir Chowdhury: ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে অধীরই ভরসা! ২৬ বছর পর বহরমপুর থেকে বিধানসভায় লড়ছেন কংগ্রেসের `রবিনহুড` , নিশ্চিত করল মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস

0
117

আড়াই দশক সংসদের অলিন্দে দেখা গিয়েছে তাঁকে। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতার দায়িত্বও পালন করেছেন। তা বলে বিধানসভার অন্দরে যে তাঁকে দেখা যায়নি, এমনটা নয়। তবে তা ২৬ বছর আগে। আর ২৬ বছর পর ফের বহরমপুর কেন্দ্র থেকেই আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন অধীর চৌধুরী।

এ যেন এক বৃত্তের সম্পূর্ণ হওয়া। ডুবন্ত জাহাজকে রক্ষা করতে শেষ পর্যন্ত সেই জাহাজের হাল ধরলেন বহু বছর আগে অন্যত্র চলে যাওয়া ক্যাপ্টেন।  রাজ্য রাজনীতিতে এক সময় মুর্শিদাবাদ জেলা বললেই সকলের চোখের সামনে ভেসে উঠত কংগ্রেস এবং অধীর চৌধুরীর নাম। এমনকী রাজ্যে বাম শাসনকালেও মুর্শিদাবাদ জেলায় বড়সড় কোনও আঁচড় কাটতে পারেনি  শাসক দল। ২০১১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস জোট বেঁধে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ধীরে ধীরে মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেস ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হয়েছে। 

যে অধীর চৌধুরীর ডাকে এক সময় হাজার হাজার লোক জড়ো হতেন সেই মুর্শিদাবাদ জেলাতেই এখন আর কংগ্রেসের হাতে কোনও বিধায়ক এমনকী একক ক্ষমতায় দখল করা কোনও গ্রাম পঞ্চায়েত পর্যন্ত নেই। 

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এবার ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া কংগ্রেস। একদা দেশের সংসদের বিরোধী দলনেতা তথা রেল দপ্তরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী অধীর চৌধুরীর হাত ধরে সেই প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে কংগ্রেস। মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের তরফে বুধবার জানানো হয়েছে  বহরমপুর কেন্দ্র থেকেই আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন অধীর চৌধুরী। সেখানে তাঁকে কড়া টক্কর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত গতবার বহরমপুর বিধানসভা  কেন্দ্র থেকে  বিজেপির টিকিটে জয়ী প্রার্থী সুব্রত মৈত্র এবং তৃণমূল প্রার্থী তথা বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি।

মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতির সঙ্গে ওয়াকিবহাল অনেকেই বলেন, জেলা রাজনীতিতে সুব্রত মৈত্রের উত্থান অধীর চৌধুরীর হাত ধরে। বহরমপুর পুরসভার একজন সাধারন কাউন্সিলর হিসেবে। অধীর চৌধুরী রাজনৈতিক ‘ক্যারিয়ার’ যখন মধ্য গগনে সেই সময়ে নাড়ুগোপাল মুখার্জিও তাঁর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। যদিও  সেই সময় কংগ্রেসে বড় কোনও পদাদিকারী তিনি ছিলেন না। বহরমপুর পুরসভার এক কর্মী হিসেবে অধীর চৌধুরীর সঙ্গে নাড়ুগোপাল মুখার্জির ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল। 
সেই হিসেবে দেখতে গেলে এবার বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মূল লড়াই হতে চলেছে গুরু এবং তাঁর দুই শিষ্যের মধ্যে। 

নকশাল রাজনীতি ছাড়ার পর বাম জমানায় অধীর চৌধুরীর সঙ্গে আরএসপি-র সখ্যতা গড়ে উঠেছিল।  পরবর্তীকালে কংগ্রেসে যোগদান করার পর অধীর চৌধুরী মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে নিজের  ‘রবিনহুড’ ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন। 

১৯৯১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অধীর চৌধুরী নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। নির্বাচনের দিন অধীর চৌধুরীকে বাঘিরা গ্রামে একটি ঘরের মধ্যে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছিল বামেদের বিরুদ্ধে। 

এই ঘটনার পর আরও শক্তিশালী হয়ে ১৯৯৬ সালে ‘পলাতক’ অবস্থায় নির্বাচনে  লড়ে নবগ্রাম কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। নির্বাচনের সময় ‘পলাতক’ থাকায় তিনি প্রকাশ্যে এসে প্রচারও করতে পারেননি।  অধীর চৌধুরীর সমর্থকরা মাইকে করে তাঁর বক্তব্য গ্রামে ঘুরে ঘুরে প্রচার করতেন সেই সময়। 

অনেকেই বলেন অধীরবাবু হাত ধরেই লোকসভায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল প্রণব মুখার্জির। দেশের রেল দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী-সহ সংসদে বিরোধী দলনেতার ভূমিকাও পালন করেছেন অধীর। ২০২৪-এর  লোকসভা নির্বাচনে ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাজয়ের আগে একটানা ২৫ বছর বহরমপুরের সাংসদ ছিলেন তিনি। 
সূত্রের খবর, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় ‘সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি’ ইতিমধ্যেই বহরমপুর কেন্দ্র থেকে অধীর চৌধুরীর প্রার্থী পদে সিলমোহর দিয়েছে। অধীর চৌধুরীর নিজেও এই কমিটির একজন সদস্য। 

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল করতে মরিয়া কংগ্রেস এবার বামেদের সঙ্গে জোট না করে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  বামেদের তরফ থেকে তাদের প্রথম দফার যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে এখনও বহরমপুর কেন্দ্রে কাউকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসেরই যে মূল লড়াই হবে তা বলাই বাহুল্য। 

কংগ্রেস সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের পুরনো ‘গড়’ ফিরে পেতে মরিয়া অধীর চৌধুরী এবার নিজে হাতে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী ঠিক করেছেন। সম্ভবত আজই ‘সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি’র নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ঠিক হওয়া প্রার্থী তালিকা এআইসিসি-র  তরফ থেকে দিল্লি থেকে ঘোষণা করা হবে।

মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসে মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন,”পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া বাকি যে সমস্ত রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হচ্ছে সেখানকার প্রার্থী তালিকা এআইসিসি-র তরফ থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হবে।”

তিনি বলেন,”তবে ইতিমধ্যেই একাধিক নাম কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে  বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ঘোরাফেরা করছে। এই নামগুলোর মধ্যে অনেকেই  আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতীকে লড়াই করবেন।  আমরা নিশ্চিত করছি অধীর চৌধুরী বহরমপুর কেন্দ্র থেকেই কংগ্রেসের প্রার্থী হতে চলেছেন।”

দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে রাজি হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন,”দল চেয়েছে তাই আমি প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি।” তিনি বলেন,” আমার লোকসভায় যাওয়ার রাস্তা বহরমপুর দিয়েই শুরু হয়েছে। আমি বহরমপুরকে কখনও ছেড়ে যাইনি।”

এই বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি বিধানসভা হল বহরমপুর। এই কেন্দ্রে অধীরের প্রভাবও যথেষ্ট ছিল একসময়। কিন্তু, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সুব্রত মৈত্র বহরমপুরে জয়ী হন। এবারও জয়ী বিধায়ককেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। আর তৃণমূল প্রার্থী করেছে নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে। এই পরিস্থিতিতে অধীর এই কেন্দ্রে দাঁড়ালে ত্রিমুখী লড়াইয়ের জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের প্রয়াত মুখপাত্র খাইরুল খন্দকার অধীর চৌধুরীকে  ‘ক্যাপ্টেন’ বলে ডাকতেন। এখন এটাই দেখার সেই ‘ক্যাপ্টেন’ কি পারবেন মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের পুরনো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে।অধীরের এই প্রত্যাবর্তন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

Previous articleপুলিশ সুপারদের পরে এ বার  ১১টি জেলার DM বদল করল নির্বাচন কমিশন , কলকাতাতেও নতুন দুই DEO
Next articleসোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার,ডাকসাইটে সুন্দরী,বিধানসভা ভোটে বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রথমবার প্রার্থী হয়েই ঝড় তুলেছেন ঋতুপর্ণা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here