Mamata Banerjee: অভিষেকের প্রস্তাবে সায় ,পাঁচ দিনের মাথায় ধর্না তুলে নিলেন মমতা, দেখা করতে যাচ্ছেন আনন্দ বোসের সঙ্গে
deshersamay


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: যে হেতু অনেকটা বিচার পাওয়া গিয়েছে, আমরা পাঁচদিন রাস্তায় আছি। অভিষেক সবার মতামত নিয়েছেন। অভিষেকের প্রস্তাবে আমরা আজকে ধর্না তুলে নিচ্ছি।


সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, মঙ্গলবারেও আর্জি জানান, স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে, ধরনা কর্মসূচি তুলে নিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সন্ধেয় ধরনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বললেন, ‘অভিষেকের যে প্রস্তাব, বিচারের দরজা যখন উন্মুক্ত হয়েছে, তাহলে আমরা কি আজকের মতো, স্ময়িক ধরনা তুলে নিতে পারি?’

এসআইআর-এ বিচার পাওয়ার লড়াইয়ে ধর্মতলায় টানা পাঁচ দিনের অবস্থান আজ শেষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তবে ধর্না তোলার আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মতামত নিয়ে নেত্রী স্পষ্ট করে দিলেন— বিচারের দরজা এখন খোলা। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, ইতিহাসের চাকা ঘোরে এবং তার পুনরাবৃত্তি অনিবার্য।
ধতুলে দিয়ে মমতা জানান, এবার তিনি ধর্মতলা থেকে সোজা ‘সৌজন্য’ সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে। এখানে বলে রাখা দরকার, আনন্দ বোস এই মুহূর্তে যেখানে রয়েছেন সেটি আলিপুরের ‘সৌজন্য’।

এদিন বক্তৃতার শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী ফিরে যান সিঙ্গুর আন্দোলনের দিনগুলিতে। তিনি বলেন, “আমি দরকার হলে ৫০ দিনও থাকতে পারি। এখানে সিঙ্গুরের জন্য ২৬ দিন অনশন করেছিলাম। দেখুন, ইতিহাস কেমন মিলিয়ে দিয়েছে। সিঙ্গুরে যে লোকটা জোর করে চাষিদের জমি কেড়ে নিয়েছিলেন, আজ সেই লোকটাকেই নির্বাচন কমিশন এখানে বড় পদে বসিয়ে পাঠিয়েছে।” নাম না করে কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে এভাবেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি। তাঁর দাবি, এই লড়াই কেবল ভোটের নয়, অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের।

টানা পাঁচ দিন ধর্মতলার মতো ব্যস্ত জায়গায় মাইক-বক্স বাজিয়ে আন্দোলনের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন নেত্রী। ধর্নাস্থলের আশপাশের দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই ক’দিন আপনাদের ব্যস্ত করেছি, কান ঝালাপালা হয়েছে। আমারও সারা রাত শব্দে কান ঝালাপালা হয়েছে। কিন্তু ওটা বড় কথা নয়, লড়াইটাই আসল।” এরপর অভিষেকের প্রস্তাব মেনে উপস্থিত সকলের সম্মতিতে আজকের মতো ধর্না তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি।

রাজনৈতিক ভাষণের মাঝেই এদিন আধ্যাত্মিক ছোঁয়া দেন মমতা। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার রেশ টেনে তিনি বলেন, “দেখলাম মা কালীও আমাদের সঙ্গ দিলেন। মায়ের আশীর্বাদ থেকে কেউ কেউ বঞ্চিত হলেন। মা-ও মানবিকতা ও মনুষ্যত্বকে ভালবাসেন। সকলকে নিয়ে একসঙ্গে বাস করাই আসল ধর্ম।”

তৃণমূল নেত্রীর দাবি, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের জয়যাত্রা যেমন এই ধর্মতলা থেকেই শুরু হয়েছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের লড়াইও এই ধর্নামঞ্চ থেকেই নতুন দিশা পেল।

