Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

‘বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’ এই মন্ত্রকে সামনে রেখে রুটি মেকার দিদির ফ্রোজ়েন লুচি পারি দেবে বিদেশেও

deshersamay

Share article:
সুতপা দে , দেশের সময়

‘বাঙালি মহিলারা ব্যবসা করতে পারে না’— প্রচলিত এই ধারণাটি একটি ভুল ও পুরোনো সামাজিক কুসংস্কার।  সেই ধারণাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন সোদপুরের উপমা মুখোপাধ্যায় । তাঁর লড়াই অনুপ্রেরণা হাজার হাজার মানুষের। ২০১৯ সালে মাত্র দুটি হোম ডেলিভারি দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর সফর। তার পরে উত্তর ২৪ পরগনার টাকি থেকে তিনি চলে আসেন সোদপুরে। তা সত্বেও একটুও ঝিমিয়ে পরেনি উপমার ব্যবসা। সোদপুরের ‘উপমা কিচেন অ্যান্ড ক্যাটারার’ এখন কেবল একটি নাম নয়, কয়েকশো মহিলার স্বনির্ভর হওয়ার আতুঁড়ঘর।

সোদপুরের প্রধান শাখায় উপমার সঙ্গে কাজ করেন ২০ জন মহিলা। পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে আরও অসংখ্য মহিলা উপমার দেখানো পথে ফ্রোজ়েন রুটি, লুচি ও কচুরি বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। নিজের সংস্থায় কর্মরত মহিলাদের ঘরোয়া পরিবেশের পাশাপাশি নূন্যতম ছয় হাজার টাকা বেতন ও ওভারটাইমের সুযোগ দেন তিনি। আটা মাখা থেকে লেচি কাটা—প্রতিটি কাজ আজও তিনি নিজ হাতে তদারকি করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল উপমা এখন রুটি মেকার । ঘণ্টায় ৬০০ থেকে ১০০০ রুটি, লুচি তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ভাইরাল ‘রুটি মেকার’। শুরুতে উপমা নিজে হাতেই ২০০ রুটি বেলতেন উপমা। কিন্তু ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। এই সমস্যা থেকেই তাঁর মাথায় আসে রুটি তৈরির মেশিনের ভাবনা। ২০২৩ সালে ভিন রাজ্য থেকে মেশিন আনিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। আজ তাঁর তত্ত্বাবধানে রাজ্যে ৩০টির বেশি রুটি তৈরির মেশিন বা ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি চলছে। এমনকি রাজ্যের বাইরে, ত্রিপুরা ও অসমেও ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর ব্যবসা।

উপমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও বড়। বাঙালির প্রিয় লুচি নিয়ে তিনি নতুন স্বপ্ন দেখছেন। বিদেশের মাটিতে প্রবাসী বাঙালিদের কাছে ফ্রোজ়েন লুচি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। উপমা মনে করেন, ‘বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’—এই মন্ত্রকে সামনে রেখে বাঙালিকে ব্যবসায় আবার ফিরে আসতেই হবে। ইতিমধ্যেই তিনি ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-সহ বিভিন্ন রিয়েলিটি শো-তে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এসেছেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সব নারীদের উদ্দেশ্যে উপমার সাফ কথা, নিজের পরিচয় নিজেই তৈরি করুন। উপমার ট্যাগলাইন ‘বেলার কষ্ট নেই, সময় নষ্ট নেই’ এখন অনেক মহিলার আয়ের পথ খুলে দিয়েছে। তিনি লড়াইটা মাঝপথে ছেড়ে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। উপমা মনে করেন, সরাসরি বা পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৫০০ মানুষ তাঁর প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল। এই মানুষগুলোর পরিবারকেও নিজের পরিবার বলে মনে করেন সফল এই নারী উদ্যোক্তা।

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন