Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

এবার তৃণমূলের প্রচারে নতুন কৌশল , ‘তফসিলি সংলাপ’-এ নীল-হলুদ গাড়ি , ডবল ইঞ্জিন সরকারের পরিসংখ্যান তুলে নিশানা অভিষেকের

deshersamay

Share article:
হীয়া রায়, দেশের সময়

কলকাতা : রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন । ভোট যত এগিয়ে আসছে শাসক-বিরোধী সকলেই প্রচারে ঝাঁজ বাড়াছে। তৃণমূলের নজরে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি ভোটব্যাঙ্ক। দোলের পর নতুন কর্মসূচি তৃণমূলের। পাখির চোখ করে জনসংযোগের নয়া মডেল নিয়ে ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ।

সোমবার দলের এসসি, এসটি, ওবিসি সেলের নেতৃত্বকে নিয়ে আয়োজিত ‘তফসিলির সংলাপ’ সম্মেলনে অভিষেক সরাসরি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দলিত ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। এদিন তাঁর নিশানায় ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ডবল ইঞ্জিন’ ‘উন্নয়নের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি’।

অভিষেক এদিন স্পষ্ট নির্দেশ দেন, আগামী দু’মাস নেতাদের ক্লান্তিহীনভাবে প্রচার চালাতে হবে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় নীল-হলুদ রঙের বিশেষ গাড়িতে চেপে প্রচারে যাবেন নেতারা। সঙ্গে থাকবেন একজন করে ‘গ্রাউন্ড রিসোর্স ম্যানেজার’ (GRM)। যিনি প্রচারের যাবতীয় সমন্বয় সাধন করবেন। আইপ্যাকের পরামর্শে তৈরি এই পরিকল্পনায় জিআরএম-ই নেতাদের রুটম্যাপ ও কর্মসূচি ঠিক করে দেবেন। প্রতিদিন তিনটি করে তফসিলি এলাকায় জনসংযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নীল রঙ আম্বেডকর অনুগামীদের এবং হলুদ রঙ রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। প্রচারে মূলত তিনটি বিষয় তুলে ধরা হবে, বিজেপি কেন ‘বাংলা-বিরোধী’, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দলিতদের বঞ্চনার চিত্র। রাজ্যের ৮৪টি সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি অন্যান্য এলাকাতেও এই প্রচার চলবে।

সোমবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে মূলত তফসিলি নেতা-কর্মীদের নিয়ে সমাবেশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির ভোট নিজেদের দিকে টানতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে ঘাসফুল শিবির। মনে করা হচ্ছে, সে কথা মাথায় রেখেই এবার দলের তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) নেতাদের নিয়ে সভা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিনের সভামঞ্চ থেকে তফশিলি ‘ভাই-বোনে’দের একাধিক বার্তাও দিতে দেখা যায় অভিষেককে৷ সেখানেই তৃণমূলের নতুন কর্মসূচির কথা জানিয়ে বিজেপিকে বিঁধলেন তিনি। ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ বা ‘তৃণমূলে নবজোয়ার’-এর ধাঁচেই জনসংযোগ বাড়াতে এবার ‘তফসিলির সংলাপ’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তৃণমূল।

অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি তফসিলি ও আদিবাসীদের উপর অত্যাচার করে। ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্ট তুলে ধরে বলেন, “বিজেপিশাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে তফসিলিদের উপর অত্যাচারের নিরিখে গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ পেয়েছে।আশ্চর্যের বিষয়, তিনটেই ডবল ইঞ্জিন সরকার!”আদিবাসীদের ওপর নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেও একই সুর শোনা যায় তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ডের গলায়।তিনি জানান, মণিপুরে উপজাতির ওপর আক্রমণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান। এখানেও ডবল ইঞ্জিন সরকারের ব্যর্থতাই ফুটে উঠেছে বলে দাবি অভিষেকের। যারা প্রতি পদে পদে অত্যাচার করে এসসি, এসটি, ওবিসিদের উপর তারা সমাজের বন্ধু হতে পারে না। যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদের নেতা অমিত শাহ বলছেন আম্বেদকর নাম জপ ফ্যাশান হয়ে গেছে।’

অন্যদিকে, তৃণমূল সরকার এসসি ও এসটি মহিলাদের উন্নতির জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ একাধিক প্রকল্প চালু করেছে। পাঁচ বছরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান ১০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০০ টাকা হয়েছে সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি।তারপরই নেতাকর্মীদের নতুন কর্মসূচির কথা জানিয়ে বলেন, “বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে হবে, বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে খাল কেটে কুমির আনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্য কী করেছে সেই তথ্য তুলে ধরতে হবে।”কর্মী-নেতাদের সতর্ক করে তাঁর বার্তা, “আত্মতুষ্টিতে ভুগলে হবে না। বুথে ১০০ ভোটে জেতার কনফিডেন্স থাকলে সেটা ২০০ করার চেষ্টা করুন। বাড়ি বাড়ি যান। প্রচারের গাড়ি না এলে, অপেক্ষায় থাকার দরকার নেই। নিজে চলে যান।”

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন