

বিশ্বে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা নিয়ে এখন আর লুকোচুরি নেই। বিভিন্ন দেশের প্রধানরা তাঁর প্রশংসা করেন। বিদেশ সফরে মোদী যে অভ্যর্থনা পান, তাও বেশ নজরকাড়া। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা যে কতটা তা বুঝিয়ে দিল তাঁর ইনস্টাগ্রাম।

বিশ্বের বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতাদের এবং রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে এই প্রথম কারও ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার্সের সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়াল। বৃহস্পতিবারই এই লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পিছনে ফেলে দিয়েছেন ডোনাল্ট ট্রাম্পকেও!

২০১৪ সালে National Democratic Alliance (NDA)-কে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৩৬টি আসনে জিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছিলেন মোদী। সেই বছরেই ইনস্টাগ্রামে যোগ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে ফলোয়ার্সের সংখ্যা ছাড়ায় ১০ কোটি (100 Million)। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থেকে প্রায় দ্বিগুণ ফলোয়ার্স রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর।

বিশ্বের কোন কোন বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার্সের সংখ্যা কত?
সংবাদ সংস্থা ANI সূত্রে খবর,
নরেন্দ্র মোদী – ১০০ মিলিয়ন
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প: ৪৩.২ মিলিয়ন (৪ কোটি ৩২ লক্ষ)
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো: ১৫ মিলিয়ন (দেড় কোটি)
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইন্যাসিও লুলা দা সিলভা: ১৪.৪ মিলিয়ন (১ কোটি ৪৪ লক্ষ)
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইপ এরদোগান: ১১.৬ মিলিয়ন (১ কোটি ১৬ লক্ষ)
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই: ৬.৪ মিলিয়ন (৬৪ লক্ষ)
প্রসঙ্গত, এই পাঁচ বিশ্বনেতার ইনস্টাগ্রামের ফলোয়ার্সের মোট সংখ্যাও নরেন্দ্র মোদীর ফলোয়ার্স সংখ্যার থেকে কম।
শুধু বিদেশেই নয়, দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যেও মোদীর ফলোয়ার্সের সংখ্যাj সঙ্গে অন্যান্যদের পার্থক্য অনেকটাই বেশি। মোদীর পরেই রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর ফলোয়ার্স সংখ্যা ১৬.১ মিলিয়ন (১ কোটি ৬১ লক্ষ)। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ফলোয়ার্স সংখ্যা ১২.৬ মিলিয়ন (১ কোটি ২৬ লক্ষ)। সেই তুলনায় ফলোয়ার্সের নিরিখে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার্স ৪ লক্ষ ৯২ হাজার।

শুধু ফলোয়ার্সের নিরিখে নয়, গ্লোবাল অ্যাপ্রুভাল রেটিংয়ের (কত সংখ্য মানুষ পছন্দ করছেন) নিরিখেও প্রথমে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। Statista-র নিরিখে মোদীর গ্লোবাল অ্যাপ্রুভাল রেটিং ৭০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জাপানের প্রেসিডেন্ট সানাই তাকাইচি (৬৩%) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই (৬০%)। অনেকটাই পিছিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৪৩ শতাংশ রেটিং নিয়ে একাদশ স্থানে রয়েছেন তিনি।
ইজরায়েল সফর- প্রথম দিনেই নজর কাড়লেন মোদী
মোদী বর্তমানে ইজরায়েল সফরে। নয় বছরে এটি তাঁর দ্বিতীয় সফর। এদিন তিনি ইজরায়েলের সংসদ কেনেসেট–এ ভাষণ দিয়ে বলেন, গাজায় স্থায়ী ও ন্যায্য শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভারত আলোচনার পথেই সমাধান চায়। সেই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে বিশ্বশান্তির সবচেয়ে বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সফরের প্রথম দিনেই তাঁকে দেওয়া হয় কেনেসেটের সর্বোচ্চ সম্মান, ‘স্পিকার অফ দ্য কেনেসেট মেডেল’। এটি প্রথমবার কোনও বিদেশি নেতা পেলেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁকে বন্ধুর থেকেও বেশি বলে উল্লেখ করেন এবং অক্টোবর ৭-এর হামলার পর ইজরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
ইজ়রায়েলের সংসদে বক্তব্য রাখার পরে সেখানকার স্পিকার আমির ওহানা প্রধানমন্ত্রীকে এই পুরস্কারে সম্মানিত করেন। ভারত ও ইজ়রায়েলের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাকে কুর্নিশ জানিয়ে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ইজ়রায়েলে পৌঁছেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সস্ত্রীক অভ্যর্থনা জানান মোদীকে। এ দিন ইজ়রায়েলের সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জ়িরো টলারেন্সের কথা বলেছেন মোদী। ইজ়রায়েলের উপর ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার কড়া নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সঙ্গে ১.৪ বিলিয়ন ভারতবাসীর শুভেচ্ছা নিয়ে এসেছি। তার সঙ্গে বন্ধুত্ব, সম্মানের বার্তা নিয়ে এসেছি।’ তার আগে মোদীকে ভাই বলে সম্বোধন করেছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ভারত ও ইজ়রায়েল ‘লৌহকঠিন জোট’ তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন।
https://x.com/i/status/2026676356566888729
এখনও পর্যন্ত হাতে গোনা কিছু রাষ্ট্রনেতা ইজ়রায়েল ও প্যালেস্তাইন থেকে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পেয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৮ সালে প্যালেস্তাইনের তরফে গ্র্যান্ড কলার- সেদেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন মোদী।




