Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

Photo Exhibition: ‘চিত্র যেথা ভয়শূন্য’!  আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে শিল্প–সংস্কৃতি ও সমাজচেতনার মিলন

deshersamay

Share article:
মিলি দাস , দেশের সময়

কলকাতা, ২২ জানুয়ারি: কলকাতার ডেকার্স লেনের পাশেই সিদো কানহো ডহড়, ধর্মতলা এক উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো একটি ব্যতিক্রমী স্থিরচিত্র প্রদর্শনী।প্রকৃতি, বন্যপ্রাণ, সামাজিক জীবন, মানবিক আবেগ ও সমকালীন বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে সাজানো এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে তোলা নির্বাচিত আলোকচিত্র। গত পাঁচ বছর থেকেই সরস্বতী পুজোয় ধর্মতলার কাছে এমন আয়োজন শুরু করেছে কলকাতা ফোটোজার্নালিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন। 

কলকাতার চিত্র সাংবাদিকদের ষষ্ঠ স্থির চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ।  উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আলোকচিত্র শিল্পী বৃন্দ , রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মেয়র ফিরহাদ ববি হাকিম, দেবাশীষ কুমার , সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী ও সাধারণ দর্শকরা।

২৭০টি প্রকাশিত, অপ্রকাশিত ছবি নিয়ে সেজে উঠেছে প্রদর্শনী ‘চিত্র যেথা ভয়শূন্য’। ধর্মতলায় সিধো-কানহো ডহরে প্রদর্শনী চলবে ২৫  ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

ফ্রেমে ধরা পড়া পাহাড়, নদী, বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী থেকে শুরু করে মানবজীবনের সংগ্রাম ও আনন্দ সব মিলিয়ে প্রদর্শনীটি দর্শকদের গভীরভাবে আকর্ষণ করে।
ক্যামেরার লেন্স আজ আয়না যেখানে সমাজের গল্প উন্মোচিত হয় নিজের মুখোমুখি। একটি ক্লিক যেখানে শব্দ থেমে যায়, সেখানে কথা বলে ছবি।

প্রদর্শনী চলাকালীন একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনারও আয়োজন করা হয়। নৃত্যের মাধ্যমে শিল্প ও আলোকচিত্রের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়, যা দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। উপস্থিত অতিথিরা শিল্পী ও আলোকচিত্র শিল্পীদের কাজের প্রশংসা করে কলকাতা ফোটোজার্নালিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পিন্টু প্রধান বলেন, এই ধরনের প্রদর্শনী সমাজকে সচেতন করার পাশাপাশি শিল্পচর্চার পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করে।গত বছরের চেয়ে এ বার ছবির সংখ্যা, চিত্র সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ, দুই-ই বেড়েছে। 

ফোটোজার্নালিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের  সদস্য দেবাশিষ রায় -এর মতে, গ্যালারিতেও চিত্র প্রদর্শনী হতে পারত। তার দর্শক সীমিত। বরং কলকাতার ব্যস্ততম রাস্তায় সাজানো ছবি চোখে পড়বে পথচলতি মানুষদের। ছবি পৌঁছে দেওয়া যাবে আরও বৃহত্তর পরিসরে।প্রদর্শনী যাতে পথচলতি মানুষের চোখে পড়ে, সে ভাবেই সাজানো হয়েছে।সেখানেই জায়গা পেয়েছে প্রবীণ থেকে নবীন চিত্র সাংবাদিকদের বিভিন্ন সময়ের ছবি।

‘আলোকচিত্র কেবল দৃশ্য ধারণ নয়, এটি সময়ের সাক্ষ্য। এই ছবিগুলি আমাদের প্রকৃতি সংরক্ষণ, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্বের কথা নতুন করে ভাবতে শেখায়।”

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বয়সের দর্শকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি প্রবীণ দর্শকরাও আগ্রহের সঙ্গে প্রতিটি আলোকচিত্র পর্যবেক্ষণ করেন ও শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ছবিগুলি তুলেছেন দেবাশিষ রায় ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এই ধরনের প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আলোকচিত্রের মাধ্যমে সমাজ ও সময়ের কথকতা আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার প্রদর্শনী শুরুর পর থেকেই পথচলতি মানুষদের কেউ কেউ সেখানে থমকে দাঁড়াচ্ছেন। এ দিন প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস । 

শুধু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নয়, উৎসবের ছবি, প্রকৃতি, ফিচার— অনেক কিছুই জায়গা করে নিয়েছে প্রদর্শনীর তালিকায়। এ বছর আলোকচিত্র শিল্পী অথচ সাংবাদিক নন, তাঁদের ছবিগুলিও ঠাঁই পেয়েছে প্রদর্শনীতে।

প্রদর্শনীতে কোথাও সাদা-কালো ফ্রেম। কোথাও আবার উৎসবের কলকাতার বিভিন্ন মুহূর্ত। কোথাও ক্রীড়াজগতের ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের প্রদর্শনী । 

সারা বছর তাঁরা ঘোরেন খবরের সন্ধানে। কাঁধে ক্যামেরার ব্যাগ নিয়ে ছুটে বেড়ান দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। সারা বছর তাঁদের চোখ থাকে ক্যামেরার ভিউ ফাইন্ডারে। বিপদের তোয়াক্কা না করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দি করার কাজ করেন, সেই চিত্র সাংবাদিকদের ছবি এ বার রাজপথে শোভা পাচ্ছে।

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery
Menu
© 2026 Desher Samay.