Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

ভোটার তালিকা বিতর্কে অশোকের পর নাম জড়াল বনগাঁ দক্ষিণের পদ্ম বিধায়ক স্বপন মজুমদারের

deshersamay

Share article:

বনগাঁ উত্তরের পর এবার ভোটার তালিকা বিতর্কে নাম জড়াল বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই স্বপন মজুমদারের। ওই তালিকায় নাম নেই তাঁর মায়েরও। অথচ কয়েক বছর পর ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে দু’জনেরই। কমিশনের তালিকায় নাম না থাকায় বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদারের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মঙ্গলবার বনগাঁর এসডিও-র কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদারের বাবা-মা থাকতেন বাংলাদেশে। তাঁর মায়ের জন্ম বাংলাদেশেই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বপনের বাবা সন্তোষ মজুমদার শরণার্থী হয়ে এ দেশে চলে এসেছিলেন। বনগাঁ ব্লকের গোপালনগরের পাল্লায় বাড়ি স্বপনের। বাবার মৃত্যুর পর ২০০৮ সালে স্বপন কর্মসূত্রে গিয়েছিলেন গুজরাটে। সেখানে কনস্ট্রাকশনের ব্যবসা করতেন। গুজরাটে বিজেপির প্রভাব থাকায় রাজনীতিও শুরু করেন বিজেপির ঘর থেকেই। পরে মুম্বইয়ে গিয়েছিলেন। বহু বছর সেখানে ব্যবসা করার পর গোপালনগরে ফিরে সক্রিয় ভাবে বিজেপি করা শুরু করেন। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনেই প্রথম বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপির বিধায়ক হন।

সম্প্রতি বনগাঁ মহকুমায় নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য ক্যাম্প করে বিজেপি। স্বপন মজুমদারের নেতৃত্বেও এই ক্যাম্প হয়েছে। এ বার তালিকা বিতর্কে জড়িয়ে গেলেন তিনিও। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ভোটার তালিকায় স্বপন ও তাঁর বাবা-মায়ের নাম নেই। ফলে স্বপনের এ দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের যুব সভাপতি সব্যসাচী ভট্ট। তিনি স্বপনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দু’টি নথি জমা দিয়েছেন বনগাঁর মহকুমা শাসকের কাছে।

সব্যসাচী বলেন, ‘বিধায়ক স্বপন মজুমদার বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি ২০০২ সালের পরে এ দেশে এসে অবৈধ ভাবে ভারতীয় ভোটার তালিকায় নিজের নাম নথিভুক্ত করেছেন। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় স্বপন মজুমদার এবং তাঁর মায়ের নাম রয়েছে। বিজেপির সিএএ আইনে বিজেপিরই বিধায়ক, সাংসদরা বেনাগরিক হবেন।’

স্বপন বলেন, ‘আমার মা-বাবা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী হয়ে এসেছিলেন। আমার জন্ম এ দেশে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নাও থাকতে পারে। তার মানে সে বাংলাদেশি, এটা হতে পারে না। মাকে সিএএ-র জন্য আবেদন করিয়ে দেব।’ সোমবার একই বিতর্কে জড়ান বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। নির্বাচন কমিশনের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় অশোকের নাম থাকলেও নাম নেই তাঁর বাবা-মায়ের। নিয়ম ভেঙে বিজেপি বিধায়ক ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন, এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের বনগাঁ শাখার সদস্যরা। বাবা-মায়ের নাম ছাড়াই কী ভাবে বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার নাম উঠল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, বনগাঁ ব্লকের ঘাটবাঁওর অঞ্চলের তালিকায় অশোকের নাম থাকলেও নাম নেই বিধায়কের মা-বাবার। বনগাঁ পুরসভার গান্ধীপল্লি এলাকায় ২০১০ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে বিজেপি বিধায়কের বাবা-মায়ের।

অশোক বলেন, ‘আমার বাবা ১৯৫০ সালে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। কেন তাঁদের নাম ২০০২ সালে ওঠেনি, সেটা ওই সময়কার বাম নেতৃত্ব জানেন।’ তৃণমূল জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘মা-বাবার আগে সন্তানের নাম উঠে গেছে ভোটার তালিকায়, এমন ঘটনা এই প্রথম দেখলাম।’

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন