
কলকাতা : এ বছর ইসকনের রথযাত্রার ৫৪তম বর্ষ। প্রতি বছর রথযাত্রার দিন পার্ক সার্কাস থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত চলে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার রথ। উল্টোরথ উৎসবের দিন পর্যন্ত কলকাতা ময়দানে অস্থায়ী মাসির বাড়িতে থাকেন জগন্নাথ। উল্টোরথের দিন আবার রথে করে তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ইসকনের মন্দিরে।

কলকাতার রথযাত্রায় ইসকনের রথের ঐতিহ্য বরাবরের। এ বার সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে যুদ্ধবিমান সুখোইয়ের নাম। আগামী ২৭ জুন রথযাত্রা। সেই উপলক্ষে ইসকন প্রতি বছরের মতো এ বারও কলকাতায় রথযাত্রা এবং রথের মেলার আয়োজন করেছে। এ বছর সেই উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার রথের চাকা। এ বছর সুখোই যুদ্ধবিমানের ‘ফোর্থ জেনারেশন’-এর চাকা লাগানো হয়েছে ইসকনের রথে। দেখুন ভিডিও

ইসকনের তরফে সেই চাকা লাগানোর পর ২৪ কিলোমিটার রথ চালিয়ে পরীক্ষা মূলকভাবে বিষয়টি দেখে নেওয়ার পর ওই রথগুলিকে এ বার রথযাত্রায় পথে নামানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরীর রীতি মেনে পৃথক তিনটি রথে চড়ে মাসির বাড়ি যান জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা। তাই কলকাতা ইসকনের রথযাত্রাতেও সে ভাবেই পৃথক তিনটি রথ গড়া হয়েছিল প্রথম থেকে। ৫৪ বছর আগে যখন প্রথম পৃথক তিনটি রথ তৈরি করা হয়েছিল, তাতে বোয়িং-৪৭৪ বিমানের চাকা লাগানো হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ দশকের বেশি সময় পরিষেবা দেওয়ার পর রথের চাকাগুলো পুরনো হয়ে গিয়েছিল। তাতেই প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল নতুন করে রথের চাকা লাগানোর ।

৫৪ বছরে পা দিল কলকাতা ইসকনের রথযাত্রা উৎসব। সেই উপলক্ষ্যে নানাবিধ চমক থাকছে।
ইসকন কলকাতার রথের উচ্চতা ৩৮ ফুট। ভাঁজ করা যায় এমন ছাউনি দিয়ে ঢাকা হয়েছে যা কলকাতার জটিল রাস্তার জন্যও উপযোগী।
রথের সামনে আল্পনা দেবেন দক্ষিণ ভারতের শিল্পীরা। যাতে ব্যবহার করা হবে প্রাকৃতিক আবির।
রথ উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত হচ্ছে মহামেলা। যা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত এই মেলা চলবে।
প্রতিদিন দুপুর ৩.৩০ থেকে রাত ৮.৩০ পর্যন্ত ব্রিগেডে রথের মেলায় মিলবে জগন্নাথদেবের খিচুড়ি প্রসাদ।
রথের মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করবেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর দীক্ষামঞ্জরী দল।
৩ জুলাই ব্রিগেডে রথের মেলায় অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জগন্নাথদেবের দর্শনের পাশাপাশি আরতিও করবেন তিনি।

কোন কোন পথে যাবে ইসকনের রথ?
শুক্রবার, ২৭ জুন ইসকনের রথ বের হবে দুপুর ১টায়। ইসকন মন্দির থেকে রথ যাবে অ্যালবার্ট রোড, এসপিএম রোড, এটিএম রোড, চৌরঙ্গী রোড, এক্সাইড ক্রসিং, জেএলএন রোড, আউটরাম ঘাট। সেখান থেকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে রথ থামবে।
উল্টোরথের দিন অর্থাৎ ৫ জুলাই শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে দুপুর ১২টায় জগন্নাথের রথ বেরিয়ে প্রথমে যাবে পার্ট স্ট্রিট মেট্রোর কাছে। তারপর রথ যাবে আউটরাম ঘাট, জেএলএন রোড, ডোরিনা ক্রসিং, এসএন ব্যানার্জি রোড, মৌলালী ক্রসিং, সিআইটি রোড, সুহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউ, পার্ক সার্কাস ৭ পয়েন্ট ক্রসিং, শেক্সপিয়ার সরণি, হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট হয়ে শেষ হবে ইসকন মন্দিরে।

যুদ্ধবিমান সুখোই-৩০-এর চাকা নিয়ে এগিয়ে চলবে জগন্নাথের রথ, বিশ্বশান্তির জন্য প্রার্থনায় মগ্ন থাকবে কলকাতা।
বিশ্ব আজ উত্তেজনায় ভরা, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা যেন মাথার ওপর ভাসছে। এমন সময়ে কলকাতা এক অনন্য বার্তা নিয়ে প্রস্তুত — ‘শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক’। ইসকন কলকাতা-র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঐতিহাসিক ৫৪তম বার্ষিক রথযাত্রা, যা শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ঐক্যের এক ঐকান্তিক আবাহন।

যেসব চাকা আকাশে যুদ্ধের তীব্রতা সামলে নিতে পারে, সেগুলোই এবার কলকাতার বুকে জগন্নাথের রথ টেনে নিয়ে চলবে — যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে, পৃথিবী যতই যুদ্ধের জন্য প্রযুক্তি নিক, প্রকৃত শক্তি আসে ভগবানের প্রতি আত্মসমর্পণ ও শান্তির বাণী প্রচারের মাধ্যমেই।
এক বিশ্ব-উৎসব, যার মূল কলকাতায় ।



