Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

Yusuf Pathan পাক-নিন্দায় বিজেপি-র ‘তৈরি’ বহুদলীয় প্রতিনিধিদলে নাম থাকলেও যাচ্ছেন না তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান ,স্পষ্ট বার্তা মমতার

deshersamay

Share article:

‘অপারেশন সিঁদুরের’ প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রচার চালাতে যে বহুদলীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদল বিদেশ সফরে যাচ্ছে, তাতে নাম থাকলেও যাবেন না তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ইউসুফ পাঠান ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র সরকারের তরফে কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই ইউসুফ পাঠানের নাম ঘোষণা করা হয়, যা নিয়ে অসন্তুষ্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  দল।

সূত্রের খবর, প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বর্তমানে বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁকে প্রতিনিধিদলে যুক্ত করার চেষ্টা করে কেন্দ্র। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি এই সফরে অংশ নিতে পারবেন না।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি-র ‘নাক গলানো’ যে বাংলার শাসকদল বরদাস্ত করবে না, সেই বার্তা স্পষ্ট করে দিলেন দলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা হলেও কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করেছে, ‘পাক মদতপুষ্ট’ সন্ত্রাসবাদের কথা সারা দুনিয়াকে জানাতে দেশ থেকে বহুদলীয় প্রতিনিধি দল পাঠাবে। সেই দল দেশে দেশে ঘুরে বলবে, কী ভাবে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে মদত দিচ্ছে। প্রতিনিধিদলে বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের নাম রাখা হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল ইউসুফকে দিয়ে তাঁর নাম প্রত্যাহার করিয়েছে। দলগত ভাবে এ বিষয়ে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের অবস্থান এক হলেও সনিয়া গান্ধী-রাহুল গান্ধীর দল কিন্তু তাঁদের সাংসদ শশী তারুরের নাম ওই প্রতিনিধিদল থেকে প্রত্যাহার করাতে পারেনি।

সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে রওনা হওয়ার আগে এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, ‘‘প্রতিনিধিদলে নাম দেওয়ার বিষয়ে আমাদের দলের কাছে কোনও অনুরোধ আসেনি। প্রতিনিধিদলে আমাদের দলের কে যাবেন, তা আমরাই ঠিক করব। এটা অন্য কারও পছন্দে হবে না।’’ মমতা এ-ও জানিয়েছেন, এর পরেও যদি কেন্দ্রীয় সরকার তৃণমূলকে ‘অনুরোধ’ করে, তাঁর দল সেই অনুরোধ নিশ্চয়ই বিবেচনা করবে। দিল্লিতে বিদেশ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে এ বিষয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদকে পাকিস্তান কী ভাবে মদত দিচ্ছে, তা নিশ্চয়ই আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু সেখানে তৃণমূল, কংগ্রেস, ডিএমকে, আম আদমি পার্টি, সমাজবাদী পার্টির কে কে থাকবেন, তা বিজেপি ঠিক করে দিতে পারে না। সংশ্লিষ্ট দলই তা ঠিক করবে।’’

রবিবার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে জানিয়ে দেয়, ইউসুফ পাঠান বা দলের কোনও সাংসদই বিদেশ সফরকারী বহুদলীয় প্রতিনিধিদলে অংশ নেবেন না। দলের তরফে জানানো হয়েছে, “আমরা বিশ্বাস করি দেশ সবার ঊর্ধ্বে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার যে পদক্ষেপ করেছে, তাতে আমরা সমর্থন জানিয়েছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আমাদের গর্ব, আমরা তাঁদের কাছে ঋণী। তবে বিদেশনীতি একান্তভাবেই কেন্দ্র সরকারের অধিকারভুক্ত বিষয়। তাই বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব এবং তার কূটনৈতিক দায়িত্ব সরকারই গ্রহণ করুক— সেটাই শ্রেয়।”
তৃণমূলের এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কারণ, একদিকে দল সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেও, বিদেশে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে কেন্দ্রের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করল স্পষ্ট ভাষায়। দলের মতে, বিদেশনীতি যদি এককভাবে কেন্দ্রের অধিকার হয়, তবে দায়িত্বও কেন্দ্রকেই নিতে হবে।
এদিকে কংগ্রেসও একই রকম অভিযোগ তুলে বলেছে, চারজন সাংসদের নাম পাঠিয়েও সরকার নিজেদের মতো করে প্রতিনিধি বেছে নিয়েছে। ফলে বহুদলীয় প্রতিনিধিদল গঠনের পদ্ধতি নিয়ে বিরোধীরা ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।

উল্লেখ্য, তৃণমূলের সংসদীয় দলকে এড়িয়েই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তৃণমূল সাংসদ ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর পাসপোর্ট চেয়েছিলেন। তার পরেই মাঠে নেমে বিষয়টি আটকায় তৃণমূল। অনেকের মতে, বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূল দলীয় স্তরেও সাংসদদের ‘বার্তা’ দিতে চাইল, দল কাউকে ‘তারুর’ হতে দেবে না। কারণ, দলের জন্যই তাঁরা সাংসদ। যা করতে হবে দলের অনুমোদন নিয়েই করতে হবে।

Advertisement
Tags: featuredNews

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন