Narendra Modi Oath Taking Ceremonyতৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন নরেন্দ্র মোদী
deshersamay

দেশের সময় তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন নরেন্দ্র মোদীএই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই সাজো সাজো রব ছিল দিল্লিজুড়ে। এদিন সন্ধেয় নির্ধারিত সময়েই শুরু হয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। জহরলাল নেহরু ছাড়া ভারতের আর কোনও প্রধানমন্ত্রীর টানা তিন বার শপথ নেওয়ার কৃতিত্ব নেই।

রাষ্ট্রপতি ভবনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করে দেশ চালানোর গুরুদায়িত্ব ফের একবার নিজের কাঁধে নিলেন নমো।

President Droupadi Murmu administers the Oath of Office and Secrecy to Prime Minister @narendramodi during the swearing-in ceremony at @rashtrapatibhvn #OathCeremony #SwearingInCeremony #ShapathGrahan pic.twitter.com/Wk01bnP8rZ
— PIB India (@PIB_India) June 9, 2024
এতদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হত। এবারই প্রথম ‘কর্তব্য পথ’-এ হল এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এদিন নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিতে ওঠার সময়ই দর্শকাসন থেকে ওঠে ‘মোদী মোদী’ এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান। মোদীর পর একে একে মন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন অনেকে।
শপথ নিলেন রাজনাথ সিং
শপথ নিলেন অমিত শাহ
শপথ নিলেন জেপি নাড্ডা,
শপথ নিলেন এস জয়শঙ্কর
শপথ নিলেন নীতীন গড়কড়ি
শপথ নিলেন নির্মলা সীতারমন
শপথ নিলেন শিবরাজ সিং চৌহান
শপথ নিলেন মনোহার লাল খট্টর
জওহরলাল নেহরুর পর মোদীই প্রথম যিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের দু’টি পূর্ণ মেয়াদ শেষ করে তৃতীয়বার এই কুর্সিতে বসলেন। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা মেলেনি বিজেপি-র। এবার শরিক নির্ভর হয়েই দেশ চালাতে হবে নরেন্দ্র মোদীকে। টেনেটুনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় সরকার গড়ছে NDA তবে বিরোধীদের দাবি, এ বারের সরকারের মেয়াদ বেশিদিন নয়।

রবিবার সন্ধ্যা ছিল তারকাখচিত। রাষ্ট্রপতি ভবনে বসেছিল চাঁদের হাট। রাষ্ট্রপতি প্রথা মেনে শপথবাক্য পাঠ করালেন নরেন্দ্র মোদীকে। তাঁর পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ রয়েছে এদিন।

শরিক দলগুলিতে এবারের মন্ত্রিসভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে অনুমান। এদিন শপথগ্রহণের আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একটি চা-চক্রে একাধিক জয়ী সাংসদদের সঙ্গে দেখা করেন নরেন্দ্র মোদী। সেখানে দেখা যায় শরিক দলের বহু সাংসদকে। তাঁদের মধ্যে অনেককেই গুরুত্বপূর্ণ পোর্টফোলিও দেওয়া হতে পারে বলে অনুমান।

গত দু’বার সরকার গড়ার সময় শরিক দলের মন জুগিয়ে চলার প্রয়োজন পড়েনি নরেন্দ্র মোদীর। সে বার বিজেপি একাই ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে গিয়েছিল। তবে মোদী ৩.০ অনেকটাই আলাদা হতে চলেছে। ‘আমি নয় আমরা’ নীতিতে চলবে নয়া সরকার। তার ইঙ্গিত মিলেছে NDA-র বৈঠকে নরেন্দ্র মোদীর ভাষণেই। যেখানে NDA জোটের জয়গান করতে শোনা যায় তাঁকে।

লোকসভা ভোটের প্রচারপর্বে নিজেকে ঈশ্বরের দূত বলে উল্লেখ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছিলেন, ‘মায়ের মৃত্যুর পর আমার বিশ্বাস ক্রমশ অটুট হয়েছে, আমার জন্ম জৈবিক পদ্ধতিতে হয়নি। আমি পরমাত্মার দূত। তাঁর কাছের জন্যই ঈশ্বর আমায় পাঠিয়েছেন।’

৪ জুন জনতার রায়ের পর তাঁর এই পরমাত্মার দূত ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খেয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। মোদী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, বিজেপি ৩৭০টি আসন পাবে, ৪০০ পার করবে NDA। কিন্তু, সেই ভবিষ্যদ্বাণী দর্পচূর্ণ হয়ে গিয়েছে জনতার রায়ে। ম্যাজিক ফিগারের অনেক আগেই থেকে যেতে হয়েছে BJP-কে। NDA-এও কোনওমতে পাশ মার্ক জুটিয়েছে। তা সত্ত্বেও অবশ্য, নরেন্দ্র মোদীর কথায়, এই ফলাফল ঐতিহাসিক।

সংবিধানে মাথা ঠুকে নয়া সরকার চালানোর অঙ্গীকার করেছেন নরেন্দ্র মোদী। অথচ বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, মোদী সরকার ফের ক্ষমতায় আসলে এই সংবিধানই বদলে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘আমি সর্বধর্ম সমভাবের নীতির প্রতি দায়বদ্ধ।

আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত বাবাসাহেব আম্বেদকরের দেওয়ার ভারতের সংবিধানের মহান মূল্যে সমর্পিত।’ আর সেখানেই বিরোধীদের প্রশ্ন, মোদী কি লোকসভা ভোটের প্রচারে সব ধর্মের জন্য সমান মনোভাব দেখিয়েছিলেন? সরকার গঠনের পরও কি তাঁর এমনটাই মনোভাব থাকবে? প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কেন বিজেপি-র ২৪০ জন সাংসদের মধ্যে এমনকী NDA-এর ২৯৩ জনের মধ্যেও কোনও মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ বা বৌদ্ধ নেই।

