ভাড়া বাঁচাতে ৫টা প্যান্ট, ৬টি জামা গায়ে চাপাল তরুণী!
deshersamay
দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ লাগেজ ব্যাগে ঠেসে জামাকাপড় ভরে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন তরুণী। কিন্তু চেকিং শুরু হতেই পড়লেন মহা সমস্যায়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয় ব্যাগের ওজন নির্দিষ্ট মাপকাঠির তুলনায় বেশ অনেকটাই বেশি। অতএব এই লাগেজ নিয়ে ওঠা যাবে না প্লেনে। নাছোড়বান্দা ওই তরুণীও। এতটা পথ যখন কষ্ট করে এসেছেন, কিছুতেই ফিরবেন না। প্লেনে চড়বেনই। তার জন্য যা দরকার করবেন।

এখন উপায় কী!
ওই যাত্রী যে এতই ডেসপারেট তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি বিমানবন্দরে থাকা কর্মীরা। ট্রলি ব্যাগ খুলে সটান একের পর এক জামা-প্যান্ট পরতে শুরু করে দেন ওই তরুণী। ৭ কেজি বেশি ওজনের ব্যাগ নিয়ে প্লেনে চড়ার অনুমতি ছিল না তাঁর। এদিকে লাগেজের ওজন সাড়ে ন’ কেজি। যদিও এই অতিরিক্ত আড়াই কেজি অতিরিক্ত ওজনের জন্য ফাইন দিতে মোটেও রাজি ছিলেন না তরুণী। তাই বিমানবন্দরে বসেই একের পর এক এক্সট্রা জামাকাপড় গায়ে গলাতে শুরু করেন।
এর আগেও বিমানবন্দরে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন অনেকেই। এ বার সেই তালিকায় নাম জুড়লেন ফিলিপিন্সের তরুণী গেল রডরিগেজ। গত ২ অক্টোবর ফেসবুকে একটি পোস্ট করে নিজের কীর্তিকলাপ সকলকে জানিয়েছেন রডরিগেজ। সাড়ে ন’ কেজি ওজনের ব্যাগ একটু কসরত করে তিনি নামিয়ে এনেছিলেন সাড়ে ছ’ কেজিতে। রডরিগেজের সাফ কথা, “মাত্র ২ কেজি এক্সট্রা ওজনের জন্য কিছুতেই বেশি টাকা দেব না।” ফাইন বাঁচাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পরনের প্যান্ট ছাড়া আরও ৫টি প্যান্ট পরেছিলেন তরুণী। গায়ে চাপিয়েছিলেন খান চারেক টি-শার্ট এবং একটা জ্যাকেটও।
নেট দুনিয়ায় ভাইরাল ফিলিপ্নসের এই তরুণীর কাণ্ডকারখানা। ব্যাগের ওজন কমানোর কায়দা দেখে হেসে গড়াচ্ছেন নেটিজেনরা। হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরার জোগাড় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষেরও। তবে কোনও দিকে ভ্রূক্ষেপ নেই রডরিগেজের। বরং বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েই দিব্যি পাঁচখানা প্যান্ট আর প্রায় হাফ ডজন টিশার্ট-জ্যাকেট পরে কায়দা করে পোজ দিয়ে ছবি তুলেছেন তিনি। মাথায় আবার রয়েছে একটা টুপিও। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, “বড্ড গরম লাগছিল। বাকিদের এমনটা করতে বারণই করব।”
রডরিগেজ প্রথম নন, চলতি বছরই স্কটল্যান্ডের জন ইভরিন ঠিক এমন কাণ্ডই ঘটিয়েছিলেন গ্লাসগো বিমানবন্দরে। একে একে গায়ে গলিয়েছিলেন ১৫টা জামা।

জানা যায়, এডিনবার্গ যাওয়ার কথা ছিল জন এবং তাঁর পরিবারের। ৮ কিলো লাগেজ নেওয়ার অনুমতি ছিল তাঁদের। কিন্তু জন এবং তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদের সব লাগেজ মিলিয়ে মোট ওজন ছিল ৮ কিলোর বেশি। তাই নিয়ম মেনেই তাঁদের থেকে ফাইন দাবি করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা খসাতে মোটেও রাজি ছিলেন না জন। বরং পকেট থেকে টাকা বের করার বদলে ব্যাগ থেকে জামা-কাপড় বের করে পরতে শুরু করে দেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিমেষে ভাইরাল হয় সেই ছবি এবং ভিডিও।




