21 July LIVE: দরকারে দিল্লি অভিযান ,ককরোচদের নিয়ে বড় বার্তা তৃণমূল নেত্রীর
deshersamay

21 July LIVE: ১৫ বছর পর আজ অভিনব ২১ জুলাই চোখে পড়ছে বাংলায়। এক মঞ্চে নয়, তিন মঞ্চে পালিত হবে ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি এবার ‘একুশ’ পালন করছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। পালন করছে কংগ্রেসও। শহরের তিন জায়গায় মঞ্চ।পাশাপাশি রয়েছে শহিদ মিনারে সভা করবে কংগ্রেস। আজ শহরে ত্রিমুখী ২১ জুলাই!

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর আড়াআড়ি বিভক্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর আজ প্রথম ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী কালীঘাট তৃণমূল বিড়লা তারামণ্ডলে সভা করছে, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল মেয়ো রোডে।
ককরোচদের নিয়ে বড় বার্তা তৃণমূল নেত্রীর
২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে এবার ককরোচ জনতা পার্টিকে সমর্থন করার ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। বিজেপিকে আক্রমণ করে মঙ্গলবার মমতা জানালেন, ‘দিল্লিতে দেখুন, ছাত্র-যুবদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। যে বেইমানি করবে তাঁকে সমর্থন করার দরকার নেই। দরকার হলে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে আমি নিজে যাব।’
ঋতব্রত শিবিরকে দলে নেওয়া হবে না : মমতা
মমতা বলেন, “সব চোরগুলো চলে গিয়েছে। বেঁচে গিয়েছি।” তার পরেই তিনি দাবি করেন, ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখানো হচ্ছে। এই সূত্রে তাঁর সংযোজন, “ভয় দেখিয়ে কিছু মানুষকে কিছু ক্ষণের জন্য চুপ রাখা যায়।” ঋতব্রত শিবিরকে ‘বিজেপির বি টিম’ বলে কটাক্ষ করে মমতার ভবিষ্যদ্বাণী, ওই টিমও দ্রুত ভেঙে যাবে। ঋতব্রত শিবিরের উদ্দেশে মমতার বার্তা, “ক্ষমা করুন, আপনাদের আর প্রয়োজন নেই। ধনে-মানে-প্রাণে ভাল থাকুন।” নতুনদের ‘সোনার খনি’ নিয়ে তিনি নতুন করে শুরু করবেন বলে জানান মমতা।
বাংলায় বিজেপির বিরুদ্ধে যাঁরা লড়াই করছেন, সেই দলগুলোকে বলব একসঙ্গে জোট বাঁধুন: মমতা
ঋতব্রত তৃণমূলকে কটাক্ষ নেত্রীর। মমতা বলেন, ‘বলছে আমাদের মিটিংয়ে নাকি গান-বাজনা হয়। আরে গান ছাড়া বিপ্লব-আন্দোলন হয়। নজরুল বলেছিলেন কারার ওই লৌহপাট…। তা স্বাধীনতা আন্দোলনে পথ দেখিয়েছিল। আমাদের দল থাকছে, থাকবে। কেউ বেইমানি করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমরাও ছিনিয়ে নেব। বাংলায় বিজেপির বিরুদ্ধে যাঁরা লড়াই করছেন, সেই দলগুলোকে বলব একসঙ্গে জোট বাঁধুন।’
‘বিজেপির থেকে জেলের ভাত ভাল’
আপনাদের আর প্রয়োজন নেই। ধনে-মানে-প্রাণে ভাল থাকুন। নতুনদের নিয়ে নতুন করে লড়াই হবে। কারও যদি গ্রেফতারও করা হয়, ভয় পাবেন না। কিছুদিন না হয় জেলে থাকবেন। বিজেপির ভাত খাওয়ার থেকে জেলের ভাত খাওয়া ভাল: মমতা
‘ওটা বিজেপির সাইনবোর্ড’
ভয় দেখিয়ে কিছু মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য চুপ রাখা যায়। আসল তৃণমূল আমরা। সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিলেই হয় না। ওটা বিজেপির সাইনবোর্ড। ওদিকে নেতারা গেছে, কর্মীরা আমাদের সঙ্গেই আছে: মমতা
‘ককরোচ’ পার্টিকে সমর্থন
বিজেপি ভাবছে প্রণামী বাক্সও তাঁদের সম্পত্তি। রাম মন্দির থেকে পানিহাটি – কী হচ্ছে। ওদিকে দিল্লিতে দেখুন, ছাত্র-যুবদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। যে বেইমানি করবে তাঁকে সমর্থন করার দরকার নেই। দরকার হলে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে আমি নিজে যাব: মমতা
‘মুখ খুললে ১০ বছরের সব কথা বলব’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বদলে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। আমি মুখ খুললে ১০ বছরের সব কথা বলে দেব। আপনি ১০ বছর তৃণমূলে থেকে কী করেছেন, মুখোশ খুলে দেব: পরোক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা মমতার
‘বিজেপি করছে ইনডোর, আমরা করছি আউটডোর’
আমি আজ ইনডোর-আউটডোরের কথা বলে যাচ্ছি। অনেক চক্রান্ত করেও রোখা যায়নি। আমরা আবার ১৯৯৭ সালে ফিরে যাব। আর যতক্ষণ আপনাদের না হারাব, থামব না। আমার কণ্ঠরোধ করে দিলেও ব্যাকআউট করব না, আপনাদের ব্ল্যাকআউট করব: মমতা
সিম্বল কাড়লে আমি ছাড়ব না: মমতা
ক্যাথিড্রাল রোডের সভায় মমতা বলেন,‘সিম্বল কাড়বেন। টাকা কাড়বেন। এই কর্মীদের টাকা দিয়ে আনতে হয়নি। প্রাণের টানে, হৃদয়ের টানে চলে এসেছে। আমি গদ্দারদের ছেড়ে কথা বলব না। ব্যাট বলের খেলা হবে। তুমি আমার সিম্বল কাড়লে আমি ছাড়ব না। যদি কাড়ে আমি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। তোমাদেরও সবটা কেড়ে নেব। মানুষ যেটা গ্রহণ করে হৃদয় থেকে সেটাই দলের প্রতীক হয়। জেলায় অনুমতি দিচ্ছে না। অনুমতি না পেলে রাস্তায় হাঁটব। ইতিমধ্যেই ২ মাসের মধ্যে কয়েক লক্ষ টাকা ইধার-উধার পগার পার।’
হকারদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উচ্ছেদ করা হলো: মমতা
মমতা বলেন,‘হকারদের জীবিকা কাড়ছে। হকারদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উচ্ছেদ করা হলো। মিড ডে মিলের কর্মীদের চাকরি গিয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মা লক্ষ্মীরা কেঁদে কেঁদে বেড়াচ্ছে। পয়লা এপ্রিল থেকে কেন সরকারি কর্মীরা ডিএ পেল না। আমি তো ক্লিয়ার করে দিয়ে এসেছিলাম। ছয় মাস কেটে গেল। তা হলে কী হলো! কী বুঝলেন, এ হলো মাছের তেলে মাছ ভাজা। বাংলাটা আজ লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে।’
আমি বারুইপুর যাব বলেছিলাম, আমাকে নজরবন্দি করে রেখেছিল: মমতা
মমতা বলেন,‘২২টা মেয়ে ধর্ষিতা হয়েছে। আমি বারুইপুর যাব বলে বাড়ির সামনে ১০০০টা পুলিশ দাঁড় করিয়ে আমাকে নজরবন্দি করে রেখেছিল। যে CRPF আজ জয় শ্রী রাম বলছে আগামী দিনে জয় বাংলা বলবে। আমি CID-কে এত অ্যাক্টিভ হতে দেখেনি। বলে বলে ফেডআপ হয়ে যেতাম কিছু করতাম না। আর এখন কর্মী-নেতাদের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার কেস করেছে। গিনেস বুকে নাম তোলার মতো।’
ভাবছে প্রণাম বক্সটা লুটও ওদের কাজ: মমতা
বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন,‘ভাবছে প্রণাম বক্সটা লুটও ওদের কাজ। অযোধ্যা থেকে বদ্রীনাথ সব মন্দিরের প্রণামী লুট করেছে। স্কুলে স্কুলে গেরুয়া রঙ করে দিচ্ছে।’
আমার সবসময়ে প্ল্যান এ, প্ল্যান বি থাকে: মমতা
ক্যাথিড্রাল রোডের সভায় মমতা বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে বেরনোর আগে ভেবেছিল আমাকে আটকাবে। কিন্তু আমার সবসময়ে প্ল্যান এ, প্ল্যান বি থাকে।’

বিজেপির পাশবালিশ না হয়ে সরাসরি বিজেপিতে যান: মমতা
ক্যাথিড্রাল রোডের সভায় মমতা বলেন, ‘বিজেপির পাশবালিশ না হয়ে যান বিজেপিতে যান। সাহস থাকলে সরাসরি বিজেপি করুন। আপনারা গেলে পার্টি ছাত্র-যুবরা সেই জায়গা নেবে। ২ মাস অপেক্ষা করতে পারল না সব ভোগীরা। ভালো হয়েছে সব চোরগুলো বিজেপিতে চলে গিয়েছে।’
তারগুলো কেটে দিয়েছে তার-কাটা বিজেপি পার্টি: মমতা
ক্যাথিড্রাল রোডের সভায় মমতা বলেন, ‘তারগুলো কেটে দিয়েছে তার-কাটা বিজেপি পার্টি। গতকাল রাত ১০টায় গুণ্ডা পাঠিয়ে ভাঙচুর করেছে। আবার রাত দুটোর সময়ে এসেছে সাউন্ডের কানেকশন কাটতে। বার বার এসে তার কাটতে কাটতে গিয়েছে। সারা রাত জেগে পাহারা দিয়ে সকাল সাতটায় বাড়ি গিয়েছি। হাইকোর্ট অর্ডার দেওয়া সত্ত্বেও আমাদের সারারাত জ্বালিয়েছে। কত ভয় দেখাবে। কোলাঘাটের গুন্ডা দমন নেতা নাম করব না, বাস আটকে মারধর করেছে। ১২টা বাস দাঁড় করিয়ে মেরেছে। আমি এখানে আসার আগে বিজেপি আমার বাড়ির বাইরে গন্ডগোল করেছে।’
শহিদ পরিবারের মানুষেরা এত প্রলোভন সত্ত্বেও আমাদের কাছে এসেছেন: মমতা

ক্যাথিড্রাল রোডের সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে কর্মীদের অভিনন্দন জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কাল সারারাত আমি, দোলা, উপাসনা, পাহারা দিয়েছি এই সভামঞ্চ। এত প্রলোভন, এত টাকার অফার পেয়েও তা গ্রহণ না করে শহিদ পরিবারের মানুষেরা এই মঞ্চে এসেছেন। তাঁদের আমি মাথা নত করে ধন্যবাদ জানাই।’
শহিদ দিবসের মঞ্চ কোনও রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চ নয়, অথচ এতদিন এ ভাবেই পালিত হয়েছে: ঋতব্রত
মেয়ো রোডের সভা থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাট-তৃণমূলকে নাম না করে খোঁচা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, ‘শহিদ দিবসের মঞ্চ কোনও রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চ নয়। অথচ এতদিন এ ভাবেই পালিত হয়েছে। নেতা-কর্মী নয়, মঞ্চে জায়গা পেতেন সিরিয়ালে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করা তারকা, সিনেমার কলাকুশলীরা। আর রাজনৈতিক নেতারা পিছোতে পিছোতে পিছনের সারিতে চলে গেলেন। যাঁরা জমায়েত করান। মিথ্যে মামলা হলে জমি বিক্রি করে নেতা-কর্মীদের মুক্ত করার জন্য মামলা লড়তেন তাঁরা ঠাঁই পেতেন না।’
কর্মীদের ভয় দেখিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, অভিযোগ ঋতব্রতর
মেয়ো রোডের সভা থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোiপাধ্যায়ের দাবি, বিভিন্ন এলাকা থেকে এই সভায় কর্মীদের আক্রমণ করা হয়েছে। বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গদ্দারি করে তৃণমূলকে আটকানো যাবে না: অভিষেক
ক্যাথিড্রাল রোডের সভা থেকে ঋতব্রত তৃণমূলকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, ‘বিজেপি সরকার ২১ জুলাই আটকাতে চেয়েছিল। সমাবেশ প্রমাণ করেছে কর্মীদের বিকল্প কেউ নেই। গদ্দারি করে তৃণমূলকে আটকানো যাবে না। নেত্রীকে আমি অনুরোধ করব, যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদের দয়া করে ফেরৎ আর আনবেন না।’

‘ফুটপাতে থাকব, লড়াই করে বিজেপিকে হারাব’
ফুটপাতে থাকব, লড়াই করে বিজেপিকে হারাব, দেখব ওরা কী করে। বিজেপির ক্ষমতা নেই এইভাবে কোনও সভা করার। কারণ ওদের কাছে পুলিশ, কেন্দ্রীয় সরকার, ক্ষমতা সব আছে, কিন্তু মানুষ নেই। বাংলার মানুষ জানে বিজেপি কীভাবে ক্ষমতায় এসেছে। তাই আলাদা করে কিছু বলার নেই: অভিষেক ।
নেত্রীকে বিশেষ অনুরোধ অভিষেকের
প্রতিকূলতার মধ্যে প্রলোভনকে উপেক্ষা করে যাঁরা লড়াই করছে তাঁদের কুর্ণিশ। আজ যে কর্মী-সমর্থকরা এসেছেন তাঁরাই আসল। শুধু নেত্রীকে একটাই অনুরোধ, যাঁরা গেছে, সেইসব গদ্দারদের যেন আর দলে না নেওয়া হয়: অভিষেক
কল্যাণের একযোগে চ্যালেঞ্জ ঋতব্রত, অরূপ, সায়নী, রচনাকে
তারামণ্ডলে ২১-এর মঞ্চ থেকে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি চ্যালেঞ্জ করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, সায়নী ঘোষ এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। কল্যাণের কথায়, তিনি উলুবেড়িয়া যাবেন, ক্ষমতা থাকলে তাঁকে আটকে দেখাক ঋতরা।

‘মমতার রক্তে তৈরি দল, বালিশচাটাদের দিয়ে নয়’
শোভনদেবের আরও বক্তব্য, “বুকের মধ্যে মমতা আছে, মমতার রক্তে তৈরি হয়েছে দল, বালিশচাটাদের দিয়ে নয়। হাসপাতাল বলে দিয়েছিল মমতাকে বাঁচানো যাবে না।”
তাঁর অভিযোগ, বহু জায়গায় তৃণমূল সমর্থকদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, মারধর করা হয়েছে এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসবের পরেও মানুষের অংশগ্রহণ আটকানো যায়নি বলেই দাবি করেন শোভনদেব।
