শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে পারেন নীতীশ কুমার! বিহারে শোরগোল

0
103

গত বছরের ২০ নভেম্বর পাটনার গান্ধী ময়দানে দশমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নীতীশ কুমার । তার পরে চার মাসও কাটেনি। এর মধ্যেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা  দিতে চলেছেন বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে গোটা বিহারে । ওয়াকিবহাল মহল সূত্রে খবর, নীতীশকে রাজ্যসভার প্রার্থী করতে চলেছে BJP। তাঁকে কাগজপত্র প্রস্তুত করতেও বলা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী কাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দেবেন তিনি।

শেষ মুহূর্তে কোনও অঘটন না ঘটলে ‘বিশ সাল বাদ’ মুখ্যমন্ত্রী বদল হতে পারে বিহারে। জোর জল্পনা, খুব শিগগিরই রাজ্যসভায়  মনোনয়ন দাখিল করতে পারেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার । অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অবশেষে সরে দাঁড়াবেন নীতিশ এবং তার মাধ্যমেই বিহারে প্রথমবারের জন্য বিজেপির (BJP) মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার রাস্তা খুলে যেতে পারে।

সূত্রের খবর, আগামীকালই নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় মনোনয়ন জমা দিতে পারেন। সেই পরিস্থিতিতে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে। ইতিমধ্যেই এই সম্ভাবনা ঘিরে পাটনা থেকে দিল্লি—রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এতদিন পর্যন্ত পাটনার প্রশাসনিক ক্ষমতা ছাড়তে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না নীতীশ। বিজেপির তরফে বারবার চাপ থাকলেও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে থেকেই রাজ্য রাজনীতি সামলাতে চেয়েছেন। কিন্তু চলতি মাসের ১ মার্চ ৭৫ বছরে পা দিয়েছেন নীতীশ কুমার। তার পরেই বিজেপির একাংশ দাবি তুলেছেন, এখন তাঁর জন্য জাতীয় রাজনীতিতে যাওয়ার সময় এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে যদি নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় যান, তাহলে বিহারের রাজনীতিতে বড় রদবদল ঘটতে পারে। কারণ, সেক্ষেত্রে জেডিইউ-বিজেপি জোট সরকারের নেতৃত্বে প্রথমবার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বসানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, খুব শিগগিরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। সেই ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিহারে এই পালাবদল ভবিতব্যই ছিল। গত প্রায় দু’দশক ধরে বিজেপির কাঁধের উপর ভর করেই বিহারে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নীতীশ। অথচ ভোট ফলাফল বলছে, ২০২০ এবং ২০২৫ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি নীতীশের দল সংযুক্ত জনতার তুলনায় বেশি আসনে জিতেছে। বিজেপির নিচের তলার কর্মী সমর্থকদের প্রত্যাশাও তাই বেড়েছে। এবার তাঁরা ক্ষমতায় নিজেদের মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চান। তা ছাড়া নীতীশের কুমারের শরীর ইদানিং ভাল যাচ্ছে না। রাজ্যে এক জন গতিশীল মুখ্যমন্ত্রীও প্রয়োজন। সম্ভবত এই চিত্রনাট্য ভোটের ফল প্রকাশের আগেই লিখে ফেলেছিলেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা। এখন তারই বাস্তবায়ন হতে চলেছে।

নীতীশের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, রাজ্যসভা নির্বাচনে জিতলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। এ ছাড়া উপায়ও নেই। তবে নীতীশকে আচমকা দিল্লিতে সরিয়ে আনা বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, উঠছে সেই প্রশ্নও। শোনা যাচ্ছে, নীতীশের ছেলে নিশান্ত কুমার (Nishant Kumar) সক্রিয় রাজনীতিতে আসার তোড়জোড় করছেন। তাঁকে ‘বড় দায়িত্ব’ দেওয়া হতে পারে বলেও খবর। তবে সেটা একেবারে মুখ্যমন্ত্রীর পদ কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

তবে নীতীশ দিল্লি পাড়ি দিলে নিশান্তকে সামনে রেখে JDU-এর সেই শক্তি থাকবে না বলেই ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের খবর। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি তুলতে পারে BJP। পদ্মশিবিরের সম্রাট চৌধুরী এখন উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে নিয়ে আসার সম্ভাবনা প্রবল। সেক্ষেত্রে নিশান্ত হবেন তাঁর ডেপুটি। বিহার বিধানসভায় NDA-এর সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২০২টি আসন) রয়েছে। ফলে সরকার বদলের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে নীতীশের অনুপস্থিতিতে দলের রাশ কার হাতে যায়, ভোটব্যাঙ্কে কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার।

Previous articleনবদ্বীপে গৌড়ীয় মঠে মহা ধুমধামে পালিত শ্রীচৈতন্যের আবির্ভাব মহোৎসব
Next articleSIR তালিকায় বাদ প্রচুর মতুয়া! বড়মার তিরোধান দিবসে আবেগঘন বার্তা মমতার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here