ভোট পরবর্তী হিংসা থেকে তোলাবাজি, বনগাঁ থেকে বারাসত  গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূলের কোন নেতা-কাউন্সিলাররা?

0
4

চলছে একের পর এক ধরপাকড়। কখনও তোলাবাজি, কখনও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছেন একের পর এক তৃণমূল নেতা।

রাজ্যে পালাবদলের পরেই দুর্নীতি সংক্রান্ত পুরোনো ফাইল খোলা হচ্ছে। তুলে আনা হচ্ছে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলাও। চলছে একের পর এক ধরপাকড়। কখনও তোলাবাজি, কখনও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে
হচ্ছেন একের পর এক তৃণমূল নেতা।

ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় নাম জড়িয়েছিল  বনগাঁর ১২-র পল্লী এলাকার তৃণমূল নেতা অসীম দাসের ।বুধবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ ।

বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া এবার রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী হয়েছেন।খাদ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই তিনি দুষ্কৃতি মুক্ত বনগাঁ গড়ার ডাক দিয়েছেন। খাদ্য মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান,বনগাঁয় নতুন করে কোন গুণ্ডাকে মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই এদিন একাধিক দুষ্কৃতি মূলক কাজের অভিযোগে তৃণমূল নেতা অসীম দাস – কে গ্রেপ্তার করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ। ধৃত অসীমের বাড়ি বনগাঁর কোড়ার বাগান ১২রপল্লী এলাকায়। তিনি বনগাঁর তৃনমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি নারায়ণ ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ  ছিলেন বলে জানা গেছে পুলিশ সূত্রে । তৃণমূলের শাসন কালে বনগাঁ সহ একাধিক জায়গায় একাধিক অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ ছিল শ্রমিক নেতা ঘনিষ্ঠ অসীম দাসের বিরুদ্ধে। তৃনমূল শ্রমিক নেতার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতেন বলে অভিযোগ । কিন্তু তৃণমূলের জমানায় কেউ অসীমের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চান নি। পুলিশও তাঁকে গ্রেপ্তার করে নি সেই সময় । রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে বনগাঁর চার কেন্দ্রেই গেরুয়া ঝড় উঠেছে। এবার বনগাঁ থানার পুলিশ তৎপর হয়ে তৃণমূলের শ্রমিক নেতা ঘনিষ্ঠ অসীম দাস – কে গ্রেপ্তার করেছে ।

বনগাঁ থানার পুলিশ জানিয়েছে,ধৃতকে জেরা করে দুষ্কৃতিমূলক কাজের সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিল,ওই অপরাধমূলক ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা সেই সংক্রান্ত আরও কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে,ধৃতকে জেরা করে ২০২১ এর ভোট পরবর্তী হিংসায় আর কেউ যুক্ত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বারাসতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলার অরুণ ভৌমিককেও এ দিন  ধরতে হানা দেয় বারাসত থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। শেষে বারাসত থেকেই আটক করা হয় অরুণকে।

দত্তপুকুর ২ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মান্তু সাহার নামও জড়িয়েছিল ভোট পরবর্তী হিংসায়। তার সঙ্গে মারপিট, শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছিল। এ দিন তাঁকেও গ্রেপ্তার করে বারাসত আদালতে তোলে পুলিশ। ধৃতকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জেরা করে ২০২১ এর ভোট পরবর্তী হিংসায় আর কেউ যুক্ত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ দিন ধরেই করুণাময়ী বাস স্ট্যান্ড থেকে তোলা নেওয়ার অভিযোগ ছিল ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দার। করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ডের ইউনিয়নগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারকে এ দিন গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানদারদের কাছ থেকেও প্রতিদিন তোলা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

পাশাপাশি গঙ্গারামপুর কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে তৃণমূল কর্মী সুমন সাহাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারও হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রতিটি ঘটনাতেই তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভোট পরবর্তী হিংসা, তোলাবাজি-র ঘটনায় ধৃতদের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অবৈধ ভাবে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রাখার ঘটনায় ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার।

Previous article‘অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে’, বাংলাদেশ সীমান্ত ও CAA নিয়ে নবান্নে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here