

ছাব্বিশের ভোটের আগে অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই প্রচারের সুর বেঁধেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা। কোনও রাখঢাক না রেখে সরাসরি বলেছিলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করব।’ পালাবদলের পরে সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালনের কাজ শুরু করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। সেই লক্ষ্যেই অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ আইন চালুর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন সভাঘর থেকে তিনি সরাসরি বলে দিলেন, ‘যাঁরা সিএএ-র অন্তুর্ভুক্ত নন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে।’

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য এ দিন বিএসএফের হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে ২২০০ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে কাঁটাতার রয়েছে ১৬০০ কিলোমিটার এলাকায়। ৬০০ কিলোমিটার এখনও বাকি। এই নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘৫৫৫ কিলোমিটার এলাকায় চাইলেই জমি দিতে পারত। কিন্তু তোষণের জন্য দেয়নি।’

রাজ্য পুলিশের ভূমিকা এবং সিএএ-র সুরক্ষাকবচ নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ পর্যন্ত থাকবে ছাড়। সিএএ-র নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে যারা ভারতে এসেছেন, তাদের কোথাও কোনোভাবেই কোনও হ্যারাসমেন্ট বা হেনস্থা করা হবে না।

যারা ওই নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর (অর্থাৎ ২০২৫ বা তার পরে) অবৈধভাবে ভারতে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ সরাসরি আইনি পদক্ষেপ করবে। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে, যাতে বিএসএফ বাংলাদেশের বর্ডার গার্ডস (বিজিবি/বিডিআর)-এর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তাদের নিজেদের দেশে ডিপোর্ট (বহিষ্কার) করতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নবান্নের এই বৈঠক থেকে একদিকে যেমন বিএসএফ-কে জমি দিয়ে সীমান্ত কাঁটাতারের জট কাটানো হলো, তেমনই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্য পুলিশ ও বিএসএফ-কে একযোগে কাজ করার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের এক নতুন রূপরেখা তৈরি করে দিল এই সরকার।




