প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News
অনুপ্রবেশকারী ও অবৈধ নাগরিক চিহ্নিত করে দেশের বাইরে বের করে দেওয়া হবে, জনগণনার শুরুর দিনে বললেন খাদ্যমন্ত্রী ‘হিংসারিপু দমন করুন’,ইসকনের মিড-ডে মিল কর্মসূচির সূচনা করে বিরোধীদের হিংসা দমনের উপদেশ মুখ্যমন্ত্রীর এক সপ্তাহের মধ্যেই বনগাঁর যশোহর রোডের দু’পাশে ‘মৃত এবং বিপজ্জনক’গাছ কাটার কাজ শুরু হবে: জানালেন খাদ্যমন্ত্রী: দেখুন ভিডিও দফায় দফায় বৃষ্টি চলছে কলকাতা- সহ দক্ষিণবঙ্গের একাংশে, জানুন আবহাওয়ার আপডেট বনগাঁয় শিরিস গাছের ডাল ভেঙে প্রাণ হারান যুবকের পরিবারকে  ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য খাদ্যমন্ত্রীর ,কথা দিলেন ৭ দিনের মধ্যে যশোর রোডের মৃত গাছের ডাল কাটার কাজ শুরু হবে:দেখুন ভিডিও

‘বালু আমার ফেভারিট , ভুয়ো কেসে গ্রেপ্তার করেছিল ,ওযা ভাল কাজ করেছে , আর কেউ করেনি’, প্রিয়পাত্র জ্যোতিপ্রিয়কে দরাজ সার্টিফিকেট মমতার

deshersamay

Share article:

শুভাশিস রায়, হাবড়া : জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু তাঁর ‘ফেভারিট ক্যান্ডিডেট’। তাঁকে বিধানসভা ভোটে জেতাতে পারলে সব উজাড় করে দেবে তাঁর সরকার! হাবড়ায় ভোটপ্রচারে গিয়ে এই প্রতিশ্রুতিই দিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এ-ও বক্তব্য, রেশন দুর্নীতি মামলায় মিথ্যা অভিযোগ করে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বালুকে ফাঁসানো হয়েছিল। ভুয়ো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাঁকে।

হাবড়ায় ছবিগুলিতুলেছেন শুভাশিস রায় ।

মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় দলীয় প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সমর্থনে ময়দানে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ সময় জেল এবং মন্ত্রিত্ব খোয়ানোর পর, ২০২৬ -এর বিধানসভা নির্বাচনে বালুকেই ফের বাজি ধরেছে শাসকদল। আর এ দিন সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা ‘আস্থা’র কথা জনসমক্ষে কবুল করলেন নেত্রী নিজেই।

জ্যোতিপ্রিয়র প্রশাসনিক দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে মমতা এ দিন সাফ জানান, তাঁর সরকারের আমলে রেশন ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তার কারিগর বালুই। নেত্রীর কথায়, “জেনে রাখুন, আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভাল কাজ করেছে, তা আর কেউ করতে পারেনি।” ডিজিটাল রেশন কার্ড চালু থেকে শুরু করে পাচার রোখা— খাদ্য দফতরের ভোলবদল যে বালুর হাত ধরেই সম্ভব হয়েছে, তা বারবার মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর দাবি, এই সাফল্যকে ‘হিংসে’ করেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি তাঁকে গ্রেফতার করেছে, যার নেপথ্যে কোনও প্রমাণ নেই।

রেশন দুর্নীতির অভিযোগকে খণ্ডন করে মমতা সরাসরি আঙুল তুলেছেন বাম জমানার দিকে। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম আমলের প্রায় দেড় লক্ষ ‘ফল্‌স’ রেশন কার্ডের কারচুপি ধরে ফেলেছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। সেই আক্রোশ থেকেই তাঁকে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন নেত্রী। এ দিন সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন ছিল, এই ‘অপমান’ ও ‘কুৎসার’ বদলা ইভিএম-এ নেওয়া হবে কি না।

বরাবরের মতো এ দিনও বাম-কংগ্রেস-বিজেপিকে একই লাইনে রেখে আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ হল, “কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম— তিনটেই সেম সেম।” অর্থাৎ, রাজ্যে বিরোধী পক্ষগুলি যে তলে তলে একজোট হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, সেই বার্তাই তিনি হাবড়া ও অশোকনগরের ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন।

বস্তুত, বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বারাসত সাংগঠনিক জেলার কোর কমিটি গঠন করেছিল তৃণমূল। সেই কোর কমিটির আহ্বায়ক করা হয় রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে হাবড়ার বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে বেছে নেওয়া হয়। রাজ্য রাজনীতিতে যাঁর পরিচিতি বালু নামে।

রেশন দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর ইডির হাতে গ্রেফতার হন জ্যোতিপ্রিয়। এক বছর দু’মাস জেলে থাকার পর গত বছর ১৫ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পান তিনি। জেলযাত্রার কারণে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র হাবড়ায় পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে নিয়মিত যোগদান করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

এদিন সভার শুরুতেই বালুর হয়ে ভোটপ্রার্থনা করেন মমতা। তারপর তৃণমূল নেত্রী বলেন, যত কুৎসা-বদনাম করা হোক না কেন, বালুই তাঁর প্রিয় প্রার্থী এবং পুরনো দিনের সঙ্গী।

এ প্রসঙ্গে সিপিএমকেও বিঁধেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘ওই পচা সিপিএম পার্টির দেড় লক্ষ নাম রেশন কার্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সেগুলো ফল্‌স নামে রেশন দিত। এই চুরি ধরেছিল বালু। তাই ভুয়ো কেসে ফাঁসিয়েছে। ডিজিটাল রেশন কার্ডও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক করেছিল। এই কাজটা এত সোজা ছিল না। পাচার হত আগে রেশনের মাল। প্রত্যেকটা গাড়ি দেখা, সব বালু করেছিল। সেই ছেলেটাকে ফাঁসানো হয়েছিল।’ মমতার সংযোজন, ‘কারও কথা শুনে, কুৎসা-অপপ্রচার শুনে ভোট দেবেন না। উত্তর ২৪ পরগনার মানুষকে জিজ্ঞাসা করি, এসআইআরের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তো? এই অপমানের বদলা নেবেন কি নেবেন না? আগে যারা সিপিএম করত, এখন তারা বিজেপি করে। কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, তিনটেই সেম সেম।’

Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন