Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব

বাংলার ভোটে ‘অসম মডেল’ আশঙ্কা মুখ্যমন্ত্রীর

deshersamay

Share article:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনায় বারাসাতে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, অসম নির্বাচনে জয়ের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে বিজেপি এখন ভিন রাজ্য থেকে লোক নিয়ে আসছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ট্রেনে করে প্রায় ৫০ হাজার বহিরাগতকে অসমে নিয়ে আসা হয়েছে এবং একই কৌশল তারা বাংলাতেও প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে।

বারাসাত, মধ্যমগ্রাম ও দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত রথীন ঘোষ ও আনিসুর রহমান এর সমর্থনে বারাসাত কাছারি ময়দানে জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছবি শুভাশিস রায় ।

কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বর্তমান বিজেপির শাসনে দেশের কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাই আর নিরপেক্ষ নেই, গেরুয়া শিবির সব সংস্থাকেই ‘কিনে নিয়েছে’। চড়া সুরে আক্রমণ চালিয়ে তিনি বলেন, “সাপকেও বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু বিজেপিকে নয়।” এনআরসি (NRC) প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, অসমে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যার মধ্যে ১৩ লক্ষ হিন্দু এবং ৬ লক্ষ মুসলিম। তাঁর মতে, বিজেপি বিভেদের রাজনীতি করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছে।

বাংলার ২৯৪টি আসনেই নিজেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করার জন্য ভোটারদের কাছে আর্জি জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিজেপি কেবল ভোটের স্বার্থে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়, যা কখনই বিশ্বাসযোগ্য নয়। দুই দফার নির্বাচনের আগে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এই বাগযুদ্ধ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল। সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার থেকে শুরু করে বহিরাগত তত্ত্ব একাধিক ইস্যুতে এদিন সুর চড়ান তৃণমূল নেত্রী।

বাইরে থেকে লোক ঢোকাচ্ছে বিজেপি। ভোটে অশান্তির জন্য আসছে টাকা, ড্রাগ ও আগ্নেয়াস্ত্র: বললেন মমতা

শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রের তেঁতুলিয়া হাই স্কুলের মাঠে জনসভা থেকে আবারও ভোটে ‘বহিরাগত’ সমস্যা নিয়ে সতর্ক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিন রাজ্যেও এ ভাবে ভোট করাচ্ছে বিজেপি। তাঁর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার অসমের ভোটে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে। সেই একই কায়দায় বাংলাতেও ভোটের দিন ভোট জালিয়াতি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা নেত্রীর।

এ দিন স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বীনা মণ্ডলের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন মমতা। সেখানেই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ করেন তিনি। তৃণমূল সুপ্রিমোর গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযোগ তুলে দাবি করেন, ‘অন্য রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে লোক ঢোকাচ্ছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার অসমে ভোট দেওয়ানোর জন্য উত্তরপ্রদেশ থেকে ট্রেনে চাপিয়ে ৫০ হাজার জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’ তাঁর কথায়, শুধু অসমের মানুষ যদি ভোট দিতেন তো বিজেপির জেতা সম্ভব ছিল না। কিন্তু বহিরাগতদের দিয়ে ভোটদান করিয়ে জেতার চেষ্টা করেছে বিজেপি। একই কায়দায় বাংলাতেও ভোটে জেতার ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি বলে আশঙ্কা তৃণমূল সুপ্রিমোর। সে বিষয়ে ভোটার থেকে কর্মী সকলকেই বাড়তি সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেন নেত্রী।

প্রসঙ্গত, স্বরূপনগরের সভা থেকে গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশে যখন তৃণমূল সুপ্রিমো আক্রমণ শানাচ্ছেন, তখন জেলার অন্যপ্রান্তে এক অভিজাত হোটেলের সভাঘর থেকে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে বিজেপির ১৫ দফা প্রতিশ্রুতির কথা বাংলাকে শোনাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

SIR-এ নাম কাটা প্রসঙ্গেও তোপ দাগেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল যাঁরা বাতিল হয়েছেন তাদের নথি পত্র দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। ট্রাইব্যুনাল এখনও কাজই শুরু করেনি এর মধ্যেই চৈত্র মাসের সেল হয়ে গিয়েছে। একটি সংবাদপত্রে দেখলাম, যে ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে, তার মধ্যে নাকি ৬০ লক্ষই হিন্দু, আর ৩০ লক্ষ মুসলমান।’ তবে বিষয়টি এখনও তৃণমূলের তরফে খতিয়ে দেখা হয়নি। এই বিষয়ে ব্লক স্তরে সমীক্ষার পর জানানো হবে বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর কথায়, বিজেপি ‘দু-মুখো সাপ’, ‘জল্লাদ’। তাদের হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতে তিনি যতদূর লড়াই চালিয়ে যেতে হয় চালাবেন।

ধর্ম নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বসিরহাটের সভা থেকে তিনি বলেন, ‘বাংলায় কথা বললে দিল্লিতে হোটেল দেন না। এ দিকে দিল্লিতে কালী বাড়ি ভাঙলে কোথায় থাকে আপনার ধর্ম? কাশী বিশ্বনাথ মন্দির তৈরি করতে গিয়ে যখন বাকি মন্দির ভেঙে দেন তখন কোথায় থাকে আপনার ধর্ম? কিন্তু আমরা কারও কিছু (ধর্মস্থান) ভাঙি না, বরং গড়ে দিই।’

কাউন্টিংয়েও স্লো কাউন্টিং করে দলের এজেন্টদের মন ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর অনুমান, গণনার দিন ইচ্ছে করে বিজেপির এগিয়ে থাকা এলাকার ভোট আগে কাউন্ট করে মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু এজেন্টরা যাতে মাঝপথ থেকে আশাহত হয়ে ফিরে না আসেন, সেই নিয়ে কড়া নির্দেশ দেন নেত্রী। তিনি বলেন, ‘কাউন্টিংয়ের রেজ়াল্ট নিয়ে তবে বেরোবেন এজেন্টরা। তার আগে বেরোবেন না।’ ২৬-এর অগস্টের পরে দিল্লির সরকারকে টার্গেট করবে বাংলা বলে হুঁশিয়ারি দেন মমতা। তৃণমূল ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বিজেপিকে ‘গণতন্ত্রের থাপ্পড়’ দেওয়ার আর্জি জানান আমজনতার কাছে।

Tags: News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.